২০ আগস্ট, ১৯৮২ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ব্রাইটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ২০১০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১.৯৩ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ২০০৫ সালে জংশন ওভালে আইসিসি বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিকভাবে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে যুক্ত হন। ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেলবোর্ন স্টার্স ও রাজস্থান রয়্যালসের পক্ষে খেলেছেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে খেলার সুযোগ পেতে খুব বেশীদিন সময় লাগেনি তাঁর। জানুয়ারি, ২০০৬ সালে প্রতিপক্ষে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০ খেলায় ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে প্রথম খেলেন। পরের মৌসুমে লিস্ট-এ ও প্রথম-শ্রেণীর খেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত ভিক্টোরিয়া বনাম তাসমানিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন। সকল স্তরের খেলাতে নিজের প্রতিভার কথা জানান দেন।
২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৯ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অস্ট্রেলিয়ার ৪২৯তম খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৯ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১০ ও ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ২২ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিলেও দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১২ ও ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ফাফ ডু প্লিসি’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০১৭-১৮ মৌসুমকে ঘিরে ভিক্টোরিয়া দল পুণর্গঠনে অগ্রসর হয়। ঐ মৌসুমে তাঁকে চুক্তিবদ্ধ না করায় ২১ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করেন। এ পর্যায়ে তিনি শেফিল্ড শীল্ডের ভিক্টোরিয়া দলের উপর্যুপরী ও রেকর্ডসংখ্যক তৃতীয় শিরোপা বিজয়ের সাথে জড়িত ছিলেন। ভিক্টোরিয়ার পক্ষে সব মিলিয়ে পাঁচবার (২০০৮-০৯, ২০০৯-১০, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭) শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা; তিনবার (২০০৬-০৭, ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯) টি২০ শিরোপা ও একবার (২০১০-১১) ওডিআই শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।
৯৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৩৬.৮৪ গড়ে এগারো শতক সহযোগে ৫৬৭৪ রান সংগ্রহ করেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫৩ রান তুলেছেন। বিগ ব্যাশ লীগের উদ্বোধনী আসরে মেলবোর্ন স্টার্সের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হন। এরপর থেকে প্রত্যেক আসরে খেলেছেন।
এক মৌসুমে সর্বাপেক্ষা অসাধারণ ভিক্টোরিয়ান শেফিল্ড শীল্ড খেলোয়াড় হিসেবে উপর্যুপরী দুইবার (২০১০-১১ ও ২০১১-১২) বিল লরি পদক; এক মৌসুমে সর্বাপেক্ষা অসাধারণ ভিক্টোরিয়ান একদিনের খেলোয়াড় হিসেবে ডিন জোন্স পদক (২০১১-১২) ও রাজ্য দলের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে ২০১২ সালে অ্যালান বর্ডার পদক লাভ করেন।
