২০ আগস্ট, ১৮৬৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘এবি’ ডাকনামে ভূষিত বার্নার্ড ট্যানক্রেড গ্রাহামসটাউনভিত্তিক সেন্ট এইডান্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ট্যানক্রেড ভ্রাতৃত্রয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। স্নাতক ডিগ্রী লাভের পর প্রিটোরিয়া, কিম্বার্লী ও জোহানেসবার্গে আইনচর্চায় অগ্রসর হন। দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুরদিকে প্রায় এক দশক অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর খেলার উভয় ইনিংসে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন।
১৮৮৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে নিজ দেশে অব্রে স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১২ মার্চ, ১৮৮৯ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উভয় ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধন করেছিলেন। ইনিংসগুলোয় ২৯ রান করে সংগ্রহ করেন ও দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তাঁর দল সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৫ মার্চ, ১৮৮৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টের প্রথম ইনিংসে প্রায় দেড় ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ৯১ বল মোকাবেলায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন। এরফলে, টেস্টের ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েন। চারটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন। এ ইনিংসে তাঁর দল মাত্র ৪৭ রানে গুটিয়ে যায়। এছাড়াও, অদ্যাবধি পূর্ণাঙ্গ টেস্ট ইনিংসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকার ক্ষেত্রে তাঁর এ সংগ্রহটি সর্বনিম্ন হিসেবে টিকে রয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি মাত্র ৩ রান সংগ্রহ করলেও ২৪ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ২০২ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। এ সিরিজে ২৯ গড়ে ৮৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এপ্রিল, ১৮৯০ সালে কারি কাপের উদ্বোধনী আসরে কিম্বার্লীর সদস্যরূপে অংশ নেন। ট্রান্সভালের বিপক্ষে নিজের প্রথম খেলায় ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন। ১৮৯১ সালে ট্রান্সভাল ক্রিকেট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় অগ্রসর হন ও সভাপতি ছিলেন। ক্রমাগত ব্যস্ততার কারণে ১৮৯৪ সালে ইংল্যান্ড গমন করা থেকে বিরত থাকেন।
এমসিসি ও সারে ক্রিকেট ক্লাবের সম্মানীয় সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তিন কন্যা সন্তানের জনক। ২৩ নভেম্বর, ১৯১১ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে মাত্র ৪৬ বছর ৯৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর ভ্রাতৃদ্বয় – লুইস ট্যানক্রেড ও ভিনসেন্ট ট্যানক্রেড দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলেছেন।
