২১ মে, ১৮৯৩ তারিখে সারের মিকলহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেও সাফল্য পেয়েছেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯১০ থেকে ১৯৩৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকেও নিজেকে সমুজ্জ্বল রেখেছেন। ওভালে সারের বিপক্ষে খেলায় দলকে নেতৃত্ব দেন ও ঐ খেলায় প্রতিপক্ষ পূর্ণাঙ্গভাবে খেলায় প্রাধান্যবিস্তার করে। তবে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে টেলিগ্রাম পেয়েই সেনাছাউনীতে ফিরে যান ও জিম আয়রনমোঙ্গারকে অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়ে যান।
পাঁচ বছর পর ক্রিকেট খেলা শুরু হলে তিনি পুণরায় নটস দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। খুব শীঘ্রই নিজেকে কাউন্টি অধিনায়কদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বীবিত অধিনায়ক হিসেবে পরিচিতি ঘটান। তবে, তিনি কোন পরীক্ষায় তিনি কৃতকার্য হননি। এটন থেকে তাঁকে চলে আসতে হয় ও স্যান্ডারহার্স্টে যুক্ত হতে ব্যর্থ হন। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে তিনি অক্সফোর্ডে এক সপ্তাহ অবস্থান করেছিলেন।
১৯২২ থেকে ১৯২৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার জিলিগান, অ্যালেক্স কেনেডি, ফ্রাঙ্ক মান ও গ্রেভিল স্টিভেন্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ২৭ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১৬৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৩ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
উপর্যুপরী তিনটি রাবার জয়ে ব্যর্থতার পর ইংল্যান্ড দলকে যথোপযোগী নেতৃত্ব দেয়ার জন্যে ১৯২৬ সালে তাঁকে মনোনীত করা হয়। তবে, সর্বাপেক্ষা অম্লমধুর অভিজ্ঞতাপুষ্ট হন। ট্রেন্ট ব্রিজের প্রথম টেস্টে নিজ মাঠে প্রথম কোন নটস খেলোয়াড় হিসেবে তিনি নেতৃত্ব দেন। কয়েক ওভার খেলার পর খেলাটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়।
পরবর্তী তিন টেস্ট ড্রয়ে পরিণত হয় ও ওভালে চূড়ান্ত খেলায় নিষ্পত্তিতে অগ্রসর হয়। দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে এ দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। দুইমুখো নীতির অধিকারী পেলহাম ওয়ার্নার তাঁকে তাঁর শারীরিক সুস্থতায় সন্দিহান প্রকাশের কারণে বাদ দেয়ার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বেশ মনক্ষুন্ন হন। তবে, নটস অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯২৯ সালে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, ঐ গ্রীষ্মে তাঁকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে পুণরায় মনোনীত করা হয়। নিজ দেশে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৭ আগস্ট, ১৯২৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৩২-৩৩ মৌসুমের ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া বডিলাইন সিরিজে অংশ নেন। ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত নটসের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। বডিলাইনের ব্যবহার কাউন্টি ক্রিকেটে ঘটানো হলে খুব শীঘ্রই নেতিবাচক ফলাফলের মুখোমুখি হন। ল্যাঙ্কাশায়ার ও মিডলসেক্স – উভয় দল থেকে অভিযোগ আসে ও নটসের বিপক্ষে খেলা থেকে দূরে থাকার হুমকি দেয়া হয়। নটস কমিটি থেকে অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে বাদ দেয়া হয়। কাউন্টি ক্লাবের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। পুরনো কমিটি জয় পায়। তিনি জয়লাভ করলেও অধিনায়ক হিসেবে পুণরায় মনোনীত হননি। স্যার জুলিয়ান কান জর্জ হিন ও স্টুয়ার্ট রোডসকে ১৯৩৫ সালে অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের জন্যে মনোনীত করা হয়।
তিনি আর নটসের পক্ষে খেলেননি। ‘ক্রিকেট উইদ দ্য লিড অফ’ শিরোনামীয় আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত হাস্যকর গ্রন্থের বীর হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেন। ইয়র্কশায়ারে অবসর গ্রহণ করেন। নটিংহ্যামশায়ারের রেম্পস্টোন হলে তাঁদের পারিবারিক বসতভিটা ছিল। তাঁর পিতা অত্যন্ত ধনী স্টকব্রোকার ছিলেন। লিচেস্টারশায়ারে শিকারের জন্য যন্ত্রপাতি কিনে আনেন। পরিবারটি ব্যাপকভাবে ঘোড়দৌড়ের সাথে জড়িত ছিল। ট্রেন্ট ব্রিজ থেকে কাউন্টি খেলা চলাকালীন কলউইকে পারিবারিক খেলা দেখতে উধাও হয়ে যান।
১৯৩৩ সালে নটিংহ্যামশায়ার দল ১৭টি কাউন্টি দলের মধ্যে চ্যাম্পিয়নশীপে অষ্টম স্থান দখল করলে কোচ হিসেবে আর্থার কার বেশ হতাশা ব্যক্ত করেন। কয়েক সপ্তাহ পর নটিংহ্যামশায়ারের সম্পাদক ও অধিনায়ক এইচএ ব্রাউনের কাছে পত্র লিখে পরবর্তী করণীয় উল্লেখ করেন। আর্থার কারের ব্যাট লং রুমে ২৯ নং ব্যাট হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ওয়েস্ট উইটন এলাকায় নিজ গৃহে হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৬৯ বছর ২৬২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
