২৬ আগস্ট, ১৮৫৪ তারিখে নর্দাম্বারল্যান্ডের নিউক্যাসল আপোন টাইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এমসিসি’র মাঠকর্মীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৮৮২ সাল থেকে ১৮৮৮-৮৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সবেমাত্র প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের মর্যাদায় অভিষিক্ত দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ের ভূমিকা অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, আলফ্রেড ব্রুকসের সাথে তিনিই কেবল দলটি পেশাদার খেলোয়াড় ছিলেন। পরবর্তী দুই মৌসুম বেশ সফলতার সাথে খেলেন।
১৮৮১ সালে কেন্টের অধিনায়ক রিচার্ড থর্নটন তাঁকে নর্দাম্বারল্যান্ড বংশোদ্ভূত হিসেবে স্কটল্যান্ডের পক্ষে খেলার বিষয়ে আপত্তি জানালে সংবাদ শিরোনামে পরিণত হন। এরফলে, ক্লাবের সেরা বোলার হিসেবে মৌসুমের বাদ-বাকী সময় খেলতে পারেননি। এছাড়াও, লর্ডসের মাঠ কর্মী হিসেবে যুক্ত ছিলেন ও অধিকাংশ খেলাই এমসিসির পক্ষে খেলেন।
১৮৮৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় মেজর হোয়ার্টনের ব্যবস্থাপনায় এমসিসি দলের প্রথম সফরে যান। ইংরেজ প্রতিনিধিত্বকারী দল না হলে কয়েকজন ক্রিকেটার সাধারণমানের খেলা প্রদর্শন করেছিলেন। তাসত্ত্বেও পরবর্তীতে এগুলোই ঐ দেশের প্রথম টেস্ট হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১২ মার্চ, ১৮৮৯ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফ্রাঙ্ক হার্ন, মন্টি বাউডেন, ব্যাসিল গ্রিভ, চার্লস কভেন্ট্রি ও অব্রে স্মিথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১৫ ও ৪/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে তাঁর দল দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৫ মার্চ, ১৮৮৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ১ রান করেছিলেন। এছাড়াও, ২/২৬ ও ১/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ২০২ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সফরটিতে জনি ব্রিগস দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানদের উপর ছড়ি ঘুরালেও তিনি ৬.৮৯ গড়ে ১১৯ উইকেট দখল করেছিলেন। টেস্টগুলোয় ১১.২৫ গড়ে ৮ উইকেট পান। এছাড়াও, এগারো নম্বর অবস্থানে থেকে ৩২ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। এ সফরের পূর্বেকার তিন বছরে কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেননি তিনি। দুই টেস্টে অংশ নেয়া আর্নল্ড ফদারগিল সব দিক বিবেচনায় প্রাক্তন ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পর মাঝে-মধ্যে সমারসেটসহ এমসিসি’র পক্ষে খেলতেন।
১ আগস্ট, ১৯৩২ তারিখে কো ডারহামের সান্ডারল্যান্ড এলাকায় ৭৭ বছর ৩৪১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
