৫ নভেম্বর, ১৯৫৬ তারিখে শ্রপশায়ারের অসওয়স্ট্রে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘লয়ডি’ ডাকনামে ভূষিত অ্যান্ডি লয়েড ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী। ক্যাডক্সটনভিত্তিক ল্যাঙ্গাটগ কম্প্রিহেনসিভ স্কুলে অধ্যয়ন শেষে বাঙ্গর নরম্যাল কলেজে পড়াশুনো করেন। ১৯৭৭ থেকে ১৯৯২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার ও দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। সবগুলো আন্তর্জাতিকই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৮৪ সালে নিজ দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হন। ৩১ মে, ১৯৮৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূচনা ঘটান। তবে, ওডিআই অভিষেক পর্বটি তেমন সুবিধের হয়নি। মাত্র ১৫ রান তুলেছিলেন। নিজস্ব দ্বিতীয় ওডিআইয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৯ রান তুলেছিলেন। ঐ একই খেলায় প্রতিপক্ষীয় বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা ভিভ রিচার্ডস ১৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তৎকালীন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ওডিআই রানের নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন। ৪ জুন, ১৯৮৪ তারিখে লর্ডসে সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে ৩৭ রান তুললে ঐ সিরিজে ৩৩.৬৭ গড়ে ১০১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ সিরিজে তিনিই একমাত্র ইংরেজ ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০০ রান তুলতে পেরেছিলেন।
টেস্ট সিরিজের পূর্বে দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে শীর্ষ পছন্দের ছিলেন। ১৪ জুন, ১৯৮৪ তারিখে এজবাস্টনের নিজ শহরে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ দিন মাখনে উত্তপ্ত ছুড়ি মাখানো ফলার ন্যায় ম্যালকম মার্শাল ও জোয়েল গার্নার বোলিং আক্রমণে অগ্রসর হন। গ্রায়েম ফাওলারের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে অভিষেক টেস্টেই হেলমেট পরিহিত থাকা অবস্থায় তিনি ম্যালকম মার্শালের মারাত্মক বাউন্সারে ডানদিকের চোখের নিচে আঘাত পান। এরফলে, অকালে তাঁর প্রতিভাবান খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জানা যায় যে, তাঁর ডান চোখের ৩৫% দৃষ্টি শক্তি কমে যায়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে চলে আসলেও ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে অনেকগুলো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অবশেষে, ১৯৯২ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটকে বিদেয় জানান। তবে, ঐ দিবসের পর নিজেকে আর কখনো একইমানের খেলোয়াড়ে পরিণত করতে পারেননি। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এজবাস্টনে ক্রিকেট চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
