| | |

নাউমল জিউমল

১৭ এপ্রিল, ১৯০৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

বিস্ময়কর অল-রাউন্ডার হিসেবে অনেকাংশেই ভুল সময়ে তাঁর জন্ম। যুদ্ধংদেহী মনোভাবের অধিকারী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। উইজডেনে উল্লেখ রয়েছে যে, তিনি প্রয়োজনে নিজেকে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানরূপে উপস্থাপন করতেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হিন্দু, নর্দার্ন ইন্ডিয়া ও সিন্ধুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রঞ্জী ট্রফির খেলায় মোহাম্মদ নিসারের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে চাতুর্য্যময় লেগ-স্পিন বোলিংসহ কভার-পয়েন্ট এলাকায় অসাধারণ ফিল্ডার হিসেবে আবির্ভূত হতেন। এছাড়াও, সংরক্ষিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে নিজেকে যুক্ত রাখতেন।

বোম্বেভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের করাচী শাখার প্রধান কেরাণীর পুত্র ছিলেন। ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে হিন্দু দলের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপর, বাদ-বাকী দলের সদস্যরূপে করাচীতে একই দলের বিপক্ষে খেলে ১৬ রান তুলেন। পরের খেলায় মরিস টেট, ইউয়ার্ট অ্যাস্টিল, জর্জ গিয়ারি’র বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে ৮৩ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন।

১৯৩০-৩১ মৌসুমে সিলন সফরে ভিজ্জি’র সুনজরে পড়েন। এ সফরে জ্যাক হবসহার্বার্ট সাটক্লিফের সাথে তাঁকে ব্যাটিং করার সুযোগ দেয়া হয়। এ সফরের দ্বিতীয় খেলায় ড. জে রকউড সিলন একাদশের বিপক্ষে খেলেন। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ৯১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

১৯৩২ থেকে ১৯৩৪ সময়কালে ভারতের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টেস্টে তিনি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৩২ সালে সি.কে. নায়ড়ু’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুন, ১৯৩২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। দলের অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেকে ৩৩ ও ২৫ রান তুলেছিলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ১৫৮ রানে জয়লাভ করেছিল। ১৯৩২ সালে ইংল্যান্ড সফরে দারুণ খেলেছিলেন। সিকে নায়ড়ু’র পর ১২৯৭ রান তুলে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।

১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে নিজ দেশে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। বোম্বে টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৩ রান করেছিলেন। কিন্তু, ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে মাদ্রাজে শুরু হওয়া সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে স্ট্যান নিকোলসের বিপজ্জ্বনক বাউন্সারে বাম চোখে গুরুতর আঘাত হানে। ফলশ্রুতিতে, তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে নামেননি ও আর তাঁকে টেস্ট খেলতে দেখা যায়নি। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ২০২ রানে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়ী হয়।

সবকটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে সাত শতক সহযোগে ৩২.৫৯ গড়ে ৪১৪০ রান সংগ্রহসহ লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে ২৭.৫৪ গড়ে ১০৮ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, ছয়বার পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় তারকাসমৃদ্ধ সিন্ধু দলের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এক পর্যায়ে দলের সংগ্রহ ১৫/৪ ও ৬৩/৬ হবার পর দ্বি-শতক সহযোগে ৩২৬ করে তৎকালীন সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ছিল। টেস্টে ২৭ গড়ে ১০৮ রান তুলেছেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্রীড়া সরঞ্জামাদি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অগ্রসর হন। আম্পায়ার হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেন। অধিকাংশই কায়েদ-ই-আজম ট্রফি প্রতিযোগিতায় ছিল। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তাঁর সন্তান হরি নাউমল করাচী বিশ্ববিদ্যালয় ও করাচী গ্রীনসের প্রতিনিধিত্ব করেছে। ১৯৮০ সালের সূবর্ণজয়ন্তী টেস্টে বিসিসিআই সকল সাবেক টেস্ট ক্রিকেটারকে আমন্ত্রণ জানালে বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ২৮ জুলাই, ১৯৮০ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে ৭৬ বছর ১০২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    যুবরাজ সিং

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯৮১ তারিখে চণ্ডীগড়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। শবনম ও সাবেক ভারতীয় বোলার যোগরাজ সিং দম্পতির সন্তান। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    ব্রেন্ডন ম্যাককালাম

    ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ডানহাতে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পরিচিতি লাভ করেন। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ‘বাজ’ ডাকনামে পরিচিতি পান। দ্রুত সাড়া…

  • |

    চার্লি লক

    ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬২ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ডের মারান্ডেলাস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘চিভারো’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ডানহাতি পেস বোলার। মূলতঃ সিম ও সুইংয়ের উপর নির্ভর করে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮…

  • | |

    এইডেন মার্করাম

    ৪ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই বছর বয়সে ক্রিকেট সরঞ্জাম উপহার পান। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারে তাঁর জন্ম। বাড়ীতে সর্বদাই ক্রিকেট বল নিয়ে খেলতেন। এরপর থেকে ক্রিকেট…

  • |

    অ্যাথল রোয়ান

    ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯২১ তারিখে ট্রান্সভালের কেনসিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা অফ-স্পিনারের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। যুদ্ধকালীন তিনি পায়ে আঘাত পান। এরফলে, সামনের…

  • |

    টেড টাইলার

    ১৩ অক্টোবর, ১৮৬৪ তারিখে ওরচেস্টারশায়ারের কিডারমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শুরুরদিকের অধিকাংশ খেলাই কিডারমিনস্টার ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৮৫ ও ১৮৮৬ সালে দুই বছর ওরচেস্টারশায়ার একাদশের সদস্য ছিলেন। ১৮৮৫ সালে বোলিংয়ে বেশ সফলতার…