৭ অক্টোবর, ১৮৭০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিস্কাম্মাহোক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন ও ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করতেন। ১৯০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

৫৩ বছর ধরে খোসা সম্প্রদায়ের পাদ্রী ক্যানন সি টাবেরারের সন্তান ছিলেন। সেন্ট ম্যাথুজ মিশনে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। গ্রাহামসটাউনভিত্তিক সেন্ট অ্যান্ড্রুজ কলেজে বিদ্যালয় জীবন পাড় করেন। ১৮৮৯ সালে অক্সফোর্ডভিত্তিক কেবল কলেজে বিএ অনার্স শ্রেণীতে ভর্তি হন। অ্যাথলেটিক্স ও রাগবিতে ব্লু লাভ করলেও ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় রাগবি দলকে নেতৃত্ব দেন। ১৮৯২ সালে কেমব্রিজের বিপক্ষে খেলায় হাফ-ব্যাক অবস্থানে খেলেন।

মারকুটে ব্যাটসম্যান ও দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন। ১৮৯১ থেকে ১৯০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া ও নাটাল এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম একাদশের পক্ষে বেশ কয়েকবার ক্রিকেট খেলেছেন।

পিটারমারিৎজবার্গের জুলুল্যান্ডের সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন ও দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে আসেন। ১৮৯৫ সালে এশোইয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন। সেসিল রোডসের আমন্ত্রণে রোডেশিয়ায় চলে যান। ১৮৯৬ থেকে ১৯০১ সময়কালে রোডেশিয়ায় চিফ নেটিভ কমিশনার ছিলেন। মাতাবেলা বিদ্রোহে যুক্ত ছিলেন ও দুইবার তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ১৯০২ সালে প্রিটোরিয়ায় ট্রান্স সরকার গঠনের সাথে জড়িত হন ও চিফ নেটিভ কমিশনার হিসেবে মনোনীত হন।

১৯০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেভ নোর্স, চার্লি স্মিথ, জর্জ থর্নটন, মেইটল্যান্ড হথর্ন ও লুইস ট্যানক্রেডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। ঐ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। খেলায় তিনি ০/২৩ ও ১/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। মৃত্যুকালীন সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সহঃসভাপতি ও ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান ট্রাভার্স টাবেরার এনআরসিতে কিছু সময় কাজ করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী কনিষ্ঠতম সৈনিক হিসেবে ডিএসও পদকে ভূষিত হয়েছিল। ৫ জুন, ১৯৩২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের স্টর্মফন্তেইন এলাকায় ৬১ বছর ২৪২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে জোহানেসবার্গের সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালে দুই হাজার লোকের সমাবেশ হয়েছিল।

সম্পৃক্ত পোস্ট