|

ইরফান পাঠান

২৭ অক্টোবর, ১৯৮৪ তারিখে গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদা ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, ক্যান্ডি তুস্কার্স, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পরপরই তাঁর মাঝে অপরিসীম সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় ক্রিকেটে ঝড় তুলেন। কপিল দেবের পর ভারতীয় দলে যদি কোন প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডারের প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায় তাহলে তিনি হলেন কোঁকড়ানো চুলের অধিকারী ইরফান পাঠান। একই খেলায় শতক হাঁকানোর পাশাপাশি ১০ উইকেট লাভ করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের কয়েক বছরের মধ্যেই অল-রাউন্ডার হিসেবে কপিল দেবের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়। বামহাতে বলে সুইং আনয়ণসহ সিম বোলিং করতেন। এছাড়াও, শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতেন।

২০০৩ থেকে ২০১২ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ২৯ টেস্ট, ১২০টি ওডিআই ও ২৪টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৯ বছর বয়সে ১২ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/১৩৬ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা রাহুল দ্রাবিড়ের অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ৪ উইকেটে জয় পায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। একই সফরের ৯ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে মেলবোর্নে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

২০০৩-০৪ মৌসুমে পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের ওডিআই সিরিজ বিজয়ে বিরাট ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। দুই বছর পর জানুয়ারি, ২০০৬ সালে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে করাচী টেস্টের প্রথম ওভারেই হ্যাট্রিক করেছেন। লেট-সুইঙ্গারে ওভারের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে সালমান বাট, ইউনুস খানমোহাম্মদ ইউসুফকে উপর্যুপরী বিদেয় করেন। ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সিরিজের পূর্বের টেস্টে এমএস ধোনি’র সাথে ২১০ রানের জুটি গড়ে ভারতকে ফলো-অনের কবল থেকে টেনে আনেন। এর এক বছর পর একই দলের বিপক্ষে শতরানের ইনিংস খেলেছেন।

২০০৫-০৬ মৌসুমে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। পুরো সিরিজে অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫/৫৮ ও ৪/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫২ রান তুলেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৯০ রানে জয়লাভ করে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ভারত দল ১০ উইকেটে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। ৭/৫৯ ও ৫/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ গড়েন। এছাড়াও, একমাত্র ইনিংসে ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভসহ ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

২০০৫-০৬ মৌসুমে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ১৩ জানুয়ারি, ২০০৬ তারিখে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১/১৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁর ব্যাটিংয়ের সুযোগ হয়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

অস্ট্রেলিয়ায় পার্থ টেস্টে ভারতের অবিস্মরণীয় জয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরের চূড়ান্ত খেলায় দারুণ খেলেছেন।

তাসত্ত্বেও, মাত্র ২৫ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাঁকে বিদেয় নিতে হয়েছেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক তালিকায়ও তাঁকে রাখা হয়নি। তবে, ভারতের শীর্ষ অল-রাউন্ডারের তালিকায় নিয়ে যেতে পেরেছেন।

২০০৭-০৮ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩ এপ্রিল, ২০০৮ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২১* ও ৪৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ৯০ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলোয় ৩১.৫৭ গড়ে এক শতক সহযোগে ১১০৫ রান তুলেছেন। ব্যক্তিগত সেরা ৭/৫৯ লাভসহ খেলায় ১২৬ রান খরচায় ১২ উইকেট দখল করেছেন। এ পর্যায়ে ২৯ টেস্টে নিজস্ব শততম টেস্ট উইকেটের সন্ধান পান। দশজন ভারতীয় ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে টেস্টে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভ করেন। সাতবার পাঁচ-উইকেট ও দুইবার দশ উইকেট পেয়েছেন।

২০০৪ সালে আইসিসি বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন। ৩১ অক্টোবর, ২০২০ তারিখে এলপিএলে অংশ নিতে ক্যান্ডি তুস্কার্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। ৪ মার্চ, ২০২১ তারিখে রাইপুরে রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজে বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ইউসুফ পাঠানকে নিয়ে অংশ নেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। সাফা বেগ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

Similar Posts

  • |

    দত্তারাম হিন্দেলকর

    ১ জানুয়ারি, ১৯০৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনে তাঁর ভূমিকা উপমাস্বরূপ ছিল। তবে, ব্যাট হাতে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। কিন্তু, উইকেট পতনরোধে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার যোগ্যতা তাঁর মাঝে বিরাজমান ছিল। ১৯৩৪-৩৫…

  • | | |

    স্যামি উডস

    ১৩  এপ্রিল, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যাশফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৩ সালে ১৪ বছর বয়সে শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। শিক্ষা গ্রহণের পর আর তিনি দেশে ফিরে যাননি।…

  • | | | |

    ওয়াকার ইউনুস

    ১৬ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে পাঞ্জাবের বিহারী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায়শঃই তাঁকে ‘সুইংয়ের সুলতান’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তরুণ বয়সে অন্যতম সেরা দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন। তিনি তাঁর সময়কালের অন্যতম…

  • |

    মোহাম্মদ রমজান

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৭০ তারিখে পাঞ্জাবের লায়লপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ২০০৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান…

  • |

    অ্যালেন লিসেট

    ৬ নভেম্বর, ১৯১৯ তারিখে ওয়াইকাতোর মরিন্সভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন আর.এন.জেড.এ.এফে যুক্ত ছিলেন। হ্যামিল্টনে সপ্তম এয়ার ট্রেনিং কোর স্কোয়াড্রন গঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এম.বি.ই. পদবীতে ভূষিত হন। ১৯৫৪-৫৫…

  • |

    শার্ল উইলোবি

    ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ওয়েনবার্গ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন শেষে স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। সেন্ট জেমস প্লেস ওয়েলথ ম্যানেজম্যান্ট একাডেমি থেকে স্নাতক লাভ করেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে…