|

ম্যালকম ওয়ালার

২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে হারারে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারের সন্তান। পিতা অ্যান্ডি ওয়ালার ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কাকাতো ভাই নাথান ওয়ালার জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে নিজ প্রচেষ্টায় ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনে অংশ নেন।

২০০০ সালে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৫ দলে খেলেছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রালস, ম্যাশোনাল্যান্ড ও মিড ওয়েস্ট রাইনোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা ডায়নামাইটসের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ এপ্রিল, ২০০৮ তারিখে কেউইকেউইয়ে অনুষ্ঠিত সেন্ট্রালস বনাম ওয়েস্টার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৪ সালে ম্যাশোনাল্যান্ডের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ফেইদওয়্যার একদিনের প্রতিযোগিতায় খেলেন। এ পর্যায়ে তাঁর খেলার মান বেশ সাধারণ ধাঁচের ছিল। কিন্তু, ২০০৭-০৮ মৌসুমে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে যুক্ত হবার পর নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হন। টি২০ ক্রিকেট বাদে এ সময়েও সাধারণ মানে অবস্থান করেন। ভিগনে কাপে অপূর্ব ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্ট, ৭৯টি ওডিআই ও ৩২টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে বাংলাদেশ সফরে যাবার জন্যে মনোনীত হন। ৯ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে। ৪৮ বলে ২৪ রান তুলেন ও জিম্বাবুয়ে দলে চার বল বাকী থাকতে ২ উইকেটে জয় তুলে নেয়। ঐ মৌসুমের শেষদিকে কেনিয়ার বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ধাঁচে ৬৩ রান তুলেন। এরফলে, দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন ও জিম্বাবুয়ে দল সিরিজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারপূর্বক সিরিজ জয় করে।

দুই বছর পর ব্যক্তিগত সাফল্যকে ছাঁপিয়ে যান। ২০১১ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৪ বলে ৯৯ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। বুলাওয়েতে সিরিজের তৃতীয় ওডিআইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২৯ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করে শেষ ওভারে নাটকীয় জয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। এরফলে, প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়।

১ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত রস টেলরের নেতৃত্বাধীন সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। এনজাবুলো এনকুবে ও রেজিস চাকাভা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ১৩৩ বল মোকাবেলা করে ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন। কিন্তু, দ্বিতীয় ইনিংসে ৬২ বলে ২৯ রান তুলে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র এলবিডব্লিউতে বিদেয় নেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৩৪ রানে পরাজয়বরণ করে।

ডিসেম্বর, ২০১৪ সালে আইসিসি থেকে সন্দেহজনক বোলিং ভঙ্গীমা প্রদর্শনের কারণে নিষেধাজ্ঞার কবলে পরেন। এরফলে অনেকগুলো দিন কোন খেলায় অংশ নিতে পারেননি। ১৫ জুলাই, ২০১৮ তারিখে জিম্বাবুয়ের ওডিআই দল থেকে বাদ পড়েন।

২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৯ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ১৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, সিকান্দার রাজা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়ানৈপুণ্যের কারণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে ১-০ ব্যবধানে তাঁর দল সিরিজে পরাজিত হয়েছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপূর্বে প্রথম টেস্টের উভয় ইনিংসে ১১ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন।

Similar Posts

  • | |

    ইয়ান ব্ল্যাকওয়েল

    ১০ জুন, ১৯৭৮ তারিখে ডার্বিশায়ারের চেস্টারফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ২০০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘ব্ল্যাকডগ’, ‘ডাঙ্কি’ কিংবা ‘লি ডঙ্ক’ ডাকনামে পরিচিতি ইয়ান ব্ল্যাকওয়েল ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ম্যানর সেকেন্ডারি স্কুলে…

  • |

    লরি ফিশলক

    ২ জানুয়ারি, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের ব্যাটারসী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ব্যাপক অর্থেই কাউন্টি খেলোয়াড় হিসেবে সফলতা পেয়েছেন। কিছুটা দেরীতে ২৮ বছর বয়সে কাউন্টি ক্যাপ লাভের অধিকারী হন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি…

  • |

    মোহাম্মদ সেলিম

    ১৫ অক্টোবর, ১৯৮১ তারিখে খুলনার ফেরিঘাট এলাকায় জন্ম। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলায় ভূমিকা পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকের শুরুরদিকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরে প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের পক্ষে…

  • |

    হরভজন সিং

    ৩ জুলাই, ১৯৮০ তারিখে পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে অবদান রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। সরদার সরদেব সিং প্লাহা ও অবতার কৌর দম্পতির সন্তান ছিলেন। ভারতের অন্যতম সেরা অফ-স্পিনারের মর্যাদা পেয়েছেন।…

  • | |

    জাহাঙ্গীর খান

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯১০ তারিখে তৎকালীন পাঞ্জাব প্রদেশের জলন্ধরের বাস্তি গুজান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দ্রুততর বোলিং করতেন ও বলে পর্যাপ্ত পেস আনয়ণে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। মোহাম্মদ নিসার ও অমর সিংয়ের যোগ্য…

  • | |

    টিই শ্রীনিবাসন

    ২৬ অক্টোবর, ১৯৫০ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আয়ানগর পরিবারে তাঁর জন্ম। নাঙ্গামবাক্কাম কর্পোরেশন স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। সেখানকার কংক্রিটের পিচে অনুশীলন করতেন। বিদ্যালয়ের পেস বোলারদের বিপক্ষে দারুণ খেলতেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে…