৪ নভেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯ বছর বয়সে ক্যান্টারবারির সদস্যরূপে অকল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। খেলায় তাঁর দল নয় উইকেট জয়লাভ করে। তিনি ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ও স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। ১৯৯০ সালে ওয়েলিংটনের বিপক্ষে বার্ট ভ্যান্সের এক ওভার থেকে ৭৭ রান সংগ্রহের ঘটনায় যুক্ত হন। ১৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তাঁর অধিনায়কত্বে ক্যান্টারবারি দল ১৯৯১-৯২, ১৯৯২-৯৩, ১৯৯৩-৯৪, ১৯৯৫-৯৬ ও ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমের শেল কাপের ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করে। এছাড়াও, তিনবার প্রথম-শ্রেণীর শিরোপা বিজয় করে। পাশাপাশি, ১৯৯২ সালে টি২০ ক্রিকেটের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত একশন ক্রিকেট ট্রফির শিরোপা লাভ করে।
শিশু অবস্থায় টেনিস খেলা দেখতে যান। ভুল মাঠে উপস্থিত হন। ব্লেনহেইমের হর্টন পার্কে ক্রিকেট খেলা দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিকেটের প্রতি আসক্তি হয়ে পড়েন। কিশোর বয়সে ক্রিকেট না খেললেও দেখতেন। অনেকগুলো ক্রিকেট সম্পর্কীয় পুস্তক অধ্যয়ন করেন ও অতীতের সেরা টেস্ট খেলার বিষয় ভাবনায় আনেন। এক পর্যায়ে নিজেকে উইকেট-রক্ষণে ও ব্যাটিংয়ে সিদ্ধহস্তের অধিকারী করে তুলেন।
১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১২ টেস্ট ও ৩৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। স্বীয় প্রতিভাগুণে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। টেস্ট অভিষেকে নিউজিল্যান্ডের নেতৃত্ব দেয়ার ন্যায় বড় ধরনের ঘটনার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। দলের সঙ্কটকালীন অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যতম সুপরিচিত অধিনায়ক ছিলেন। জাতীয় দল শৃঙ্খলাহীন হয়ে পড়লে কোচ গ্লেন টার্নার পরিবর্তন আনতে তাঁকে দলে অধিনায়ক হিসেবে যুক্ত করেন। ১৮ অক্টোবর, ১৯৯৫ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, টেস্ট অভিষেকে ৩২তম ক্রিকেটার হিসেবে অধিনায়কত্ব করার গৌরবের অধিকারী হন। উভয় ইনিংসে আট নম্বর অবস্থানে মাঠে নামেন। খেলায় তিনি ৪৮ ও ৪১ রান সংগ্রহ করেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। এরপূর্বে ৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে ব্লুমফন্তেইনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচনা ঘটান।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে কিউই দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৭ এপ্রিল, ১৯৯৬ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৪৯ রান সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান তুলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে কিউই দলের নেতৃত্বে থেকে পাকিস্তান গমন করেন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তান দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৯ রান অতিক্রম করেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৫৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ জাহিদের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১০ ও ১১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ ও সমসংখ্যক স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। গ্রাহাম থর্পের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৬৮ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
