৬ মে, ১৯৪৭ তারিখে ওয়াইকাটোর টি আরোহা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১১২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছেন। অধিকাংশই ছিল নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের সদস্যরূপে। সাত শতক সহযোগে ৩৪.৭০ গড়ে ৫৮৬৫ রান সংগ্রহ করেছেন। থিতু হয়ে আসা জুটি ভাঙ্গার ক্ষেত্রেও বিরাট ভূমিকা রাখেন। নিখুঁত মানের মিডিয়াম-পেস বোলিং করে ৩০ গড়ে ৮৪ উইকেট দখল করেছেন। ১৬ মৌসুম প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেন। এছাড়াও, হক কাপে বে অব প্লেন্টির পক্ষে খেলেছিলেন।
১৯৭৬ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে নিজ দেশে বিষেন বেদী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একমাত্র ইনিংসে ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেন ওয়াডসওয়ার্থের গ্লাভসে কট বিহাইন্ডে গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথকে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম টেস্ট উইকেটের সন্ধান পান। খেলায় তিনি ১/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
বেসিন রিজার্ভের তৃতীয় টেস্টে বিষেন বেদী’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। তবে, রিচার্ড হ্যাডলি ভারতীয় ব্যাটিং তুনোধুনো করে খেলায় ৫৮ রান খরচায় ১১ উইকেট দখল করলে তাঁর দল ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। বিস্ময়করভাবে ঐ বছরের শেষদিকে তাঁকে ভারত ও পাকিস্তান সফরে রাখা হয়েছিল।
শিয়ালকোটে নিজের খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করে ২৪ বল থেকে ১৬ রান তুলেন। সাত ওভারে মাত্র ৩০ রান খরচায় মজিদ খানকে বোল্ড করে একমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। ঐ খেলায় নিউজিল্যান্ড দল নাটকীয়ভাবে এক রানে জয়লাভে সক্ষম হয়।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাদ পড়েন। ঐ খেলায় পাকিস্তান দল ছয় উইকেটে জয় পায়। লায়লপুরে পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৭২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে হায়দ্রাবাদে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে জায়গা করে নেন। ৮ ও ৩৩ রান তুললেও পাকিস্তান দল ১০ উইকেটে জয়ে পেয়ে সিরিজ করায়ত্ত্ব করে। মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বে মজিদ খান শতক হাঁকালে দৃশ্যতঃ পাকিস্তান দল ৫৬৫/৯ তুলে ব্রাউনওয়াশের দিকে অগ্রসর হয়। ওয়ারেন লিস ও রিচার্ড হ্যাডলি’র মধ্যকার ১৮৬ রানের জুটির পর তিনি ৩৯ রান তুলে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। ৩৮৮ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৯১/৪ হলে তিনি ৪৫ রান তুলে দলের পরাজয় রোধে অগ্রসর হন। এ পর্যায়ে রবার্ট অ্যান্ডারসনের সাথে ৪৭ ও ওয়ারেন লিসের সাথে ৬০ রানের জুটি গড়েন। সিকান্দার বখ্তের বলে বোল্ড হলেও দল বিপর্যয় থেকে অনেকাংশেই দূরে চলে আসে।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে গ্লেন টার্নারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। এ সফরে তিন-টেস্টের সবকটিতেই অংশ নিয়েছিলেন। ১৮ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হন। ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৫ রান অতিক্রম করেন। গ্রীন পার্কে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে আক্রমণাত্মক খেলে ৮৪* রান তুলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৬ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় ১ ও ০ রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩২ ও ০/৪ লাভ করেন। বেদী, চন্দ্র ও বেঙ্কটের বিপক্ষে তিনি মোটেই সফল হননি। ২১৬ রানে পরাজিত পেলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। পুরো সিরিজে কেবলমাত্র একবার দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পেরেছিলেন। এরপর, তিনি আর কোন আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নেননি।
অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ২৩.০৯ গড়ে ২৫৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে বল হাতে নিয়ে তেমন সফলতা পাননি। ৪৫.৫০ গড়ে মাত্র চার উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, ওভারপ্রতি ২.৪৮ রান খরচের সহনীয় মাত্রায় অবস্থান করেছিলেন। এছাড়াও, ১৬ অক্টোবর, ১৯৭৬ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
তাঁর জীবনের শেষের দিনগুলো সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছেন। ২৬ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে ওয়েলিংটনে মাত্র ৪২ বছর ১৭৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। কেন ওয়াডসওয়ার্থের ২৯ বছর ২৬৩ দিন বয়সে মৃত্যুর পর তিনি স্বল্পায়ু জীবনের অধিকারী হন।
