|

কাইল জার্ভিস

১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দীর্ঘদেহী ও পেশীবহুল শারীরিক গড়নের অধিকারী। শুরুতে এবড়ো-থেবড়ো পেস বোলিং করলেও পরবর্তীতে শীর্ষ প্রতিপক্ষীয়দের বিপক্ষে বেশ ধ্বংসাত্মক বোলিং উপহার দেন। জিম্বাবুয়ের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ম্যালকম জার্ভিসের সন্তান। জিম্বাবুয়ে দলের উত্থানে অন্যতম উদীয়মান দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারদের অন্যতম ছিলেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই তাঁকে সম্ভাব্য সেরা বোলার হিসেবে ধারনায় এনেছিলেন। কিন্তু, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতা পরবর্তীতে আর ধরে রাখতে পারেননি।

২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস, ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস ও মিড ওয়েস্ট রাইনোস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লিও লায়ন্স ও র‍্যাঞ্জার্সের পক্ষে খেলেছেন। ৭ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে কেউইকেউইয়ে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ীয় একাদশ বনাম কেনিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ১৩টি টেস্ট, ৪৯টি ওডিআই ও ২২টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৮ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের প্রধান বোলারের দায়িত্ব পালন করেছেন। বোলিং কোচ হিসেবে হিথ স্ট্রিকের মনোনয়ন লাভের পর সম্মুখসারির খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলে যুক্ত হন। ১২ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। নিজ দেশে কেনিয়ার বিপক্ষে অগ্নিময় বোলিং করেছিলেন। এরপর, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অংশ নেন। এক পর্যায়ে ১৪৫ কিলোমিটার গতিবেগে বল ছুঁড়েছিলেন। তবে, বলে নিয়ন্ত্রণের অভাব লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি বেশ রান খরচ করে ফেললেও উইকেট লাভ করতে পারতেন। নভেম্বর, ২০০৯ সালে সেঞ্চুরিয়নে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০ ওভারে ৭৬ রান খরচ করেছিলেন।

অক্টোবর, ২০০৯ সালে আন্তঃমহাদেশীয় কাপে কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ও ৩/৩৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। লোগান কাপে নিজস্ব প্রথম খেলায় ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের সদস্যরূপে ৬/৬০ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন। ২০০৯-১০ মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য হন। তবে, পিঠের নিচেরদিকে হাড়ে ফাঁটল ধরায় নাম প্রত্যাহার করে নেন।

বিভিন্ন ক্রীড়ায় দক্ষ ছিলেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে রাগবিতে অংশ নিয়েছেন। স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে জিম্বাবুয়ের প্রত্যাবর্তনকালে তিনিও দলে ফিরে আসেন। প্রায় ছয় বছর টেস্ট খেলা থেকে দূরে থাকার পর জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য হন। ২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের মুখোমুখি হন। ৪ আগস্ট, ২০১১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে ব্রায়ান ভিটোরি, ক্রেগ আরভিন ও টিনো ময়োয়ু’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে দলনায়ক ব্রেন্ডন টেলরের ব্যাটিংয়ের কল্যাণে তাঁর দল ১৩০ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। খেলায় তিনি অপরাজিত চার রান সংগ্রহ করলেও ১/৬৭ ও ৪/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়ে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন।

২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ডিজি ব্রাউনলিকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ৪/৬১। এ পর্যায়ে প্রথমবারের মতো টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ১/৯৮ ও ৫/৬৪ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ ও ২* রান সংগ্রহ করেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ৩৪ রানে পরাজয়বরণ করে।

টেস্ট ও ওডিআইয়ে ব্যাটসম্যানদের উপর ছড়ি ঘোরান। পরবর্তী দুই বছরেও সুইং সহযোগে চমৎকার পেস বোলিংয়ের ধারা অব্যাহত রাখেন। প্রত্যাশা অনুযায়ী সফলতম আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের স্বপ্নে বিভোঁর থাকার কথা থাকলেও দুই বছর পর জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ত্যাগ করে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিতে থাকেন। আগস্ট, ২০১৩ সালে বোর্ডের সাথে বেতনের বিষয়ে মতানৈক্য থাকায় খেলোয়াড়দের সাথে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ধর্মঘট পালন করেন ও ইউনিয়ন গঠন করেন। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে বাধ্য হন।

ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের সাথে যুক্ত হন। প্রথম মৌসুমে তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। পরের মৌসুমে নিজেকে গুছিয়ে নেন। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ক্লাবের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় ৬২ উইকেট নিয়ে দলকে প্রথম বিভাগে উত্তরণ ঘটাতে প্রভূতঃ সহায়তার হাত প্রশস্ত করেন। ঐ বিভাগে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হিসেবে খেলতে থাকলেও মৌসুমের শেষদিকে হাত ভেঙ্গে ফেলেন। প্রথম বিভাগের খেলায়ও বেশ ভালো করেন। ২০১৬ সালে আরও একবার ল্যাঙ্কাশায়ারের শীর্ষ উইকেট শিকারী ছিলেন। কোচ অ্যাশলে জাইলসের কাছে মারাত্মক হিসেবে চিহ্নিত হন। সারের বিপক্ষে ছয় উইকেট দখল করে দলকে পয়েন্ট তালিকায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিয়ে যান।

২০১৭ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার ত্যাগ করে জিম্বাবুয়েতে ফিরে আসেন ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐতিহাসিক চার-দিনের টেস্টের মাধ্যমে দলে প্রত্যাবর্তন করেন।

২০১৯-২০ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সফরকারী দল ১০ উইকেটে জয়লাভ করে। উভয় ইনিংসে ১ রান করে বিদেয় নেন। এছাড়াও, ৮৪ রান খরচ করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • |

    রডনি রেডমন্ড

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৪ তারিখে নর্থল্যান্ডের হোয়াঙ্গারেই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন ও স্ট্রোকের ফুলঝুঁড়ি ছোটাতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহী ও আক্রমণাত্মক ধাঁচের অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে সামনের পায়ে ভর রেখে খেলতেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম…

  • | |

    সিড গ্রিগরি

    ১৪ এপ্রিল, ১৮৭০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মুর পার্কে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। জন্মসনদে তিনি এডওয়ার্ড সিডনি গ্রিগরি নামে পরিচিত ছিলেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। পিতা নেড গ্রিগরি ১৮৭৭ সালে এমসিজিতে অনুষ্ঠিত ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে…

  • | |

    ববি পিল

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৭ তারিখে ইয়র্কশায়ারের চারওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৮৮২ থেকে ১৮৯৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলের সেরা…

  • |

    জনি ওয়ারডল

    ৮ জানুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের আর্ডস্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স কিংবা লেফট-আর্ম রিস্ট স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    আলী হুসাইন রিজভী

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ও পাকিস্তান কাস্টমসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৭ সালে পাকিস্তানের…

  • | |

    ফ্রাঙ্ক ওরেল

    ১ আগস্ট, ১৯২৪ তারিখে বার্বাডোসের ব্যাংক হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও সাংবাদিক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা বামহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঝারিসারিতে তিনজন অসাধারণ ব্যাটসম্যানের অন্যতম ছিলেন। যেখানে ক্লাইড ওয়ালকট ও এভারটন উইকস শক্তিপ্রয়োগে খেলতেন;…