১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৪ তারিখে লন্ডনের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে তিনি মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেকে স্মরণীয় করে গেছেন। তবে, তাঁর ব্যাটিং দর্শকদের মনোঃপুত হতো না। তাসত্ত্বেও, দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। উইনচেস্টার ও এটনে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯২৩ সালে হ্যারোর বিপক্ষে ১৫৯ রানের শতক হাঁকিয়ে প্রথমবারের মতো খ্যাতির তুঙ্গে পৌঁছেন।
১৯২২ থেকে ১৯৩৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। বারো হাজারের অধিক রান তুলেছেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাঁর প্রধান গুণাবলী ছিল মনোসংযোগ ও দীর্ঘ সময় ধরে বল মোকাবেলা করার সক্ষমতা। এরফলে, প্রতিপক্ষীয় বোলারদের হতাশায় ফেলে দিতেন ও পরিশ্রান্ত বোলারদের কাছ থেকে রান তুলতে তৎপরতা প্রদর্শন করতেন। কেমব্রিজের পক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ১৯২৭ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরের বছর লিচেস্টারশায়ারকে নেতৃত্ব দেন। ১৯৩৪ সালে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ৯১ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলেন।
তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন বেশ সংক্ষিপ্ত ছিল। তাসত্ত্বেও, দুইবার ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে দুইবার বিদেশ সফর করেন। ১৯২৮ থেকে ১৯৩০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র পাঁচ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে রনি স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে অংশ নেন। হ্যারি এলিয়টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৪ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে সক্ষম হয়।
এরপর, ১৯২৯-৩০ মৌসুমে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে তেমন সফলতার সন্ধান পাননি। একটিমাত্র অর্ধ-শতকের সন্ধান পেয়েছেন। ওয়েলিংটন ও অকল্যান্ড টেস্টে ভালো খেলেন।
১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। খেলায় তিনি ৭ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৪ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। প্রথমটিতে দলের সংগ্রহ ১৩৫ রানের মধ্যে তিনি ৪৪ রান তুলেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। ১৫ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। তিনি ৪৪ ও ৭ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। দ্বিতীয়টিতে আরও ভালো করেন। ইংল্যান্ডের সংগৃহীত ১৯০ রানের মধ্যে তিনি ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
একই সফরের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৫৫ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তবে, কাউন্টি ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে ঠিকই নিজেকে মেলে ধরেছেন। এরফলে, তাঁকে কাউন্টির সর্বাপেক্ষা সম্মানীয় ব্যাটসম্যানে পরিণত করে। সব মিলিয়ে ২৭ গড়ে ১৪ শতক সহযোগে ১৫৯৮ রানের সন্ধান পেয়েছেন। এছাড়াও, অফ-সাইডে দূরন্ত ফিল্ডিং করতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সাসেক্সে কোল্ডস্ট্রিম গার্ড হিসেবে কাজ করেছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আউটওয়ার্ড বাউন্ড মুভমেন্টের পরিচালক ছিলেন।
৪ জুন, ১৯৭৯ তারিখে উইল্টশায়ারের ইডমিস্টন এলাকায় ৭৫ বছর ১১১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
