২৮ ডিসেম্বর, ১৯২৬ তারিখে জার্মানির ওয়াইজবাডেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দলকে এক টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ব্যাট হাতে নিয়ে নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিতেন ও কার্যকর বোলিংয়ে অংশ নিতেন। এছাড়াও, ব্যাটের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করে দারুণ ফিল্ডিং করতেন। রেপটন স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। বিদ্যালয় জীবনে বিস্ময়কর বালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁর এ অমিত সম্ভাবনা উঁচু স্তরের ক্রিকেটে প্রবাহিত করতে পারেননি। ১৯৪৫ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলতেন।
১৯৫১ থেকে ১৯৫২ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয়সারির এমসিসি দলের সাথে ভারত সফরে যাবার সুযোগ পান। ২ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডন কেনিয়ন, ডিক স্পুনার, ফ্রেড রিজওয়ে ও নাইজেল হাওয়ার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৪ ও ৭৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে সাধু সিন্দে’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ফলাফলবিহীন অবস্থায় সিরিজটি অগ্রসর হতে থাকে।
৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে মাদ্রাজে একই দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট শেষ টেস্টে নিয়মিত অধিনায়ক নাইজেল হাওয়ার্ডের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেন। ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করে। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৪০ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮ রানে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ড দলে বেশ শক্তিধর থাকায় এরপর আর তাঁকে দলে খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি। সব মিলিয়ে ৪৪৬টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ডার্বিশায়ারের পক্ষে ৩৩৬টি খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ পর্যায়ে ২৯ গড়ে ১৯২৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বামহাতে স্পিন বোলিং করে ৩৫ গড়ে ৩২৮ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করতেন ও ৫০০ ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। ডার্বিশায়ারের পক্ষে ৪০৪ ক্যাচ পান; সংখ্যার দিক দিয়ে কেবলমাত্র ডেরেক মরগ্যান তাঁর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ২২৬টি খেলায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
কেন্টের বিপক্ষে খেলায় দল ২৫৭ রান গুটিয়ে গেলেও ব্যাট হাতে ১৫৬ ও ১৯১ রানের মধ্যে ১০৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুই উইকেট দখল করেছিলেন। এক মৌসুমে ২১৬৫ রান তুলে কাউন্টি রেকর্ড গড়েন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে, প্রশাসক হিসেবে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের স্বতঃস্ফূর্ততা, আকর্ষণীয় ব্যাটিং, ধৈর্য্যশীলতা, নেতৃত্বকে ছাঁপিয়ে যেতে পারেনি। তাস্বত্ত্বেও, বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়কালে অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনবার বিদেশ সফরে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৭৪ সময়কালে এমসিসির সহকারী সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে টিসিসিবির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট তথৈবাচৈ পর্যায়ে পৌঁছুলেও শক্তভাবে তা সামলান। কমিটিতে অন্তর্ভূক্তির পূর্বে বাসিল ডি’অলিভেইরা ঘটনায় পরোক্ষভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞার কবলে পাঠানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, ক্যারি প্যাকারের বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট চলাকালে কঠোর অবস্থানে ছিলেন; এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্রোহী দলের সফরের ক্ষেত্রেও এ অবস্থান বজায় রাখেন। এক পর্যায়ে ১৯৯০-এর দশকের সূচনালগ্নে ম্যাচ রেফারি হিসেবে মনোনীত হন। নয়টি টেস্ট ও ঊনিশটি ওডিআই পরিচালনা করেছিলেন।
১৯৬০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। এ সময়ে তিনি ডার্বিশায়ার সিসিসি’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১১ জুন, ২০১৬ তারিখে ৮৯ বছর ১৬৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
