|

মার্ক গ্রেটব্যাচ

১১ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বেশ দেরীতে খেলার জগতে অংশ নেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডীয় ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ৪৫.৪০ গড়ে ৬৮১ রান তুলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।

১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৪১ টেস্ট ও ৮৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংরেজ বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে একাগ্রচিত্তে শতক হাঁকানোর কৃতিত্বের অধিকারী হন। তিনি ১০৭ রান তুলে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জন রাইটের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যান। ১২ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৮৯-৯০ মৌসুমে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৪ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ২৯ রানে পৌঁছানোকালে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন ১০৭ রানের সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৭৬ ও ১৪৬* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অবশ্য খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ৭ জুন, ১৯৯০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মাইক অ্যাথার্টনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯০-৯১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। ১০ অক্টোবর, ১৯৯০ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৪৩ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শোয়েব মোহাম্মদের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪৩ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দারুণ খেলেছিলেন ও বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরাতেন। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পূর্বে টেস্ট ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অগ্রসর হয়েছিলেন। ২১ মার্চ, ১৯৯২ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ খেলেন। কার্টলি অ্যামব্রোসের উপর এক চোট নেন। ফাস্ট বোলিংয়ের রাজা ম্যালকম মার্শালের বলে আলতো ছোঁয়ায় ডিপ অঞ্চল দিয়ে ছক্কা হাঁকান। পুরো বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষীয় বোলিং আক্রমণ রুখে দিয়ে ওয়ারেন লিসের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও অধিনায়ক মার্টিন ক্রো’র সহায়তায় নিউজিল্যান্ড দল সেমি-ফাইনালে নিয়ে যান।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ১ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮৭ ও ৮৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। স্মর্তব্য যে, জিম্বাবুয়ে-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এটিই ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট ছিল।

একই মৌসুমে নিজ দেশে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ১৩৩ ও ৮ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩৩ রানে পরাজিত হয়।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তান দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ জাহিদের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • | |

    রশীদ খান, ১৯৯৮

    ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে নানাগড়হর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আফগানিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কনিষ্ঠ অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। স্বল্প কয়েকজন বোলারের অন্যতম হিসেবে পরপর চার বল থেকে চার…

  • | |

    স্যাম কুক, ১৯২১

    ২৩ আগস্ট, ১৯২১ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের টেটবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • | |

    মোহাম্মদ নবি

    ১ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে সোভিয়েত যুদ্ধ পরবর্তী আফগানিস্তানের লোগার প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি পান। ডানহাতে মাঝারিসারিতে দূর্দান্ত খেলেন। পাশাপাশি আলতো অফ-স্পিন বোলিংয়ে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। আফগানিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দলের প্রথম ওডিআই ও প্রথম টেস্টের সাথে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি, আফগানিস্তান দলের অধিনায়কত্বের…

  • | |

    রফিকুল খান

    ৭ নভেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রাজশাহীর ক্রিকেট অঙ্গনে অন্যতম খ্যাতিমান ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    সোহরাওয়ার্দী শুভ

    ২১ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। গতিসম্পন্ন বামহাতি অর্থোডক্স বোলিং করেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে পছন্দের বোলারদের তালিকায় সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন। স্বল্পকালীন সময় বাংলাদেশ দলে অবস্থান করে সীমিত পরিসরে…

  • | |

    ক্রিস কেয়ার্নস

    ১৩ জুন, ১৯৭০ তারিখে মার্লবোরার পিকটনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পাশাপাশি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ডানহাতে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে বিপজ্জ্বনক মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। তাঁর…