১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে অকল্যান্ডের ওয়ার্কওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
প্রতিভাবান শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। কখনোবা ইনিংস উদ্বোধনে, আবার কখনোবা মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। তাঁর যমজ ভ্রাতা হামিশ মার্শাল নিউজিল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাকিংহামশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৭ সালে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। শীর্ষসারিতে ব্যাটিং করার ফলে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রভূতঃ সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।
নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে একটি প্রাদেশিক দলে সর্বোচ্চসংখ্যক প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণের রেকর্ড গড়েন। প্লাঙ্কেট শীল্ডে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে ১৬ বছরে ১২৬টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, দীর্ঘদিন ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ঘরোয়া আসরে দূর্দান্ত খেলার সুবাদে কিউই দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপে দলের ৫ম শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। বর্ণাঢ্যময় ঘরোয়া ক্রিকেটে চারবার ওয়ান-ডে ট্রফি ও চারবার প্লাঙ্কেট শীল্ডের শিরোপা ঘরে তুলে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস দল।
২০০৫ থেকে ২০০৮ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট, ১০টি ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, টেস্টগুলো থেকে মাত্র একটি অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ডের সদস্যরূপে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঐ খেলায় তিনি মাত্র ১৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। একই খেলায় তাঁর ভ্রাতা হামিশ মার্শাল ৫৫ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেছিলেন।
২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। অল্প কিছুদিন পরই ২৬ মার্চ, ২০০৫ তারিখে একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একই টেস্টে স্বীয় ভ্রাতা অংশ নিয়েছিলেন। এরফলে, স্টিভ ওয়াহ ও মার্ক ওয়াহ’র পর টেস্ট ক্রিকেটে জেমস মার্শাল ও হামিশ মার্শাল দ্বিতীয় যমজ হিসেবে একত্রে খেলেছেন। এ পর্যায়ে নিজের পছন্দনীয় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। খেলায় তিনি ২৯ ও ৩ রান তুলেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনায়ক রিকি পন্টিংয়ের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
নেপিয়ারে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫২ রান তুলে নিজেকে প্রমাণ করেন। তবে, ইংল্যান্ডের মাটিতে শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতা ধরে রাখতে পারেননি। বাঁক খাওয়া বলে তাঁকে হিমশিম খেতে দেখা যায়। ২০০৬ সালে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চুক্তির বাইরে থাকেন। একই বছরের শেষদিকে কুইন্সটাউনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতক হাঁকান।
২০০৭-০৮ মৌসুমের ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫১.৩৩ গড়ে ৬১৬ রান তুলে পুণরায় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজর কাড়েন। এ পর্যায়ে শীর্ষসারিতে নিউজিল্যান্ড দল হাবুডাবু খেতে থাকলে তাঁকে পুণরায় চুক্তিতে নিয়ে আসা হয়। ২০০৮ সালের ইংল্যান্ড সফরে অংশ নেন। এসেক্সের বিপক্ষে তিন নম্বর অবস্থানে খেলে শতরান তুলেন। আবারও তিনি সুইং বোলিংয়ের বিপক্ষে নিজের দূর্বলতা তুলে ধরেন। এরপর, ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। তবে, গ্রীষ্মে ওডিআইয়ে মনোমুগ্ধকর ১৬১ রানের নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকিয়ে নিজের উপযোগিতার কথা তুলে ধরেছিলেন। এরফলে, কিউইরা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ধরনের জয় তুলে নেয়। উদ্বোধনী জুটিতে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সাথে ২৬৬ রান তুলেন। ওডিআইয়ে যে-কোন উইকেটে এ সংগ্রহটি নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ ছিল। তবে, এটিই তাঁর শেষ ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ ছিল ও সর্বাধিক রান সংগ্রহের কৃতিত্বের অধিকারী হন।
ঐ বছর ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ১৫ মে, ২০০৮ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। দলীয় অধিনায়কের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৩ মে, ২০০৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মন্টি পানেসারের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টি২০আইয়ে কিউইদের ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২৫ মার্চ, ২০১৩ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরফলে, ১৬ বছরের দীর্ঘ খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে তাঁর।
