|

নাথান স্মিথ

১৫ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।

২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৩০ মার্চ, ২০১৬ তারিখে হোয়াঙ্গারেইয়ে অনুষ্ঠিত ওতাগো বনাম নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এছাড়াও, নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯, ওতাগো অনূর্ধ্ব-১৭ ও ১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৮ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেককালীন বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা-বলের কোচ রব ওয়াল্টারের তত্ত্বাবধানে শুরুরদিকের দিনগুলোয় নিজেকে গড়ে তুলেন। ওতাগোয় দূর্দান্ত খেলে ব্যক্তিগত পরিচিতি পান ও ২০২১-২২ মৌসুমকে ঘিরে ওয়েলিংটনের দিকে ধাবিত হন। প্লাঙ্কেট শীল্ডের প্রথম মৌসুমেই নিজেকে মেলে ধরেন ও যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। পিঠের আঘাতের কবলে পড়লে অস্ত্রোপচার করতে হয় ও পরবর্তী মৌসুমে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়। তবে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে দৃষ্টিনন্দন ক্রীড়াশৈলীর উপহার দিয়ে নিজেকে পরিচিতি ঘটান। দলের শিরোপা বিজয়ে ৩৩ উইকেট দখল করে শীর্ষে আরোহণ করেন।

৪ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে ওরচেস্টারশায়ারের বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে ২০২৪ সালের পুরো মৌসুম খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এ পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে কোন আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ না করলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ওতাগো ভোল্টস ও ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের পক্ষে খেলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৭.৬৫ গড়ে ১০৫ উইকেট ও একটি শতকসহ ২৬.৫৫ গড়ে ১৬২০ রান সংগ্রহ করেছেন। টি২০ ক্রিকেটে ২১.৫৯ গড়ে ৫২ উইকেট দখল করেছেন ও ১২২ স্ট্রাইক-রেটে রান পেয়েছেন।

দলীয় সঙ্গী ও সাদা-বলে নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের সাথে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সালে সারে দলের পক্ষে একত্রে খেলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বোলারের মর্যাদা পান। ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় জশ ক্লার্কসনের সাথে তাঁকে নিয়ে আসা হয়। টি২০ লীগে ডেভন কনওয়ে ও ফিন অ্যালেনকে ব্যস্ততার কারণে চুক্তির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পূর্বেকার মৌসুমে প্লাঙ্কেট শীল্ডের শিরোপা বিজয়ী ওয়েলিংটনের পক্ষে খেলে তিনি ১৭.১৮ গড়ে ৩৩ উইকেট পান। এছাড়াও, ঐ মৌসুমে সাতটি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করে ২১.১৪ গড়ে ২৭ উইকেট দখলসহ তিনটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, টি২০ ব্ল্যাস্টে নয়টি খেলায় অংশ নিয়ে আট উইকেট পান। তবে, আঘাতের কারণে তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হয়। ২৫ বছর বয়সী নাথান স্মিথকে মার্চ মাসে এনজেডসি’র ঘরোয়া বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করা হয়। শেষ মৌসুমে ওয়েলিংটনের পক্ষে সাদা-বলের ঘরোয়া সকল খেলায় অংশ নিয়ে ২৪ উইকেট পান। তন্মধ্যে, সুপার স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় ওতাগোর বিপক্ষে ৪/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।

২০২৪ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২২ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে মিচেল স্যান্টনারকে শ্রীলঙ্কায় সাদা-বলের সফরে অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ সফরে উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান মিচেল হে’র সাথে তাঁকে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

এরপর, ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজকে ঘিরে প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে যুক্ত হন। টিম সাউদিকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। পাড়ার ক্রিকেটে তিনি নিজেকে টিম সাউদি’র অনুরূপ বোলার হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাটিংকালে কেন উইলিয়ামসন কিংবা রস টেলরের ন্যায় ব্যাটিং করতেন। ২০১৬ সালে হ্যাগলে ওভালে ম্যাট হেনরি’র ক্ষীপ্রগতির বাউন্সারে স্টিভেন স্মিথের কাবু হবার বিষয়টি দর্শক হিসেবে স্মৃতির পর্দায় ধারণ করেন। আট বছর বাদে হ্যাগলে ওভালেই ব্ল্যাক ক্যাপ হিসেবে মাঠে নামবেন ও তাঁর কয়েকজন বীরের সাথে একত্রে খেলবেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১৪১ ও ০/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ব্রাইডন কার্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, একই সফরের ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/৮৬ ও ০/৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ১১.৪-১-৮৬-৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করে ওভারপ্রতি ৭.৩৭ রান খরচ করে সর্বকালের নবম সর্বোচ্চ স্থানে নিজেকে নিয়ে যান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। হ্যারি ব্রুকের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ৩২৩ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জাস্টিন গ্রিভের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

Similar Posts

  • | |

    ইমতিয়াজ আহমেদ

    ৫ জানুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তানের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। লাহোর কলেজ থেকে বের হয়ে আসা এক ঝাঁক দৃষ্টিনন্দন, গর্বিত ও দেশপ্রেমী ক্রিকেটারদের অন্যতম ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে…

  • | | |

    চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত

    ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬১ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দর্শনীয় স্ট্রোক খেলতেন ও দক্ষ উইকেট-রক্ষক হিসেবে সুনাম ছিল তাঁর। ১৯৭৯-৮০ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয়…

  • | |

    জ্যাক ব্ল্যাকহাম

    ১১ মে, ১৮৫৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার নর্থ ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ‘উইকেট-রক্ষকদের রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ঊনবিংশ শতকের শুরুরদিকে ক্রিকেটকে মহীয়ান করে গেছেন। দূর্দান্তভাবে ও দক্ষতার সাথে উইকেট-রক্ষণ…

  • | | |

    মদন লাল

    ২০ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে ১৯৯১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে কয়েক…

  • |

    এরিক উপশান্ত

    ১০ জুন, ১৯৭২ তারিখে কুরুনেগালায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কুরুনেগালা ইয়ুথ ক্রিকেট ক্লাব ও কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    বিল পন্সফোর্ড

    ১৯ অক্টোবর, ১৯০০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার নর্থ ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। উইলিয়াম পন্সফোর্ড ও এলিজাবেথ দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। নর্থ ফিটজরয়ের আলফ্রেড ক্রিসেন্ট স্টেট স্কুলে অধ্যয়ন। সেখানে ক্রিকেটে দুইবার পদক লাভ…