|

টম রিচার্ডসন

১১ আগস্ট, ১৮৭০ তারিখে সারের বাইফ্লিট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকার স্বাক্ষর রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

তাঁর অসাধারণ দম ছিল। প্রতিদিনই নিজ গৃহ থেকে ওভালে ১৪ মাইল ক্রিকেট সরঞ্জাম বহন করে হেঁটে আসতেন ও পুণরায় ফিরে যেতেন। সন্দেহাতীতভাবে সমসাময়িক বোলারদের মধ্যে সেরার মর্যাদা পেয়েছিলেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে বিবেচিত হতে পারতেন। জর্জ ফ্রিম্যান, জন জ্যাকসন ও উইলিয়াম লকউডের সাথে নিজেকে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেট ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯২ থেকে ১৯০৫ সালের মধ্যে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। মিচামে পর্যাপ্ত সফলতা পাবার পর সারে দলে যোগ দেন। ১৮৯২ সালে সারের প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পান। দৃশ্যতঃ দ্বিতীয় একাদশের উপযোগী হলেও চ্যাম্পিয়নশীপে নটসকে পরাজিত করতে অগ্রসর হন। শুরুতে সারে কর্তৃপক্ষ উপলব্ধি করতে পারেনি যে তারা জর্জ ফ্রিম্যানের পর সর্বাপেক্ষা ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলারের সন্ধান পেয়েছে। ঐ বছরই কাউন্টি একাদশে নিজের স্থান নিশ্চিত করেন।

প্রধান কাউন্টি খেলাগুলোয় তেমন সফলতা না পেলেও প্রথম-শ্রেণীর নিচেরসারির দলগুলোর বিপক্ষে পুরোপুরি মেলে ধরতে তৎপর ছিলেন। সারের পক্ষে পুরো মৌসুমে পৌনে চৌদ্দ রানের অল্প বেশী গড়ে ১০১ উইকেট দখল করেন। ১৮৯৩ মৌসুমে আরও একবার নিজেকে শীর্ষে নিয়ে যান। প্রত্যেকের মাঝেই ইংরেজ বোলারদের মধ্যে তাঁর প্রথম হবার দৌঁড়ে এগিয়ে আসার মনোবৃত্তি লক্ষ্য করেন। জর্জ লোহমানের অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতির কারণে ১৮৯৩ সালে তাঁকে বিরাট সুযোগ করে দেয়। তিনি এর সর্বোত্তম প্রয়োগ ঘটানোর চেষ্টা চালান। চ্যাম্পিয়নশীপের খেলাগুলোয় সারের পক্ষে ১৪-এর অল্প বেশী গড়ে ৯৯ উইকেট দখল করেন। ঐ বছর ১৫.৭০ গড়ে ১৭৪টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট দখল করেন।

১৮৯৩ থেকে ১৮৯৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৩ সালে নিজ দেশে জ্যাক ব্ল্যাকহামের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ আগস্ট, ১৮৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বিলি ব্রোকওয়েলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫/৪৯ ও ৫/১০৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৮৯৪-৯৫ মৌসুমের শীতকালে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। তবে, তাঁর বোলিং নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধতার পরিবেশ সৃষ্টি হলে তিনি বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করে ফেলেন। ১ মার্চ, ১৮৯৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/১৩৮ ও ৬/১০৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করে সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৯৬ সালে নিজ দেশে ডব্লিউ.জি. গ্রেসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে হ্যারি ট্রটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুন, ১৮৯৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬/৩৯ ও ৫/১৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১০ আগস্ট, ১৮৯৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে অংশগ্রহণের পূর্বে ম্যাচ ফি’র বিষয়ে আর্থিক মতানৈক্য ঘটায় পাঁচজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে খেলা থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন। তবে, ববি অ্যাবেল ও টম হেওয়ার্ডের সাথে তিনি খেলায় অংশ নেন। তবে, উইলিয়াম গান ও জর্জ লোহমান খেলতে অস্বীকৃতি জানান। খেলায় তিনি ১* ও ১০* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২২ ও ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৬৬ রানে পরাভূত হলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। নিজের শেষ টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং করেন। মাত্র ১৪ টেস্টে এগারোবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ৮/৯৪ ও ২/১১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তিনি ১ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৮৯৭ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২ জুলাই, ১৯১২ তারিখে ফ্রান্সের সেন্ট জ্য ডার্ভি এলাকায় মাত্র ৪১ বছর ৩২৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    মার্কুইনো মিন্ডলে

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জ্যামাইকা তল্লাজের পক্ষে খেলেছেন। ১৪ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে কিংস্টনে…

  • | | |

    অরবিন্দ ডি সিলভা

    ১৭ অক্টোবর, ১৯৬৫ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতার স্বাক্ষর রেখেছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। পিতা স্যাম তাঁর উপযোগী বিদ্যালয় খুঁজে বের করতে বেশ হিমশিম খেয়েছিলেন। অবশেষে ডিএস সেনানায়েকে কলেজ আরআইটি অ্যালিসের অধ্যক্ষকে প্রথম গ্রেডে ভর্তি করাতে সক্ষম হন। খুব…

  • |

    ম্যান্ডি মিচেল-ইন্স

    ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯১৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সেডবার্গে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। সেডবার্গে থাকাকালীন অসাধারণ বিদ্যালয় বালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। একবার তিনি অভ্যন্তরীণ খেলায় ৩০২…

  • | | | |

    আলবার্ট ট্রট

    ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৩ তারিখে মেলবোর্নের অ্যাবটসফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে স্লো বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৮৯০-এর দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত অ্যাডোল্ফাস হেনরি ট্রট ও ইংরেজ রমণী মেরি অ্যান দম্পতির সন্তান ছিলেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জর্জ হেনরি স্টিভেন্স ট্রটের…

  • |

    গর্ডন রো

    ৩০ জুন, ১৯১৫ তারিখে স্কটল্যান্ডের লানার্কশায়ারের গ্লাসগোতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ১৯৪০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটন ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৬ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রসঙ্গতঃ…

  • | | |

    জেফ থমসন

    ১৬ আগস্ট, ১৯৫০ নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রীনাক্রে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘থম্মো’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুম থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে…