৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫১ তারিখে ত্রিনিদাদের সেন্ট অ্যান্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কত্ব করেন।
ত্রিনিদাদের গভর্নর তৃতীয় ব্যারন হ্যারিস ও ত্রিনিদাদের আর্চডিকন জর্জ কামিন্সের কনিষ্ঠ কন্যা সারা দম্পতির একমাত্র পুত্র ছিলেন। ১৮৬৪ সালে এটন কলেজে ভর্তি হন। খুব শীঘ্রই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। এখানে অধ্যয়নকালীন শেষ তিন বছর বিদ্যালয়ের প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পান। ১৮৭০ সালে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন। এরপর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৭০ সাল থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
১৮৭০ সালে হ্যারো স্কুলের বিপক্ষে একটি খেলায় বোলিংকালে ব্যাটসম্যান পপিং ক্রিজ ছেড়ে চলে গেলে তিনি বেইল ফেলে দেন ও এটন দলকে ২১ রানে জয় এনে দেন। ১৮৭১ সালে অক্সফোর্ডের ক্রাইস্টচার্চে ভর্তি হন। ১৮৭৫ সালে সেখান থেকে বিএ শ্রেণীতে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৮৭১, ১৮৭২ ও ১৮৭৪ সালে তিন বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম একাদশে খেলেন। পরবর্তীতে ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেও বিশ্ববিদ্যালয় দলে সাধারণমানের ছিল।
১৮৭৯ থেকে ১৮৮৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুমে শৌখিন দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ২ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। আলেকজান্ডার ওয়েব, মাঙ্কি হর্নবি, বানি লুকাস, চার্লি অ্যাবসলম, ফ্রান্সিস ম্যাককিনন, লেল্যান্ড হোন, স্যান্ডফোর্ড শ্যুলজ ও দ্য রেভারেন্ড ভার্নন রয়েলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৩ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।
১৮৮০ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। ৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৮০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এরফলে ইংল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করে।
১৮৮৪ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জয়লাভে অংশ নেন।
একই সফরের ১১ আগস্ট, ১৮৮৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১৪ ও ৬* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৮৭২ সালে স্বীয় পিতার মৃত্যুর পর চতুর্থ লর্ড হ্যারিস উপাধি ধারণ করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দুই বছর পর ৮ জুলাই, ১৮৭৪ তারিখে লুসি অ্যাডা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। জর্জ সেন্ট ভিনসেন্ট নামীয় একমাত্র পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। ২৪ মার্চ, ১৯৩২ তারিখে কেন্টের বেলমন্ট এলাকায় ৮১ বছর ৫০ দিন বয়সে নিজ গৃহে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যু পরবর্তীকালে ১১ আগস্ট, ১৯৩২ তারিখের হিসেব অনুযায়ী £৫৭,১৫২ পাউন্ড-স্টার্লিং মূল্যমানের সম্পদ রেখে যান। তাঁর মৃত্যুর পর জর্জ সেন্ট ভিনসেন্ট পঞ্চম ব্যারন হিসেবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।
