|

ওয়াল্টার গিফেন

২০ সেপ্টেম্বর, ১৮৬১ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নরউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৮৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮২-৮৩ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ১৮৮৬ সালে কর্মরত অবস্থায় দুই চাকায় আটকে তাঁর বামহাতের দুই আঙ্গুল কেটে যায়। তবে, এ দূর্ঘটনা তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনকে আটকাতে পারেনি। শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যূহ গড়ে তুলে খাঁটিমানের ব্যাটসম্যানে পরিণত হন। এছাড়াও, ডিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করতেন।

১৮৮৭ থেকে ১৮৯২ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রেড বার্টন, জন লায়ন্স, জন কটামরেজিনাল্ড অ্যালেনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাটিংকালে জর্জ লোহমানের বলে পয়েন্ট অঞ্চলে অবস্থানরত ডব্লিউ.জি. গ্রেস তালুবন্দী করলে নজরের বাইরে থাকা আম্পায়ার তাঁকে আউট ঘোষণা করেন। এরফলে বিতর্কিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খেলায় তিনি ২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

তাঁকে সর্বকালের অন্যতম বাজে টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে গণ্য করা হয়। ২, ০, ৩, ৩ ও ২ রান তুলেছিলেন। প্রচলিত রয়েছে যে, ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের তারকা খেলোয়াড় জর্জ গিফেন তাঁকে ছাড়া খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি বেশ সাড়া জাগায়। ‘দ্য বুলেটিনে’ পদ্য আকারে লেখা হয় যে, ‘ইংল্যান্ড সফরে ওয়াল্টার গিফেনের অন্তর্ভুক্তি বড় আকারের কালো অধ্যায়। তিনি দ্বিতীয় একাদশের উপযোগী। তাঁর পরিচয় তিনি কেবলমাত্র জর্জ গিফেনের ভ্রাতা।’

১৮৯১-৯২ মৌসুমে নিজ দেশে ডব্লিউ. জি. গ্রেসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩ ও ২ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৩০ রানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৮৯৩ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে সফররত ইংরেজ একাদশের বিপক্ষে দারুণ খেলেন। ক্লেম হিলের সাথে অষ্টম উইকেটে ১৯২ রানের জুটি গড়েন। ২০০২-০৩ মৌসুমে ব্রাড ইয়ং ও মিক মিলারের ২২২ রানের জুটি গড়ার পূর্ব পর্যন্ত সাউথ অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড হিসেবে চিত্রিত ছিল।

প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ছয়টি অর্ধ-শতক সহযোগে ১৫.৯৩ গড়ে ১১৭৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২৩টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৮৯ রান তুলেন।

এছাড়াও, ফুটবল খেলতেন। নরউড ফুটবল ক্লাবের পক্ষে স্বীয় ভ্রাতাকে নিয়ে একত্রে অংশ নিতেন। ১৮৭৯ সালে সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে নরউড প্রিমিয়ারশীপ দলের সদস্য ছিলেন। ২৮ জুন, ১৯৪৯ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নর্থ আনলি এলাকায় ৮৭ বছর ২৮১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    অ্যালান ডসন

    ২৭ নভেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কেপ কোবরাস…

  • |

    এরিক ডাল্টন

    ২ ডিসেম্বর, ১৯০৬ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • |

    নোয়েল হারফোর্ড

    ৩০ আগস্ট, ১৯৩০ তারিখে সাউথল্যান্ডের উইন্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৫৮-৫৯…

  • | |

    এমএস ধোনি

    ৭ জুলাই, ১৯৮১ তারিখে বিহারের রাঁচিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত দলের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেট খেলেছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী এমএস ধোনি ‘এমএস’, ‘মাহি’, ‘এমএসডি’, ‘থালা’, ‘ক্যাপ্টেন কুল’ প্রভূতঃ ডাকনামে ভূষিত…

  • |

    পল অ্যাডামস

    ২০ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্লামস্টিড হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৪ সালে কিশোর দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • |

    জিম ম্যাককোনন

    ২১ জুন, ১৯২২ তারিখে কো ডারহামের বার্নপফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৬১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তুলনামূলকভাবে বেশ দেরীতে ২৮…