১৯ জুলাই, ১৯৭৯ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। কিশোর বয়সে বাস্কেটবলে অংশ নিতেন ও পরবর্তীতে ক্রিকেটে ফাস্ট বোলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের ইতিহাসের দ্রুততম বোলারের মর্যাদা পেয়েছেন। বিদ্যালয় জীবনে বাস্কেটবল খেলাকালে কোচের পরামর্শক্রমে ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এরপর, ১৯৯৮ সালে শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বোলিং আক্রমণে ক্রমাগত সাফল্য লাভের প্রেক্ষিতে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে থেকে ২০১৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এশিয়া একাদশ ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৮ সালে সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। পরবর্তীতে, জাতীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। এ পর্যায়ে বেশ কয়েক বছর ধরে চামিণ্ডা ভাসের সাথে বোলিং জুটি গড়েন ও পরবর্তীতে লাসিথ মালিঙ্গা’র সাথে বোলিং আক্রমণে অংশ নেন। আঘাতের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল।
২০০০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ৪০ টেস্ট, ১৪৭টি ওডিআই ও ১৮টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০০ সালে নিজ দেশে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জুন, ২০০০ তারিখে নিজ শহর কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় তিনি মাত্র ২ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ২/৫৩ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ওয়াসিম আকরামের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০০-০১ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাঁকে দলের সদস্য করা হয়। ৯ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে পার্লের বোল্যান্ড পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। বেশ রান গচ্চা দিয়ে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছিলেন।
১৫ জুন, ২০০৬ তারিখে সাউদাম্পটনের রোজ বোলে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। এ পর্যায়ে পেস ও বাউন্সে প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। খুব শীঘ্রই বোলিংয়ে বিরাট প্রভাব ফেলতে শুরু করেন। সাজঘরে চামিণ্ডা ভাস ও অন্যান্য পেসারের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে থাকেন। বেশ কয়েকবার ঘণ্টাপ্রতি দেড়শত কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করেছেন।
টেস্ট ক্রিকেটে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। তবে, একদিনের দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। খেলার শেষদিকের ওভারগুলোয়ও সুন্দর বোলিং করতে থাকেন ও শ্রীলঙ্কার বেশ কিছু খেলায় জয়লাভে ভূমিকা রাখেন। এক পর্যায়ে কুশলী ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে ধীরলয়ে বোলিংয়েও সিদ্ধহস্তের অধিকারী হন। ২০০৭ সালে আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৬/২৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।
২০০৭ ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা দলের মূল সদস্যের মর্যাদা পান। তন্মধ্যে, ২০০৭ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ খেলায় চমৎকার বোলিং করে বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা শচীন তেন্ডুলকরকে বোল্ড করে সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন। চূড়ান্ত খেলায় দলের সদস্যরূপে খেলেছিলেন।
আঘাতের কারণে নিজ দেশে ২০০৪ সালে অজিদের বিপক্ষে খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হন। দলে আসা-যাবার পালায় থাকেন। এছাড়াও, নিখুঁত নিশানা বরাবর বোলিং করা থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে থাকেন। পিচের সর্বত্র বল ফেললেও কোন ধারাবাহিকতা ছিল না। ফলশ্রুতিতে, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন ঝুঁকির দিকে চলে আসতে থাকে। ২০১২ সালে দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর থেকে দলে পুণরায় ফিরে আসতে তাঁকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পাশাপাশি, উদীয়মান নুয়ান কুলাসেকারা এবং খণ্ডকালীন বোলারদ্বয় – অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও থিসারা পেরেরা’র আগমনে দলে ফেরার পথকে আরও রুদ্ধ করে দেয়।
২০১২ সালে নিজ দেশে মোহাম্মদ হাফিজের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুলাই, ২০১২ তারিখে পল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ০/৪৮ ও ৩/৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। আসাদ শফিকের ব্যাটিং দৃঢ়তায় টেস্টটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। টেস্টগুলো থেকে ৩৭.৮৪ গড়ে ১০০ উইকেট ও ওডিআই থেকে ৩০.২০ গড়ে ১৮৭ উইকেট দখল করেছিলেন।
এসএলপিএলের উদ্বোধনী আসরে ইউভা নেক্সটের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১০ খেলা থেকে ১৭ উইকেট পেয়েছেন। চার মৌসুমে দলটিতে খেলেছেন। ২০০৮ সালে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। ক্রিকেটবিশ্বের অন্যতম সেরা কুশলী পেসারের মর্যাদা পেয়েছেন। বেশ মজবুত গড়ন নিয়ে ডানহাতে বেশ দূরন্ত গতিবেগে পেস বোলিং করে থাকেন। তবে, শ্রীলঙ্কা দলে তাঁর প্রতিশ্রুতিশীলতা পরবর্তীকালে বাস্তবায়ন করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কা দলের অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা পেলেও ক্রমাগত আঘাতের কারণে খেলোয়াড়ী জীবনে বিঘ্ন ঘটায়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ইরেশা ফার্নান্দো নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।
