|

আলবার্ট রোজ-ইন্স

১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬৮ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

কেপে ক্রিকেট খেলা শিখেন। কিন্তু, কৈশোরের শেষদিকে হীরা উদগীরনের স্বর্ণালী সময়ে কিম্বার্লীতে চলে আসেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৮৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৯-৯০ মৌসুমে কিম্বার্লীর পক্ষে চার খেলায় অংশ নেন। ট্রান্সভালের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট দখল করেন। এরপর, ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে ট্রান্সভালের পক্ষে আরও দুই খেলায় অংশগ্রহণ করেন। দলটির পক্ষে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন।

১৮৮৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয়ক্ষেত্রেই ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে অব্রে স্মিথের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের বিপক্ষে খেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণের কৃতিত্বের অধিকারী হন। ১২ মার্চ, ১৮৮৯ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে অংশ নেন। অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫/৪৩ লাভ করেন। এরফলে, দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্বের সাথে নিজেকে জড়ান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, একই টেস্টে অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান। জনি ব্রিগসের প্রথম বলেই শূন্য রানে তাঁকে প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে হয়। এরফলে, দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে প্রথম শূন্য রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ সংগ্রহ করেছিলেন। ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তাঁর দল সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৫ মার্চ, ১৮৮৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত পরের টেস্টে এ রেকর্ডের আরও উত্তরণ ঘটান! ‘ডায়মন্ড ডাক’ লাভ করেন। এছাড়াও, কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। তবে, ঐ খেলাগুলো কয়েক বছর পর টেস্টের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিল। ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ২০২ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে স্বাগতিকরা সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে প্রথম টেস্টের পূর্বে আয়োজিত সভায় অংশ নেন। এ সভায় দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইস্টার্ন কেপের প্রতিনিধিত্ব করেন। দুই বছর ট্রান্সভাল ক্রিকেটে ইউনিয়নের সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কেপে চলে যান। অনেকগুলো বছর সেখানে ক্রিকেটে উত্তরণে ভূমিকা রাখেন। প্রকৃত হীরার সন্ধানে কিম্বার্লীর খনিতে যুক্ত ছিলেন। ২২ নভেম্বর, ১৯৪৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ইস্ট লন্ডন এলাকায় ৭৮ বছর ২৭৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    মুরালি বিজয়

    ১ এপ্রিল, ১৯৮৪ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। মুরালী ও লক্ষ্মী দম্পতির সন্তান। ১৭ বছর বয়সে কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ভরত অরুণের নজরে পড়েন।…

  • |

    ড্যারিল টাফি

    ১১ জুন, ১৯৭৮ তারিখে ওতাগোর মিল্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী তিনি। পর্যাপ্ত পেস ও নিখুঁতভাব বজায় রেখে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, চমৎকার আউট-সুইঙ্গার বোলিং করতে পারতেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম…

  • |

    ফ্রেড মর্লে

    ১৬ ডিসেম্বর, ১৮৫০ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের সাটন-ইন-অ্যাশফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবেই দলে সমধিক ভূমিকা পালন করতেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জন্ম নিবন্ধন সনদে তিনি ‘ফ্রেডরিক মর্লে’ নামে পরিচিতি পান। ছোটখাটো ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতা ও পৌনে এগারো স্টোন (৬৬ কেজি)…

  • | |

    ডেনিস লিলি

    ১৮ জুলাই, ১৯৪৯ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার। টেস্ট ক্রিকেটের কিংবদন্তী তারকা। বিশাল ব্যক্তিত্ব এবং শুধুমাত্র অস্ট্রলীয়দের মধ্যেই নয়, বৈশ্বিকভাবে বীর হিসেবে বিবেচিত হয়ে…

  • |

    ইকবাল সিদ্দিকী

    ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার মাধ্যমে দ্রুত উত্থান ঘটে তাঁর। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • | | |

    আসিফ ইকবাল

    ৬ জুন, ১৯৪৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়েও পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারের সন্তান। তাঁর কয়েকজন চাচা উচ্চ স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতীয় অধিনায়ক ও অফ-স্পিনার গুলাম আহমেদের ভ্রাতৃষ্পুত্র তিনি। যৌথ পরিবারে বড় হন।…