১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ভাগ্যকূলের অভিজাত ধনী জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন। সচরাচর পঙ্কজ রায়ের সন্তান হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেককালীন পিতা ইতোমধ্যে বাংলা দলের কিংবদন্তীর মর্যাদা পেয়েছিলেন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রিজ আঁকড়ে থাকতে পারতেন। অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির বহিঃপ্রকাশের পাশাপাশি স্ট্রোক খেলতেন। ১৯৮০-এর দশকে অরুণ লালকে সাথে নিয়ে বাংলা দলের ভিত আনয়ণে সচেষ্ট ছিলেন। তবে, তিনি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪১ গড়ে চার সহস্রাধিক রান তুলে নিজের নিচেরদিকে নিয়ে যান। কিন্তু, রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় অসাধারণ খেলেছেন ও রানের ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছেন। ১৮টি শতক সহযোগে ৫০ গড়ে তিন সহস্রাধিক রান পেয়েছেন।
কলকাতা ক্লাব ক্রিকেটে খেলেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২১ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। ডিব্রুগড়ে আয়োজক দল আসামের বিপক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। অন্য কেউ অর্ধ-শতরানের কোট স্পর্শ করতে না পারলেও ১০৫ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন। বাংলা দলের বোলিং আক্রমণে আসাম দল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ও ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়। এরপর, ছন্দহীনতায় ভুগলেও নিজ মাঠে উপর্যুপরী শতরানের ইনিংস খেলেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে ওড়িষ্যার বিপক্ষে ১৪০ ও আসামের বিপক্ষে ১৩৪ রান তুলেন।
পিতার ন্যায় তিনিও ব্যাটিং কৌশল ও মনোযোগের মাধ্যমে সফলতা পেয়েছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে দিল্লি দল ৫৪৫/৭ তুললে বাংলা দল ৪৬৪/৯ তুলে। দল বিদেয় নিলেও তিনি ৬৯৩ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করেছিলেন। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৫৩৭ বল মোকাবেলায় ২৩০ রান তুলে অপরাজিত থাকেন। এটিই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল। কোয়ার্টার-ফাইনালের পূর্বে ঐ মাসের শুরুরদিকে রাজস্থানের বিপক্ষে ১৩৪ রান তুলেছিলেন।
তবে, ১৯৮৯-৯০ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে সর্বাধিক স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। পাঁচ ঘণ্টায় ১০৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। এ পর্যায়ে রবি শাস্ত্রী ও রাজু কুলকার্নি’র ন্যায় বোলারদের রুখে দিয়ে অরুণ লালের সাথে ২৭৫ রানের জুটি গড়েছিলেন। এরফলে, বাংলা দল তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় শিরোপার সন্ধান পায়।
১৯৮২ সালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে কিথ ফ্লেচারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। অশোক মালহোত্রা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬ ও ৬০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
সুনীল গাভাস্কারের যোগ্য উদ্বোধনী সঙ্গী হিসেবে অনেকের সাথে তিনিও খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। তবে, দুই টেস্টে অংশ নিলেও তেমন মন্দ খেলেননি। ৬, ৬০* ও ৫ রান তুলে গড়কে ৩৫.৫০-এ নিয়ে যান। এরপর, আর তাঁকে খেলানো হয়নি।
একই সফরের ৩০ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সম্ভবতঃ কলকাতায় টেস্ট ক্রিকেটারদের বংশানুক্রমে শেষ আলোকবর্তিকা ছিলেন। কুমারটুলির বিশাল অট্টালিকায় বসবাস করতেন। তাঁর পূর্বসূরীরা বর্তমান বাংলাদেশের ভাগ্যকূলের জমিদার ছিলেন। কলকাতা পুরসভা পৈত্রিক ভিটাকে হেরিটেজ বিল্ডিং স্ট্যাটাস প্রদান করে। সল্ট লেকে ‘পঙ্কজ রায় ক্রিকেট একাডেমি’ পরিচালনা করছেন। ৪২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা ও ৩৩টি লিস্ট-এ খেলা ম্যাচ রেফারি হিসেবে পরিচালনা করেছেন।
