৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারত ও ঘরোয়া রঞ্জী ট্রফিতে মুম্বই দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের অপ্রত্যাশিত উত্থান ও পতনের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। এক দশকব্যাপী সময়ে দলে তাঁর নিত্য অন্তর্ভুক্তি ও বাদ পড়ার বিষয়টি ছিল নিত্য অনুসঙ্গ। প্রধানতঃ ওডিআইয়েই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এক পর্যায়ে তাঁকে বিখ্যাত ক্রিকেটার কপিল দেবের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়েছিল। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন, খাটো আকৃতির গড়ন নিয়ে আগ্রাসী ভূমিকায় পেস বোলিং করতেন।
বেশ রান খরচ করলেও অধিকাংশ ক্রিকেট সমালোচকদের মন জয় করেছিলেন। বেশীর ভাগ সময়ই চাতুর্য্যতাবিহীন অবস্থায় ওডিআই উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখিয়েছিলেন। বালাচন্দ্র আগরকর ও মীনা আগরকর দম্পতির সন্তান ছিলেন। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির (১.৭ মিটার) ছোটখাটো গড়নের অধিকারী হলেও স্বল্প দূরত্ব থেকে বোলিংকর্মে অগ্রসর হয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে পেস আনয়ণে সক্ষম ছিলেন। এছাড়াও, নতুন কিংবা পুরনো – উভয় ধরনের বলকে উভয় দিক থেকে রিভার্স সুইং করানোয় দক্ষতা দেখিয়েছেন।
এক সময় ভারতের ফাস্ট বোলিং অল-রাউন্ডার হিসেবে তাঁকে চিত্রিত করা হতো। নিয়মিতভাবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাননি ও পুরো খেলোয়াড়ী জীবনই উত্থান-পতনের মধ্যে ছিল। আগ্রাসী ভূমিকায় নিজেকে এগিয়ে রাখলেও সর্বদা এ মনোবৃত্তি সহায়তা করতো না। জন রাইট যখন তাঁকে অনুশীলনীতে প্রথম দেখেন তখন তিনি তাঁকে ভুলবশতঃ সম্মুখসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনায় এনেছিলেন। অনেক শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানের ন্যায় তিনিও সময়মতো বলকে ঠেকাতেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের কয়েক বছর পূর্বে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বই এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। রঞ্জী ট্রফিতে মুম্বই দলের ৪০তম শিরোপা বিজয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে সব মিলিয়ে ২৬ টেস্ট, ১৯১টি ওডিআই ও চারটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালে নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। ১ এপ্রিল, ১৯৯৮ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোচির নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় সিরিজে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম ওডিআই উইকেটের সন্ধান পান। তাৎক্ষণিক সফলতার স্বাক্ষর রেখে ঐ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। খেলায় চমৎকার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে পরবর্তী ৮টি ওডিআই থেকে ২২ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯৯৮ সালে শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলের ২২ বল থেকে ৩১ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নিখিল চোপড়াকে রহস্যজনকভাবে পাশ কাটিয়ে তাঁকে ব্যাটিংয়ে প্রেরণ করা হয়। তিন উইকেট হাতে রেখে ১২ বলে ২৬ রান তুলে পাঁচ বল বাকী থাকতেই দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন। ঐ দিনের শুরুতে অবশ্য তিনি বেশ খরুচে বোলারে পরিণত হন। অনেকগুলো বাউন্ডারি মারার সুযোগ দেন ও শেষদিকে দুই উইকেট দখল করেন। তবে, দিনশেষে বীর বনে যান। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারত দলের সদস্য ছিলেন। তবে, ছন্দহীনতার কারণে সবগুলো খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ৭ অক্টোবর, ১৯৯৮ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। রবিন সিংয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। হেনরি ওলোঙ্গা’র সুন্দর বোলিংশৈলীর কারণে স্বাগতিক দল ৬১ রানে জয় পায়। খেলায় তিনি ১/৪০ ও ১/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ তারিখে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৯ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪১* ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ০/১৫ করে বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়ক শচীন তেন্ডুলকরের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
তবে, দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে তেমন গুরুত্বতা পাননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের এক বছর পরই অস্ট্রেলিয়া সফরের সুযোগ পান। অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৯ রান তুলেন। এরপর থেকেই ক্রমাগত শূন্য রানের সাথে যুক্ত হতে থাকেন। দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য রানে বিদেয় নেন। পরবর্তীতে, মেলবোর্নে জোড়া শূন্য লাভের পর এসসিজিতে প্রথম ইনিংসে আরও একবার গোল্ডেন ডাক পান। পাঁচবার পাঁচ বলে বিদেয় নিতে হয় তাঁকে। দ্বিতীয় ইনিংসে কোনক্রমে প্রথম বল থেকে বাঁচলেও পরবর্তীতে বলেই তাঁকে চলে যেতে হয়। এ পর্বটি এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। এক বছর পর অস্ট্রেলিয়া দল ভারত সফরে আসলে মুম্বইয়ে আবারও জোড়া শূন্য রানের সন্ধান পান। এরফলে অস্ট্রেলীয়দের বিপক্ষে একাধারে সাতবার শূন্য রানের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন ও ‘বোম্বে ডাক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
এরপর ব্যাট হাতে নিয়ে প্রথমবারের মতো স্বরূপ ধারন করেন। ২০০০ সালে জিম্বাবুয়ীয়দের বিপক্ষে এক চোট দেখে নেন। ঋতিন্দার সোধি’র সাথে রাজকোটে ৩৯ বলে ৮৫ রানের জুটি গড়েন। তন্মধ্যে নিজে করেন ২৫ বলে ৬৭ রানের ঝড়ো ইনিংস। এ পর্যায়ে ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম অর্ধ-শতরানের নতুন রেকর্ড গড়েন। তজ্জন্যে তিনি মাত্র ২১ বল মোকাবেলা করেছিলেন। জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণ পুরোপুরি অকেজো করে ফেলে। বিশেষ করে অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের শেষ ওভারে বিশাল সাফল্য পান। ঐ দিন শেষে ৩/২৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।
পরের বছর অর্থাৎ ২০০২ সালে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুলাই, ২০০২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টের চতুর্থ দিন অপরাজিত ১০৯ রানের দারুণ শতক উপহার দেন। ১৯০ বল মোকাবেলান্তে ১৬টি চারের মারে এ সাফল্য পান। এটিই তাঁর একমাত্র শতক ছিল। এ শতরানের কল্যাণে সৌরভ গাঙ্গুলী’র পর লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। অর্ধ-শতকবিহীন অবস্থায় থেকে এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ছিল।
৫৬৮ রানের বিশাল জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় দলকে নিদেনপক্ষে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি ও তাঁর দল ১৭০ রানের ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে ব্যর্থ হয়। দলের সংগ্রহ ১৭০/৬ থাকা অবস্থায় সপ্তম উইকেটে ভিভিএস লক্ষ্মণের সাথে ১২৬ রান যুক্ত করেন। এরফলে, এ মাঠে ১৯৪৬ সালে আরএস মোদি ও এএইচ কারদারের মধ্যকার সংগৃহীত সপ্তম উইকেটে ৫৭ রানের জুটি ম্লান হয়ে যায়। ৩৩৪/৯ থাকা অবস্থায় আশীষ নেহরাকে (১৯) এক প্রান্তে দণ্ডায়মান রেখে খেলার পঞ্চম দিন শেষ উইকেটে ৬৩ রান যুক্ত করেন। এ পর্যায়ে এ মাঠে ১৯৪৬ সালে আরএস মোদি ও এসজি শিন্দের মধ্যকার দশম উইকেটে সংগৃহীত ৬৩ রানের জুটি ম্লান হয়ে যায়।
তবে, প্রথম ইনিংসে ২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। বল হাতে নিয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে তিন উইকেট দখল করেছিলেন। ২/৯৮ ও ১/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক নাসের হুসাইনের অসাধারণ শতকের (১৫৫) কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৭০ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
ঐ বছরের শেষদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওডিআই থেকে ৯৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন ও দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন।
পুরোপুরি তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারনা ছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটিমাত্র খেলায় সবটুকু ফুঁটে উঠেনি। টেস্টের তুলনায় ওডিআইয়ে বোলার হিসেবে অধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ও সফল হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে কেবলমাত্র ওডিআইয়েই তাঁকে রাখা হতো। ২০০৫-০৬ মৌসুমে সন্দেহাতীতভাবে ভারতের সর্বাপেক্ষা কার্যকর ওডিআই বোলারে পরিণত হয়েছিলেন। টেস্ট উইকেট লাভে তাঁকে বেশ রান খরচ করতে হয়। ৪৭ গড়ে উইকেট পান। অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে কখনো একই টেস্টে ব্যাট ও বল হাতে সমান দক্ষতা প্রদর্শন করতে দেখা যায়নি।
২০০৩-০৪ মৌসুমে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। বল হাতে নিয়ে প্রথম ইনিংসে সাদামাটা খেলা উপহার দেন। অস্ট্রেলিয়ার সংগৃহীত ৫৫৬ রানের মধ্যে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে, রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণের কল্যাণে সফরকারীরা ৫২৩ রান তুলে। নতুন বল নিয়ে তিনি জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। এ সিরিজে তাঁকে পাঁচবার বিদেয় করেছিলেন। রিকি পন্টিং কাট করতে গিয়ে পয়েন্ট অঞ্চলে শূন্য রানে আকাশ চোপড়া’র হাতে ধরা পড়েন। ১৯৬ রানে গুটিয়ে ফেলতে বিরাট ভূমিকা রাখেন। রাহুল দ্রাবিড় জয়সূচক রান সংগ্রহকালে উইকেটের অপর প্রান্তে অবস্থান করেন। এভাবে, দুই দশকের অধিক সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারত দল প্রথম জয়ের সন্ধান পায়। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৬/৪১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে টেস্টে তাঁর একমাত্র পাঁচ-উইকেট পান। একই সফরে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে ৬/৪২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। তবে, এ খেলায় তাঁর দল পরাজয়বরণ করেছিল।
পরের বছর পুনেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে মাত্র ১৬ বলে ঝড়োগতিতে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভারত দলকে আরও একবার জয় এনে দিয়েছিলেন।
এর পরের বছর ওডিআইয়ে খেলার সংখ্যার দিক দিয়ে দ্রুততম ১০০০ রান ও ২০০ উইকেটধারী হন। এ মাইলফলক স্পর্শে তাঁকে মাত্র ১৩১ খেলায় অংশ নিতে হয়েছিল। ২০০৭ সালে বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় ভারতের শিরোপা বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এরপর থেকেই তাঁর খেলার মান দূর্বলতর হতে থাকে। বিশেষতঃ ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারা ও ব্যয়বহুল বোলিং তজ্জ্বন্যে দায়ী ছিল। জহির খানকে সঙ্গ দিতে নতুন সিমারদের আগমন ঘটতে থাকলে ধীরে ধীরে পর্দার অন্তরালে চলে যান।
২০০৫-০৬ মৌসুমে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ১৩ জানুয়ারি, ২০০৬ তারিখে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২/১২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁর ব্যাটিংয়ের সুযোগ হয়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম টি২০আইয়ে অংশ নেন। এছাড়াও, আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৮ এপ্রিল, ২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।
২৩ ওডিআই থেকে তৎকালীন দ্রুততম ৫০ উইকেট লাভ করেছেন। পরবর্তীতে অবশ্য ২০০৯ সালে অজন্তা মেন্ডিস রেকর্ডটি নিজের করে নেন। অ্যাডিলেড ওভালে টেস্ট জয়, লর্ডসে শতক হাঁকানো ও ভারতীয় হিসেবে ওডিআইয়ে দ্রুততম অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলার কৃতিত্বের অধিকারী হন। পাশাপাশি, একাধারে শূন্য রানের অগৌরবজনক রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছেন।
মূলতঃ মিডিয়াম-পেসার হিসেবে খেলতেন। সব মিলিয়ে ওডিআইগুলো থেকে ২৮৮ উইকেট নিয়ে ভারতের তৃতীয় সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় রয়েছেন। কেবলমাত্র অনিল কুম্বলে ও জবাগল শ্রীনাথ তাঁর তুলনায় এগিয়েছিলেন। বোলিং গড়েও দারুণ ছিলেন। ২৭.৮৫ গড়ে ৫০ উইকেট লাভকারী ভারতীয়দের মধ্যে কেবলমাত্র কপিল দেবের গড় শ্রেয়তর অবস্থানে রয়েছে। ব্যাট হাতে ৮০ স্ট্রাইক রেটে রান পেয়েছেন। খেলার সংখ্যার দিক দিয়ে ২০০ উইকেট ও ১০০০ রানের ন্যায় দ্রুততম ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী। ক্ষীপ্রতার সাথে মাঠে অবস্থানের কারণে নিজেকে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকায় নিয়ে যেতেন। এক পর্যায়ে তাঁকে কপিল দেবের ছায়াসঙ্গী হিসেবে বিবেচিত করা হতো। তবে, ওভার প্রতি ৫-এর অধিক গড় ও ছন্দহীন ক্রীড়াশৈলীর কারণে ভারত দল থেকে তাঁকে বাদ পড়তে হয়।
বিশ্বকাপে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। ২০০৭ সালের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে ওডিআই দলে যুক্ত করা হয়। তবে, সিরিজ পরাজয়ের খেসারত গুণতে হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া আসরে দূর্দান্ত খেলা অব্যাহত রাখেন। দূর্দান্ত অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ২০০৮ সাল থেকে তিন বছর আইপিএলে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর, আরও তিন বছর দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে খেলেন।
রঞ্জী ট্রফিতে মুম্বই দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। জানুয়ারি, ২০১০ সালে মহীশূরে অনুষ্ঠিত রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় ৫/৮১ নিয়ে কর্ণাটককে গুটিয়ে দেন ও চতুর্থ দিন মধ্যাহ্নভোজনের পর দলের স্বল্প ব্যবধানের নাটকীয় ৬ রানের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে মুম্বই দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে আরও একবার রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। সেমি-ফাইনালে সার্ভিসেসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১৪৫ রান তুলেছিলেন। মুম্বই দল থেকে বাদ পড়ার পর নিজ রাজ্য দলে উভয় ধরনের খেলায় অংশ নেন। তবে, আর তাঁকে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি।
২০১৩ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। অবসর পরবর্তী সময়কালেও ক্রিকেটের সাথে সংযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ফাতিমা ঘাদিয়ালি নাম্নী রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির রাজ অজিত আগরকর নামীয় পুত্রসন্তান রয়েছে।
