|

উসমান সালাহউদ্দীন

২ ডিসেম্বর, ১৯৯০ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।

পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের মাঝারীসারিতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে একদিনের সিরিজে দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এরপর, নিজ দেশে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তিন ইনিংসেও খেলার এ ধারা অব্যাহত রাখেন। ব্যক্তিগত সেরা ৬৮ রান করেন মাত্র ৫০ বল মোকাবেলা করে। তাঁকে অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকই বিখ্যাত পাকিস্তানী ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফের যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন।

তাঁর পিতা সালাহউদ্দীন রানা প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার ছিলেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে লাহোর লায়ন্স, লাহোর শালিমার ও লাহোর হোয়াইটসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত লাহোর শালিমার বনাম অ্যাবোটাবাদের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান।

ঘরোয়া ক্রিকেটে লাহোরের পক্ষে ক্রমাগত রান সংগ্রহ করেছেন। ২০১০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিজের সেরা ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। ৫ খেলায় অংশ নিয়ে মাত্র ৭২ রান তুলতে পেরেছিলেন। উঁচু বলকে সুন্দরভাবে ড্রাইভ মারতে ও বলকে পুল করতে দ্বিধাবোধ করেন না। ২০১০-১১ মৌসুমের কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে ৯২৭ রান তুলে সর্বাগ্রে থাকেন। একই মৌসুমে লিস্ট-এ ক্রিকেটেও এ ধারা অব্যাহত রাখেন। ফলশ্রুতিতে, এপ্রিল, ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে জাতীয় দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।

২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১১ সালে দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ২ মে, ২০১১ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন। দুইটি ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে মাত্র ১৩ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, আবারও দলের বাইরে চলে যান। হাবিব ব্যাংক দলে আসা-যাবার পালায় থাকলে খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের সাথে যুক্ত হন। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল এমার্জিং টিমস কাপে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্যরূপে সিঙ্গাপুর গমনের সুযোগ পান।

ইউনুস খানমিসবাহ-উল-হকের অবসর গ্রহণের ফলে শূন্যতার সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে, নির্বাচকমণ্ডলী ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়। ১ জুন, ২০১৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জোস বাটলারের ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

Similar Posts

  • | |

    হারুন রশীদ

    ২৫ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘জেকিল ও হাইড’ ধরনের ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিষ্প্রাণ পিচে অন্যতম দর্শনীয় ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত…

  • |

    ডেনিস ডায়ার

    ২ মে, ১৯১৪ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘাকায় গড়ন ও সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির অধিকারী হিসেবে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। তবে, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পাল্টা…

  • | |

    শাফকাত রানা

    ১০ আগস্ট, ১৯৪৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের সিমলায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অত্যন্ত চমৎকার ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। ড্রাইভ ও কাটের দিকে অধিক সফলতা পেয়েছেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে…

  • | | |

    বব ওয়াট

    ২ মে, ১৯০১ তারিখে সারের মিলফোর্ড হিদ হাউজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ও বিখ্যাত ক্রিকেটার এবং প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কভেন্ট্রিভিত্তিক রাজা অষ্টম হেনরি স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল এয়ার ফোর্সের পাইলট অফিসার হিসেবে…

  • | |

    রফিকুল খান

    ৭ নভেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রাজশাহীর ক্রিকেট অঙ্গনে অন্যতম খ্যাতিমান ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব…

  • | |

    টিই শ্রীনিবাসন

    ২৬ অক্টোবর, ১৯৫০ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আয়ানগর পরিবারে তাঁর জন্ম। নাঙ্গামবাক্কাম কর্পোরেশন স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। সেখানকার কংক্রিটের পিচে অনুশীলন করতেন। বিদ্যালয়ের পেস বোলারদের বিপক্ষে দারুণ খেলতেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে…