৭ অক্টোবর, ১৮৭৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে মাঠে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঊনবিংশ শতকে দক্ষিণ আফ্রিকার কার্যকর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের পরিচিতি লাভ করেন। অপরিসীম ধৈর্য্যশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি বলকে ঠেকাতেন ও অন্যান্য খেলোয়াড়েরা রান সংগ্রহে তৎপর হতো। প্রায়শঃই শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানদের আদর্শস্থানীয় ছিলেন। বোলিং আক্রমণে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ক্লান্তির সুযোগ নিতেন ও মাঠের সর্বত্র বলকে ঠেলে দিতেন। নিখুঁতভাবে খেলতেন ও সচরাচর ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
১৮৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৯১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টি ও মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ট্রান্সভালের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার ছিলেন।
১৯০২ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডেভ নোর্স, চার্লি স্মিথ, মেইটল্যান্ড হথর্ন, জর্জ থর্নটন ও হেনরি টাবেরারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। খেলায় তিনি ৯৭ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসের সংগ্রহটি পরবর্তীতে তাঁর সর্বোচ্চ রানের ইনিংস হিসেবে চিত্রিত হয়ে পড়ে। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯০৭ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। হেডিংলিতে নিজের প্রথম টেস্টে জোড়া শূন্য লাভ করেন। এ সফরে দীর্ঘদিন অসুস্থতার কবলে পড়েন। কেবলমাত্র শেষ দশদিন সুস্থ ছিলেন।
১৯১২ সালে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে স্প্রিংবক দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১২ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করে। এরফলে, সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ২০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে সিডনি বার্নসের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ইনিংস ও ১২ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ সফরে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের তিন টেস্টে ফ্রাঙ্ক মিচেলের পরিবর্তে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দেন।
২১.২০ গড়ে ৫৩০ রান তুলেছিলেন। টেস্টগুলো থেকে কোন শতক হাঁকাতে পারেননি। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এগারোবার তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছিলেন ও পাঁচ সহস্রাধিক রান তুলেছিলেন। তাঁর খেলার ধরন তেমন আকর্ষণীয় ছিল না। কিন্তু ক্রিজে এসে ঠিকই নিজের স্বরূপ ধারন করতেন। মোট চারবার – ১৯০১, ১৯০৪, ১৯০৭ ও ১৯১২ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। দৃশ্যতঃ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনে অবসাদে ভুগতে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। সন্তানকে যে-কোন ধরনের খেলায় অংশগ্রহণে বাঁধ সাধেন। জীবনের শেষদিকে অসুস্থতার কবলে পড়েন। ২৮ জুলাই, ১৯৩৪ তারিখে ট্রান্সভালের পার্কটাউন এলাকায় ৫৭ বছর ২৯৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর ভ্রাতৃদ্বয় – বার্নার্ড ট্যানক্রেড ও ভিনসেন্ট ট্যানক্রেড দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলেছেন।
