১৪ আগস্ট, ১৯৮৯ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। বামহাতে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, দলের প্রয়োজনে লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে অগ্রসর হয়ে থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদ, ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড ও জারাই তারাকিয়াতি ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, হায়দ্রাবাদ হকস, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও করাচী কিংসের পক্ষে খেলেছেন। ১০ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হায়দ্রাবাদ বনাম ইসলামাবাদের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম ইনিংসে তিনি মাত্র এক রান তুলতে পেরেছিলেন। ঐ মৌসুমে সব মিলিয়ে ৮ রান পেয়েছিলেন। তবে, পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা টি২০ ব্লিৎজেসে দুইটি শতক হাঁকিয়ে নিজের প্রতিভাকে তুলে ধরতে সচেষ্ট হন।
পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটসহ পাকিস্তান ‘এ’ দলের পক্ষেও দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০১৬ সালে পাকিস্তান সুপার লীগের উদ্বোধনী আসরে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড দলের সদস্যরূপে খেলছেন। নক-আউট পর্বে পেশাওয়ার জালমি’র বিপক্ষে ৬২ বলে ১১৭ রান হাঁকিয়েছিলেন লীগের প্রথম শতরান করার গৌরব অর্জন করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় ১৪৯.২৫ স্ট্রাইক রেটে ৩০০ রান তুলেন। উমর আকমল ও রবি বোপারা’র পর তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন।
২০১৩ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ২৫টি ওডিআই ও ১৫টি টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। মারকুটে ব্যাটিংয়ের কারণে ডিসেম্বর, ২০১৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআই ও টি২০আই সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ৮ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় ৩৪ রান তুলে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। এরপর, তৃতীয় টি২০আইয়ে মাত্র ২৫ বল মোকাবেলা করে ৫০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
পরবর্তীতে, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে ৬১ রান তুলেন। এরফলে, কোচ ডেভ হোয়াটমোরের কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়ান ও প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হন। সীমিত-ওভারের খেলায় ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও সফল হন। ফলশ্রুতিতে, দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরের সুযোগ পান।
২০১৬-১৭ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে সিডনিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪ ও ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম আন্তর্জাতিক শতকের সন্ধান পান। ১৫২ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দেন। অর্ধ-শতকের জন্যে ৩৪ বল ও শতক হাঁকানোর জন্যে ৬১ বল খরচ করেছিলেন। এ শতকের কল্যাণে ওডিআইয়ে পাকিস্তানের সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় সাঈদ আনোয়ার ও ইমরান নাজিরের পর তৃতীয় স্থানে চলে আসেন। এছাড়াও, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও শেন ওয়াটসনের পর দ্রুততম দেড়শত রানের ইনিংসের সর্বকালের তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করেন।
পিএসএলে অনিন্দ্য সুন্দর ব্যাটিংয়ের কারণে তাঁকে ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তান দলে ঠাঁই দেয়া হয়। এরপর, ২০১৬ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় আঘাতগ্রস্ত বাবর আজমের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। ২০১৭ সালের পাকিস্তান সুপার লীগের আসরে দূর্নীতির অভিযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড দলীয় সঙ্গী খালিদ লতিফসহ তাঁকে অভিযুক্ত করে। পিসিবি থেকে দূর্নীতি-বিরোধী নিয়ম ভঙ্গের কারণে সাময়িক বহিষ্কৃত হন। ৩০ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৫ বছরের জন্যে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
