| | |

ওয়াল্টার রিড

২৩ নভেম্বর, ১৮৫৫ তারিখে সারের রেইগেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট কিংবা ডানহাতে স্লো বোলিং করতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রবার্ট রিড ও এলিজাবেথ জেন দম্পতির পুত্র ছিলেন। রেইগেট প্রায়োরি স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ছিলেন তাঁর পিতা। রেইগেট প্রায়োরি ক্লাবের পক্ষে তেরো বছর বয়সে টনব্রিজের বিপক্ষে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দীর্ঘদিন বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। ১৮৭৩ থেকে ১৮৯৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সারের সম্পাদক চার্লস উইলিয়াম অ্যালকক তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর থেকে ১৮৮৭ ও ১৮৯৫ সাল বাদে প্রত্যেক বছরের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী সারে দলের সদস্য ছিলেন।

১৮৮০-এর দশকের শেষদিকে নিজের স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করেছিলেন। জুন, ১৮৮৭ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে উপর্যুপরী খেলায় যথাক্রমে ২৪৭ ও অপরাজিত ২৪৪ রান তুলেছিলেন। এর পরের বছর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ৩৩৮ রান তুলেছিলেন।

১৮৮২ থেকে ১৮৯৩ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে আঠারো টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮২-৮৩ মৌসুমে ইভো ব্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩০ ডিসেম্বর, ১৮৮২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চার্লস লেসলি, এডমন্ড টাইলকোট, জর্জ স্টাড, জর্জ ভার্নন ও ইভো ব্লাইয়ের সাথে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৯ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৮৮৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ঐ বছর নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ আগস্ট, ১৮৮৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। দশ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১৭ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এ অবস্থানে এটিই সর্বোচ্চ রান হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে। এ পর্যায়ে উইলিয়াম স্কটনের (৯০) সাথে ১৫১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ১১৩ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে শতক হাঁকান। তজ্জন্যে তিনি ৩৬টি স্ট্রোক মারেন। খেলায় তিনি দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ ০/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৮৮৭-৮৮ মৌসুমে আলফ্রেড শ’আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১০ ও ৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে চার্লি টার্নারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১২৬ রানে পরাভূত হয়।

দুইবার ইংরেজ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে উভয়ক্ষেত্রেই দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। ১৮৯১-৯২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে এমসিসি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৯ মার্চ, ১৮৯২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮৯ রানে জয়লাভ করে।

১৮৯৩ সালে নিজ দেশে জ্যাক ব্ল্যাকহামের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৪ আগস্ট, ১৮৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ ও ০* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৬৬ খেলায় অংশ নিয়েছেন। ১৮৭৭ থেকে ১৮৯৫ সময়কালে জেন্টলম্যানের সদস্যরূপে প্লেয়ার্সের বিপক্ষে তেইশ খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৮৮৫ সালে ওভালে ১৫৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। সারে দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ওভালে শেষ দুই বছর তরুণ খেলোয়াড়দেরকে প্রশিক্ষণ দেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। ৬ জানুয়ারি, ১৯০৭ তারিখে সারের বিংহাম রোড এলাকায় অবস্থিত নিজ গৃহে ৫১ বছর ৪৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। শার্লি সমাধিক্ষেত্রে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এর নয় বছর পূর্বে তিনি সারে প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়েন ও প্রথম-শ্রেণীর খেলা ছেড়ে দেন। তাঁর কাউন্টি অধিনায়ক জন শাটার ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত ‘অ্যানালস অব ক্রিকেট’ শিরোনামীয় গ্রন্থে তাঁকে আদর্শ ক্রিকেটার হিসেবে চিত্রিত করেন।

Similar Posts

  • | | |

    ওয়াল্টার রবিন্স

    ৩ জুন, ১৯০৬ তারিখে স্টাফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। যুদ্ধের পূর্বে স্টাফোর্ডশায়ারের পক্ষে অংশগ্রহণকারী পিতা ও পরবর্তীতে ল্যাঙ্কাশায়ারের সাবেক পেশাদার ক্রিকেটার আলবার্ট নাইটের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন।…

  • | | |

    ওয়াসিম আকরাম

    ৩ জুন, ১৯৬৬ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘সুইংয়ের সুলতান’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। স্বপ্নবাজ ক্রিকেটার হিসেবেও সবিশেষ সুনাম কুড়ান। স্বর্ণালী সময়ে অধিকাংশ তরুণ বোলারের স্বপ্নের তারকা…

  • | | |

    মার্ক বাউচার

    ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ইস্ট লন্ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৬৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ভার্ডন…

  • | | | |

    নজর মোহাম্মদ

    ৫ মার্চ, ১৯২১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, আম্পায়ার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে…

  • |

    রাজেশ চৌহান

    ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে বিহারের রাঁচিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশ…

  • |

    হ্যারি আলেকজান্ডার

    ৯ জুন, ১৯০৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার অ্যাস্কট ভেল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘বুল’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন ও ‘বুল আলেকজান্ডার’ নামেই অধিক পরিচিতি পেয়েছিলেন। শক্ত-সামর্থ, প্রশস্ত বক্ষের অধিকারী ছিলেন। বলে পেস আনয়ণ করতেন ও…