১ জুন, ১৯৩২ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ডানহাতি মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। বলকে উভয় দিক দিয়েই সুইং করানোয় দক্ষ ছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনে নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটীয় কৌশল গ্রহণে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুম থেকে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ১৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। এ সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের সাফল্যে প্রধান ভূমিকা রাখেন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্টি ডিক, গ্যারি বার্টলেট, পল বার্টন ও ডিক মোৎজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় ৯২ রান খরচায় ৬ উইকেট দখল করেন। পরবর্তীতে, ১৯৯৮ সালে পল ওয়াইজম্যান টেস্ট অভিষেকে ১৪৩ রান খরচায় ৭ উইকেট দখল করে নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলিং সাফল্যের নজির গড়েন। খেলায় তিনি ৩/৬০ ও ৩/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ০* ও ১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে জড়ান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে জেএইচবি ওয়েটকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৩২। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/৮৩ ও ০/৫০ পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১ জানুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৮৩। খেলায় তিনি ৫/৪৮ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২* ও ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭২ রানে পরাজিত হলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। প্রসঙ্গতঃ এটিই নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ও বিদেশের মাটিতে প্রথম জয় ছিল।
১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০ রান অতিক্রম করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসেই কেন ব্যারিংটনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, ২/৯৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪৭ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৪৮। এছাড়াও, ৭০ রান খরচায় ৯ উইকেট লাভ করে নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তানের মধ্যকার তৎকালীন সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৪/৩৬ ও ৫/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে আসিফ ইকবালের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ঐ খেলায় তিনি ২/২৯ ও ১/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৮* রান তুলেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
একই মৌসুমে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ফিরতি সফরে পাকিস্তান গমন করেন। ৯ এপ্রিল, ১৯৬৫ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৯ ও ১০* রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে দশম উইকেটে বেভান কংডনের সাথে ১০৮ মিনিটে ৬৩ রানের জুটি দাঁড় করিয়ে নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড দাঁড় করান। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭০ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
১৯৬৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২৭ মে, ১৯৬৫ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১১৭ ও ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪* ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৭ জুন, ১৯৬৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩* ও ৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৪০ ও ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সচরাচর এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে অংশগ্রহণকৃত চৌদ্দ ইনিংসে মাত্র দুইবার বিদেয় নিয়েছিলেন। ঐ সফরে ৪৫ গড়ে শীর্ষে অবস্থান করেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনটি টেস্ট ও পাঁচটি ওডিআই পরিচালনা করেন। ক্রিকেটে অসামান্য ভূমিকা গ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ এমবিই পদবীতে ভূষিত হন। এছাড়াও, এপ্রিল, ২০০৩ সালে নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অসামান্য ভূমিকা গ্রহণে বার্ট সাটক্লিফ পদক লাভ করেন।
২ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে ৯০ বছর ২১৫ দিন বয়সে ক্রাইস্টচার্চে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
