১ এপ্রিল, ১৯৮৪ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। মুরালী ও লক্ষ্মী দম্পতির সন্তান। ১৭ বছর বয়সে কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ভরত অরুণের নজরে পড়েন। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ু এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেমপ্লাস্ট, চেন্নাই সুপার কিংস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, লাইকা কোভাই কিংস ও রুবি ট্রিচি ওয়ারিয়র্সের পক্ষে খেলেছেন। ২৩ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দিল্লি বনাম তামিলনাড়ুর মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০১২-১৩ মৌসুমে বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ের বিদেয় নেয়ার পর তাঁর তুলনায় অন্য কাউকে ইনিংস উদ্বোধনে ভালো খেলোয়াড়ের সন্ধান পায়নি। জাতীয় দলে তাঁকে পুণরায় যুক্ত করার পর টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানরূপে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়েছেন। কেবলমাত্র টেস্ট ক্রিকেটেই তাঁর অংশগ্রহণ সীমাবদ্ধ ছিল না; ‘মঙ্ক’ ডাকনামে পরিচিত মুরালি বিজয় আইপিএলেও খবরদারী করেছেন, দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেছেন। অভিনব মুকুন্দের সাথে ৪৬২ রানের পর্বতসম জুটি গড়ার পর জাতীয় দলে খেলার জন্যে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে ভারতের পক্ষে ৬১ টেস্ট, ১৭ ওডিআই ও ৯টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিদায়ী টেস্টে ৩৩ ও ৪১ রান তুলেছিলেন। তাঁর অনবদ্য বোলিং সত্ত্বেও স্বাগতিক দল ১৭২ রানে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
নিজস্ব তৃতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হন। ৮৭ রান তুলেছিলেন তিনি। তবে, টেস্ট শতক হাঁকানোর জন্যে তাঁকে দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে হয়। অক্টোবর, ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩৯ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দেন।
দূর্ভাগ্যবশতঃ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে উপর্যুপরী ব্যর্থতার পরিচয় দিলে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। তবে, উদীয়মান, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও টিকে থাকার মানসিকতাসম্পন্ন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের প্রয়োজন হলে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০১৩-১৪ মৌসুমের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে ১০ ও ৬ রান তুলেন।
দ্বিতীয় টেস্টে তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৬৭ রান তুলে ভারতের ইনিংস ও ১৩৫ রানের জয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রাখেন। মোহালিতে আরও একটি বড় ধরনের ইনিংস খেলেন। ১৫৩ রান তুলেন ও শিখর ধবনের ধ্বংসাত্মক ইনিংসের কারণে টেস্টটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঐ সিরিজে প্রথমবারের মতো ভারত দল ৪-০ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে পরাভূত করেছিল। সিরিজে তিনি দুই শতক ও একটি অর্ধ-শতক সহযোগে ৬১.৪২ গড়ে ৪৩০ রান তুলেন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাধারণমানের রান সংগ্রহ করেন। এ সিরিজটিই বিখ্যাত তারকা শচীন তেন্ডুলকরের সর্বশেষ সিরিজ ছিল। মুম্বইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রতিপক্ষীয় অঞ্চলে ব্যাটিংয়ের ন্যায় পরিবেশে পড়েন। ওয়াংখেড়েতে উপস্থিত দর্শকেরা ভারতের দ্বিতীয় উইকেটের পতন দেখতে চায়। তাহলে হয়তোবা তাঁরা ‘লিটল মাস্টারের’ ব্যাটিং দেখতে পারবে।
শচীন তেন্ডুলকরের অবসর গ্রহণের পর পুরো বছর ভারতের কঠিন সময়ের যাত্রা শুরু হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের সাফল্য সীমিত হয়ে পড়ে। কেবলমাত্র লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দল তাদের একমাত্র জয় দেখে। তবে, দলটি তাঁদের অনেকগুলো বাঁধায় তাঁর ব্যাটিং সচেতনতা পর্যবেক্ষণ করে।
২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে ফিরতি সফরে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৫৫ ও ৯ রান সংগ্রহ করেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্য স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৮-১৯ মৌসুমে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে পার্থে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। সফরকারীরা ১৪৬ রানে পরাজিত হয় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। খেলায় তিনি ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। নিকিতা বিজয় নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।
