|

রন গন্ট

২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ইয়র্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘পাপ্পি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভিক্টোরিয়ার পক্ষে ১৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৬.৩৬ গড়ে ৬৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৫/৫৭ লাভ করেন। এছাড়াও, ১১.৬৭ গড়ে ১৭৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে বুল ডগসের পক্ষে ৭৬ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৬ গড়ে ২২৬ উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৮/৩৮ লাভ করেন। তেরোবার পাঁচ-উইকেট ও একবার দশ উইকেট লাভ করেছিলেন। ডেস হোরকে সাথে নিয়ে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ কার্য্য পরিচালনা করতেন।

১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৭ ও ১৯৬০ সালে দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম ইয়ান ক্রেগের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব প্রথম ওভারেই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ডিক ওয়েস্টকটকে শূন্য রানে বিদেয় করেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো – আঘাতপ্রাপ্ত ইয়ান মেকিফ ও জন ড্রেনানের শূন্যতা পূরণে তিনি সবেমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকায় এসেছিলেন। খেলায় তিনি ২/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিয়ে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায়। ঐ সফরে দলীয় অধিনায়ক ইয়ান ক্রেগ তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, শীর্ষসারির ফাস্ট বোলার ও চমৎকার দলীয় সঙ্গী তিনি।

তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সিরিজে টেস্টগুলোয় অংশ নেন। ১৯৬১ সালে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে তাঁর দল অ্যাশেজ সিরিজ জয় করেছিল। ওভালে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। প্রথম ইনিংসে ৩/৫৩ লাভ করেন।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১১৫ ও ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে মাত্র সাত উইকেট দখল করলেও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে দারুণ খেলেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২৬.৮৫ গড়ে ২৬৬টি উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৭/১০৪ লাভ করেন। কিশোর মার্ভ হিউজ ও টনি ডোডেমাইডের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ৩০ মার্চ, ২০১২ তারিখে সিডনিতে ৭৮ বছর ৩৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    ক্রেগ উইশার্ট

    ৯ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শুরুতে অবশ্য মিডিয়াম-পেস বোলিং করেছেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। কার্যকর শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান। দূর্ধর্ষ প্রকৃতির স্ট্রোক মারার অধিকারী। বেশ ঝুঁকি সহকারে মারমুখী ভঙ্গীমায় শট খেলতে অভ্যস্ত। এক পর্যায়ে তিনি নিজের দোষেই উইকেট বিলিয়ে…

  • |

    জর্জ গ্ল্যাডস্টোন

    ১৪ জানুয়ারি, ১৯০১ তারিখে জ্যামাইকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমেই প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। দুইটিমাত্র খেলা নিয়ে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন গড়ে উঠেছিল।…

  • | |

    বিনু মানকড়

    ১২ এপ্রিল, ১৯১৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জামনগর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার ছিলেন। নিজের স্বর্ণালী সময়ে যে-কোন বিশ্ব একাদশে ঠাঁই পাবার অধিকারী ছিলেন। পেশাদারী পর্যায়ে…

  • | |

    মার্ক রামপ্রকাশ

    ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে হার্টফোর্ডশায়ারের বুশে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘র‍্যাম্পস’ কিংবা ‘ব্লাডেক্স’ ডাকনামে ভূষিত মার্ক রামপ্রকাশ ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের ন্যায় তিনিও হ্যারোভিত্তিক গেটন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর হ্যারো…

  • |

    স্যাম মরিস

    ২২ জুন, ১৮৫৫ তারিখে তাসমানিয়ার হোবার্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আইজাক মরিস ও এলিজাবেথ অ্যান দম্পতির সন্তান ছিলেন। তাঁর জনপ্রিয়তা বেশ তুঙ্গে অবস্থান করে ও দি অস্ট্রালাসিয়ানের প্রতিবেদক ফেলিক্স মন্তব্য করেন যে, স্যামকে…

  • | | |

    পঙ্কজ রায়

    ৩১ মে, ১৯৯৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিশোর বয়সে ফুটবল খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তবে, খেলায় আঘাত পেলে ক্রিকেটের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮…