১৩ মার্চ, ১৯২১ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের ফরেস্ট টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
শৈশবকালে তাঁর মাঝে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানের গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জিলিংহামের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪১ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে আর.এ.এফের বিপক্ষে নটিংহ্যামশায়ারের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন। ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। ঐ খেলায় রেগ সিম্পসনের সাথে মাত্র ৭৫ মিনিটে প্রথম উইকেট জুটিতে ২০৮ রানে নিরবিচ্ছিন্ন থাকেন। খেলাটি অবশ্য প্রথম-শ্রেণীবিহীন একদিনের খেলা ছিল।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলের ৩৮২ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন। ১৯৫০-এর দশকে নটিংহ্যামশায়ারের সদস্যরূপে বিস্ময়কর ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। বেশ দেরীতে ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেছেন। নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেককালীন তাঁর বয়স ছিল ২৭ বছর। তাসত্ত্বেও, পরবর্তীতে কাউন্টির অন্যতম সেরা বিনোদনধর্মী ব্যাটসম্যানে নিজেকে পরিণত করতে তৎপর হন।
১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয়সারির এমসিসি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ছয় নম্বর অবস্থানে মাঠে নেমে ৫৫ ও অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এরফলে, সিরিজের বাদ-বাকী খেলাগুলোয় তাঁকে দলে রাখা হয়। তবে, পরবর্তী দুই টেস্টে বিনু মানকড় ও গুলাম আহমেদের ক্রীড়ানকে পরিণত হন।
একই সফরের ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৮ রানে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আকর্ষণীয় বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৯৩৬৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, চটপটে ফিল্ডার হিসেবেও তাঁর সুনাম ছিল। উইকেটের কাছকাছি কিংবা সীমানা বরাবর ফিল্ডিংয়ে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল।
ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। কৈশোরকালীন ম্যান্সফিল্ড টাউনের পক্ষে আউটসাইড লেফট অবস্থানে খেলতেন। এ পর্যায়ে দলের কনিষ্ঠ ফুটবলার ছিলেন। এরপর, জিলিংহাম ও ওল্ভারহাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের পক্ষে খেলেছেন। খেলা জগৎ থেকে সড়ে আসার পর নিউয়ার্কভিত্তিক প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান আরএইচপিতে কাজ করেন।
১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের বল্ডারটন এলাকায় ৭৪ বছর ৩৩৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
