| |

স্যাম কুক, ১৯২১

২৩ আগস্ট, ১৯২১ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের টেটবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গ্লুচেস্টারশায়ারের ক্রিকেট জগতে অন্যতম প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। ৫০৬টি খেলায় অংশ নিয়ে ১৭৮২ উইকেট দখল করেন। অধিকাংশ সময়েই টম গডার্ডের সাথে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনা অংশ নিতেন। বলে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিশানা বরাবর বল ফেলতেন। স্পিন ও ফ্লাইট – উভয় বিভাগে দক্ষ থাকলেও নিখুঁততা বজায় রাখতেন।

ওয়ালি হ্যামন্ড তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘প্রথম মৌসুমেই তিনি ১০০ উইকেটের সন্ধান পাবেন।’ ১৯৪৬ সালে প্রথম বলেই অক্সফোর্ডের বিপক্ষে উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখান। ঐ মৌসুমে ১৩৩ উইকেট লাভ করেন ও কাউন্টি ক্যাপের অধিকারী হন। নয় মৌসুমে শত উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তন্মধ্যে, ১৯৫৬ সালে ১৪.১৬ গড়ে সর্বাধিক ১৪৯ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে চার্লি বার্নেটের আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলায় ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে খেলেন। ব্রিস্টলে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ৯/৪২ নিয়ে ধীরগতির বোলিংয়ের অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন।

ওয়ালি হ্যামন্ডের নির্দেশে ক্যান্টারবারিতে টেস্টের যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নেন। এরফলে, তাঁর মধুচন্দ্রিমা বিলম্বিত হয়। তবে, খেলার সুযোগ পাননি। পরের বছর ১৯৪৭ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে অ্যালান মেলভিলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ১৯৪৭ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। টম ডলারি ও জ্যাক মার্টিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩০ ওভার বোলিং করে ১২৭ রান খরচ করলেও উইকেট শূন্য অবস্থায় তাঁকে বিফল মনোরথে মাঠ ত্যাগ করতে হয়েছিল। খেলায় তিনি ০/৮৭ ও ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ধাবিত হন। ১৯৭১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ২৮টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা ও ১০২টি লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন। মদ্যপান করতে ভালোবাসতেন। রোডেশিয়ায় ক্রিকেট খেলে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেন। ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের টেটবারি এলাকার হাসপাতালে ৭৫ বছর ১৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ডেইজি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। টেটবারি পারিশ চার্চে কাউন্টি ক্রিকেটের সাবেক দলীয় সঙ্গী টম গ্রেভনি তাঁর শবানুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

Similar Posts

  • | |

    জয়ন্ত অমরসিংহে

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নোম্যাডস স্পোর্টস ক্লাব ও অ্যান্টোনিয়ান্স…

  • |

    ক্লড ফ্লোকেট

    ৩ নভেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে কেপ কলোনির আলীওয়াল নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৪-০৫ মৌসুম থেকে ১৯১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • | |

    ডেনিস লিন্ডসে

    ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ তারিখে ট্রান্সভালের বেনোনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি মাঝারিসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট কিংবদন্তী ছিলেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে বর্ণাঢ্যময় ভূমিকা রেখেছিলেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তাঁর পিতা জন লিন্ডসে ও জ্যেঠা নেভিল…

  • |

    ডিক পিলিং

    ১১ আগস্ট, ১৮৫৫ তারিখে বেডফোর্ডশায়ারের ওল্ড ওয়ার্ডেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিজের সময়কালে অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বেডফোর্ডশায়ারে জন্মগ্রহণ করলেও নবজাতক অবস্থায় অ্যাক্রিংটনের কাছাকাছি চার্চে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি…

  • |

    আর্থার সেকাল

    ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৮ তারিখে কেপ কলোনির কিং উইলিয়ামস টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংসহ ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ১৮৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট,…

  • |

    টিশেপো মোরকেই

    ৭ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে নাটাল প্রদেশের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ‘মার্লে’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ভ্রমণপ্রিয় তিনি। গ্লেনউড হাই স্কুল থেকে পূর্বে অধ্যয়নকারী সিম বোলার স্টিফেন জ্যাকের ন্যায় তিনি অতিরিক্ত গুণাবলী হিসেবে পেসে…