|

ইয়ান চ্যাটফিল্ড

৩ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে মানাওয়াতোর ডানভির্কে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

স্বতঃস্ফূর্তভাবে সজীব বোলিং করতেন। তবে, তাঁকে সর্বদাই স্যার রিচার্ড হ্যাডলি’র সাফল্যে ম্লান হয়ে থাকতে হতো। তাসত্ত্বেও, উভয়ে নিউজিল্যান্ডের উত্তরণে বিরাট ভূমিকা রাখতেন। নিখুঁতমানের বোলিং করে ১৯৮০-এর দশকে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন।

১৯৭৫ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৪৩ টেস্ট ও ১১৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ডেনিসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জিওফ হাওয়ার্থের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে প্রথম ইনিংসে টনি গ্রেগের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ রান সংগ্রহ করে রিটায়ার্ড হার্ট হন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৩ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

কিছু কারণে ঐ খেলায় নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। সতীর্থ অপর অভিষেকধারী জিওফ হাওয়ার্থকে (৫১*) নিয়ে ইংরেজ বোলারদেরকে হতাশায় ফেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সংগ্রহ ১৮৪/৯ থাকাকালীন পেস বোলার পিটার লিভারের বাউন্সারে কপালের বামদিকে গুরুতর চোঁট পান। তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হলে ইংল্যান্ডের ফিজিও বার্নার্ড থমাসের প্রাণান্তঃকর প্রচেষ্টায় জীবন ফিরে পান। অ্যাম্বুলেন্সের চালক জন মে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় পিটার লিভার ঐদিন দুইবার হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। দুই বছর পূর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাকালীন প্রায় মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসার পর প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নামেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে অ্যালান টার্নারের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ০/৯৫। খেলায় তিনি ৩/১২৫ ও ০/৩৪ লাভ করেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ পর্যায়ে মাত্র এক উইকেট হাতে রেখে তাঁর দল ফলো-অন এড়াতে সক্ষম হয়েছিল। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে এমএইচএন ওয়াকারকে বিদেয় করে টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/১২৫। খেলায় তিনি ৪/১০০ ও ০/১৫ লাভ করেন। এছাড়াও, ০* ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা প্রায় দুইদিন বাকী থাকতেই ১০ উইকেটে জয় তুলে নিলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯৮২-৮৩ মৌসুমে নিজ দেশে সোমাচন্দ্র ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১১ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/১০০। খেলায় তিনি ৪/৬৬ ও ৩/১৫ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক দল ৬ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। প্রসঙ্গতঃ এটিই নিউজিল্যান্ডের প্রথমবারের মতো উপর্যুপরী দ্বিতীয় টেস্ট জয় ছিল।

ইংল্যান্ডে আঘাতের বিষয়টি বাদ দিলেও বেশ কিছু স্মরণীয় সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়িয়েছেন। ১৯৮৩ সালে লিডসে ইংল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের প্রথম বিজয়ে অংশ নিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৯৫ নিয়ে প্রতিপক্ষকে নাস্তানুবাদ করে ছাড়েন। মামুলী ১০১ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ উইকেট হাতে রেখে তাঁর দল জয় নিশ্চিত করে।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২৪ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে কলম্বোর সিসিসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৯৫। বল হাতে নিয়ে ৫/৬৩ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে তিনি ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৬১ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৮৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ খেলেন। পোর্ট অব স্পেনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৪/৫১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬/৭৩ পান। এরফলে, টেস্টে তিনি তাঁর প্রথম ও একমাত্র ১০ উইকেট লাভের কৃতিত্ব দেখান।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ১৬ নভেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬* ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫৭ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইকবাল কাশিমের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

ব্যাট হাতে নিয়েও নিপুণতার ছাঁপ তুলে ধরেছেন। একই মৌসুমে নিজ দেশে ফিরতি সফরে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩ রান অতিক্রম করেন। ২৭৮ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২২৮/৮ হয়। ল্যান্স কেয়ার্নস আঘাতের কারণে রিটায়ার হার্ট হন। এ পর্যায়ে জেরেমি কোনি’র সাথে ৬০ রানের নিরবচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। ১০৪ মিনিটে ৮৪ বল মোকাবেলায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ও এ পর্যায়ে এ সংগ্রহটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ রান ছিল। ওয়াসিম আকরামের অনবদ্য বোলিংশৈলী স্বত্ত্বেও স্বাগতিকরা দুই উইকেটে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট খেলেন। জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৯ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে এমএ হোল্ডিংকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৬/৭৩। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৫১ ও ৬/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সব মিলিয়ে এ টেস্টে ১২৪ রান খরচায় খেলোয়াড়ী জীবনের প্রথম ও একমাত্র দশ উইকেট পান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক ভিভ রিচার্ডসের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

ব্রেন্ডন কুরুপ্পু’র সর্বকালের ধীরগতির দ্বি-শতরানের টেস্টে ডন অনুরাসিরিকে কট বিহাইন্ডে বিদেয় করে নিজস্ব ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

নিজস্ব দ্বিতীয় ওডিআইয়ে স্মরণীয় সাফল্য পান। এরফলে, ১৯৮০ সালে অ্যাডিলেডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দল তিন উইকেট জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। ক্রমাগত নিখুঁতমানের বোলিং করতে থাকেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ বড় ধরনের অবদান রাখেন। তিন খেলা থেকে ১৫ গড়ে ১৩ উইকেট দখল করেন।

১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৮ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/২৯ ও ৩/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। রিচার্ড হ্যাডলি’র অনবদ্য অল-রাউন্ড সাফল্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪১ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২২ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। জন ব্রেসওয়েলের প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ মার্চ, ১৯৮৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/৩০ ও ১/৪২ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। রিচার্ড হ্যাডলি’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। তাঁদের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সমর্থ হয়।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ভারত সফরে যান। ১২ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৫৩ ও ০/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড় সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, ১/১৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জাভেদ মিয়াঁদাদের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৮৯ সালের পর অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ১১৪টি ওডিআই থেকে ২৫.৮৪ গড়ে ১১২ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, ওভারপ্রতি তিনি মাত্র ৩.৫৭ রান খরচ করেছেন। অবসর গ্রহণের পর বিভিন্ন কাজে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় ক্রিকেট ক্লাব হাট ভ্যালি অ্যাসোসিয়েশনের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। তবে, ক্লাবটি ওয়েলিংটনের সাথে একীভূত হলে তাঁকে এ দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হয়। চিপের দোকান, বার্তাবাহক ও দুগ্ধখামারে ভ্যান চালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। মাঠে ঘাষ কাটতেন ও ওয়েলিংটনভিত্তিক কর্পোরেট ক্যাবসের পক্ষে ক্যাব চালকের দায়িত্বে ছিলেন।

Similar Posts

  • |

    জো পারট্রিজ

    ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ তারিখে রোডেশিয়ার বুলাওয়ে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ্বে অন্যতম সেরা সুইং বোলার ছিলেন। সুদর্শন ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। খেলায় বেশ প্রতিদ্বন্দ্বীসুলভ মনোভাব নিয়ে খেলতেন। নিখুঁততা, অসম্ভব…

  • | | |

    লাসিথ মালিঙ্গা

    ২৮ আগস্ট, ১৯৮৩ তারিখে গল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়েও পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেপারমাডু মিল্টন ও স্বর্ণা থিনুয়ারা দম্পতির সন্তান। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি…

  • | |

    গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার

    ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭০ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। হারারেভিত্তিক সেন্ট জর্জেস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০১০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • | | |

    বব ওয়াট

    ২ মে, ১৯০১ তারিখে সারের মিলফোর্ড হিদ হাউজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ও বিখ্যাত ক্রিকেটার এবং প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কভেন্ট্রিভিত্তিক রাজা অষ্টম হেনরি স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল এয়ার ফোর্সের পাইলট অফিসার হিসেবে…

  • | | |

    আগা সাদত আলী

    ১১ জুন, ১৯২৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। ইমতিয়াজ আহমেদ, খান মোহাম্মদ ও পার্সি ক্রিকেটার রুসি দ্বিনশ’য়ের সাথে তাঁকে তুলনা করা হতো। পাকিস্তানের ক্রিকেটের শুরুর দিনগুলোয় প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | |

    প্রণব রায়

    ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ভাগ্যকূলের অভিজাত ধনী জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন। সচরাচর পঙ্কজ রায়ের সন্তান হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেককালীন পিতা ইতোমধ্যে বাংলা…