| |

ডিমুথ করুণারত্নে

২১ এপ্রিল, ১৯৮৮ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। খাঁটিমানসম্পন্ন শীর্ষসারির উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং করতে পারেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

দীর্ঘক্ষণ ও দূর্দান্ত ইনিংস খেলার কারণে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। বিখ্যাত ক্রিকেটারদ্বয় – কুমার সাঙ্গাকারামাহেলা জয়াবর্ধনে’র অবসর গ্রহণের পর শ্রীলঙ্কা দলের নতুন ব্যাটিং চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভুত হন। বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও চামিণ্ডা ভাসের ন্যায় বিখ্যাত ক্রিকেটারের সাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলম্বোভিত্তিক সেন্ট জোসেফস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। কলেজের খেলায় ১৩১ রান তুলে ১৯৩৪ সালের গড়া রেকর্ড নিজের করে নেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটেও নিজেকে মেলে ধরতে সোচ্চার ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটেও যুঁৎসই খেলা উপহার দিতে থাকেন।

৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা ক্রিকেট ডান্ডি, ডাম্বুলা ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৪ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে চিল’ ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব বনাম সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তবে, প্রথম মৌসুমে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। কিন্তু, ২০০৯ সালে ব্যাটিংয়ের অবস্থান পরিবর্তন ঘটিয়ে শীর্ষসারিতে চলে যান। কোল্ট ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। ৫৬.৫৪ গড়ে ১১৮৬ রান তুলে নিজের প্রতিভার কথা জানান দেন। ফলশ্রুতিতে, নিজ দেশে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার জন্যে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। সফলতার স্বাক্ষর রাখেন ও দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ইনিংসে ভার্নন ফিল্যান্ডারসমৃদ্ধ বোলারদের রুখে দিয়ে মনোমুগ্ধকর ১৮৪ রান তুলেন। এ ধরনের ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে, নিজস্ব দ্বিতীয় মৌসুমে অবশ্য এ সাফল্যের পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি। কিন্তু, বেশ ভালোমানের বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে বড় ধরনের রান সংগ্রহে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিলেন।

২০১১ সাল থেকে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১১ সালে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে শ্রীলঙ্কা দলের সদস্যরূপে মনোনয়ন পান। ৯ জুলাই, ২০১১ সালে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম ওডিআইয়ে অংশ নেন। মাত্র ৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। কিন্তু, এডিনবরায় নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৮২ বলে ৬০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

একই সালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে যুক্ত হন। তবে, এ সফরের কোনটিতেই খেলার সুযোগ পাননি। পরবর্তী কয়েকটি সিরিজেও একই ধারা প্রবাহিত হয়। জুলাই, ২০১২ সালে ‘এ’ দলের সাথে আবারও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ঐ সফরে ৮৩ ও ১৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। অতঃপর শীর্ষস্থানীয় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তিলকরত্নে দিলশানের আঘাতের কারণে ২০১২ সালের শেষদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্যে প্রথম একাদশে ঠাঁই পান।

২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৭ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। থারাঙ্গা পারানাভিতানা’র সাথে ইনিংসে উদ্বোধনে নামেন। তবে, শূন্য রানে বিদেয় নিতে হয়। পরবর্তীতে অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, রঙ্গনা হেরাথের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

ডিসেম্বর, ২০১৪ সালে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতকের সন্ধান পান। ক্রাইস্টচার্চে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৬৩ বল মোকাবেলা করে ১৫২ রান তুলেছিলেন। এর কয়েক মাস পর গলেতে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৫৪ বলে ১৮৬ রানের দূর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৬ রানে বিজয়ী হয়েছিল।

২০১৪-১৫ মৌসুমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ১৫২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকল্পে শ্রীলঙ্কার ১৫-সদস্যের দলে অন্তর্ভুক্ত হন। এর পূর্বে তিনি মাত্র ছয়টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিজ্ঞতাপুষ্ট ছিলেন। কিন্তু, অনুশীলনীমূলক খেলায় ডান হাতে আঘাত পান। হাঁড় ভেঙ্গে গেলে তাঁকে স্বদেশে ফিরে আসতে হয়। কুশল পেরেরাকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এরপর থেকেই দীর্ঘ সংস্করণের খেলার দিকেই মনোনিবেশ ঘটাতে থাকেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমে রঙ্গনা হেরাথের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। এ সিরিজে অপূর্ব খেলেন। ২৮০ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন। ৬ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। সফরকারীরা ২৫৭ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। ২৬ ও ৪৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

২০১৭ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ১৩ টেস্টে অংশ নিয়ে ৩৯.৬৫ গড়ে তিনি ১০৩১ রান তুলেন। কেবলমাত্র ডিন এলগারই তাঁর তুলনায় এগিয়েছিলেন। এরফলে, সপ্তম শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে সহস্রাধিক রান তোলার গৌরব অর্জন করেন। তন্মধ্যে, দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছেন। মাত্র চার রানের জন্যে দ্বি-শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হন।

একই বছর নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৫ ও ১৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রবীন্দ্র জাদেজা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৩ রানে জয়ে পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৯৬ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ শতকের সুবাদে পাকিস্তান দল ৬৮ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, ৩০৬ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

২০১৮ সালেও খেলার ধারা অব্যাহত থাকেন। ৯ টেস্টে ৪৬.৪৩ গড়ে ৭৪৩ রান তুলেছিলেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনার স্বীকৃতিস্বরূপ আইসিসি কর্তৃক বিশ্ব টেস্ট একাদশে তাঁকে যুক্ত করা হয়।

শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক দিনেশ চণ্ডীমলের ধারাবাহিকতার অভাব ও খেলার মান দূর্বলতর হতে থাকলে দল থেকে বাদ পড়েন এবং তাঁকে শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। তাঁর অধিনায়কত্বে লঙ্কান লায়ন্স দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিক দলকে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাভূত করে। এরফলে, প্রথম এশীয় দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ জয়ে কৃতিত্ব প্রদর্শন করে।

২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। তবে, ভারসাম্যহীন দলে তিনি কোন আশ্চর্য্য সাফল্যের অধিকারী হননি। সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে দলটি পয়েন্ট তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করে। ঐ বছর নিজ দেশে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ২০১৯ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ৩৯ ও ১২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৯-২০ মৌসুমে শ্রীলঙ্কান দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সফরকারী দল ১০ উইকেটে জয়লাভ করে। ৩৭ ও ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের ইতিহাসের তৃতীয় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে তিন সহস্রাধিক রানের সন্ধান পেয়েছেন।

২০২০-২১ মৌসুমে শ্রীলঙ্কান দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২ ও ১০৩ রান সংগ্রহ করেন। তবে, ডিন এলগারের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০২১ সালে নিজ দেশে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে পুরো সিরিজে দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছিলেন। ২৯ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে পল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১১৮ ও ৬৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে লাহিরু থিরিমানে’র (১৪০) সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ২০৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অভিষেকধারী প্রবীণ জয়াবিক্রমের বোলিং সাফল্যে শ্রীলঙ্কা দল ২০৯ রানে জয়লাভ করতে সমর্থ হয়। এ সিরিজে ৪২৮ রান সংগ্রহ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২১ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ১৪৭ ও ৮৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অধিনায়কসূলভ অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৮৭ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই মৌসুমে অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে শ্রীলঙ্কান দলকে নিয়ে ভারত গমন করেন। ১২ মার্চ, ২০২২ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১০৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শ্রেয়াস আয়ারের অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ২৩৮ রানে জয়লাভ করে ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

২০২৩-২৪ মৌসুমে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ গমন করেন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অপূর্ব খেলেন। ২২ মার্চ, ২০২৪ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ৮৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করে দলের ৩৫৮ রানের বিশাল বিজয়ে অবদান রাখেন। এরপর, ৩০ মার্চ, ২০২৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ১৭ ও ৫২ রান সংগ্রহ করে দলকে ১৯২ রানের জয়ে ভূমিকা রাখাসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়লাভে সহায়তা করেন।

এরপূর্বে, একই মৌসুমে নিজ দেশে হাশমতউল্লাহ শহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টে ৭৭ ও ৩২* রান সংগ্রহ করে দলের ১০ উইকেটের সহজ বিজয়ে অংশ নেন।

২০২৪ সালে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ২ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জেমি স্মিথের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৭ ও ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, গাস অ্যাটকিনসনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯০ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৬ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যালেক্স কেরি’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

Similar Posts

  • | |

    ডেনিস লিন্ডসে

    ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ তারিখে ট্রান্সভালের বেনোনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি মাঝারিসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট কিংবদন্তী ছিলেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে বর্ণাঢ্যময় ভূমিকা রেখেছিলেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তাঁর পিতা জন লিন্ডসে ও জ্যেঠা নেভিল…

  • |

    মার্ক রাশমেয়ার

    ৭ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিশোর অবস্থাতেই তাঁর মাঝে ব্যতিক্রমী প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৩-৮৪…

  • | |

    জাভেদ আখতার

    ২১ নভেম্বর, ১৯৪০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী অফ-স্পিনার ছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    ফ্রাঙ্ক স্মেইলস

    ২৭ মার্চ, ১৯১০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের রিপ্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩২ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে দলের পেস বোলার ও বিনোদনধর্মী ব্যাটসম্যান হিসেবে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত…

  • |

    উইলিয়াম ব্রুস

    ২২ মে, ১৮৬৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার সাউথ ইয়ারা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে কার্যকর মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সাউথ ইয়ারা এলাকায় জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবকাল ক্রোমওয়েল স্ট্রিটে অতিবাহিত করেছেন। স্কচ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৮৮০ ও ১৮৮১ সালে বিদ্যালয়ের প্রথম একাদশের সদস্য ছিলেন। আকর্ষণীয় বামহাতি…

  • |

    জিওফ গ্রিফিন

    ১২ জুন, ১৯৩৯ তারিখে নাটালের গ্রেটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ডারবান হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। বিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থায় আঘাত পেলে কনুঁই সঠিকভাবে বাঁকাতে পারতেন না। এক…