|

সাঞ্জামুল ইসলাম

১৭ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০৯ সালে রাজশাহী বিভাগের পক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। দারুণ খেলে প্রতিপক্ষীয় সিলেটের চার উইকেট পান। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে উত্তরাঞ্চল ও রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস, মিনিস্টার রাজশাহীর পক্ষে খেলেছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে খুলনায় ঢাকা বিভাগ বনাম রাজশাহী বিভাগের খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এপ্রিল, ২০১৪ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। ১৭২ রানের মনোমুগ্ধকর শতক হাঁকিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে দলকে ৪০৩ রানে জয় এনে দেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের দ্বিতীয় পর্বে উত্তরাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এ পরিসংখ্যানটি বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সেরার মর্যাদা লাভ করে। ঐ প্রতিযোগিতায় ২৫ উইকেট দখল করেছিলেন। এরফলে শুভাগত হোমের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।

বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল ঢাকা ডায়নামাইটসের পক্ষে টি২০ খেলায় বল হাতে দারুণ ছন্দে অবস্থান করেন। ২০১৬ সালের আসরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে সমিত প্যাটেল ও জেমস ফ্রাঙ্কলিনের উইকেট নিয়ে ২/১৭ লাভ করেন। অক্টোবর, ২০১৮ সালে চিটাগং ভাইকিংস দলের সদস্য হন। ২০১৮-১৯ মৌসুমের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের খসড়া তালিকায় ছিলেন। উত্তরাঞ্চলের পক্ষে ছয় খেলায় ২৯ উইকেট দখল করে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। নভেম্বর, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।

২০১৭ থেকে ২০১৮ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। মার্চ, ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আই ও একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ দলের সদস্য হন। তবে, ঐ সিরিজের কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। পরের মাসে একই দলের বিপক্ষে টি২০আইয়ে রাখা হলেও আবারও খেলার সুযোগ লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন। ঐ মাসের শেষদিকে আয়ারল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের অংশগ্রহণে ত্রি-দেশীয় সিরিজ ও ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের ওডিআই দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯ মে, ২০১৭ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। প্রথম ওভারেই এড জয়েসকে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটের সন্ধান পান। আটোসাঁটো বোলিং করে ২/২২ লাভ করে দলের ৮ উইকেটের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে, সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় তাঁকে খেলানো হয়নি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলে স্থানলাভের প্রশ্নে মেহেদী হাসানের সাথে তাঁকে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়। জানুয়ারি, ২০১৮ সালে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট খেলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ দলে ঠাঁই পান। ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ২৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১৫৩ রান খরচায় দিলরুয়ান পেরেরা’র উইকেট লাভ করেন। তবে, মমিনুল হকের জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • |

    এভারটন মাতাম্বানাদজো

    ১৩ এপ্রিল, ১৯৭৬ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের অন্যতম উদীয়মান ফাস্ট বোলার ছিলেন। বেশ কয়েক মৌসুম উদীয়মান ক্রিকেটারদের অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। সফলতা লাভের পাশাপাশি স্পষ্টভাষীরূপেও পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমের শেষদিকে…

  • |

    ডেরেক স্টার্লিং

    ৫ অক্টোবর, ১৯৬১ তারিখে ওয়েলিংটনের আপার হাট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মোটাসোটা গড়ন নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল…

  • |

    সেলিম ইলাহী

    ২১ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে পাঞ্জাবের শাহীওয়ালে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, লাহোর ও ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • | |

    বলবিন্দর সাঁধু

    ৩ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সুপরিচিত কবি হরনাম সিং নাজের সন্তান ছিলেন। কপিল দেবকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে…

  • |

    ইয়ান চ্যাটফিল্ড

    ৩ জুলাই, ১৯৫০ তারিখে মানাওয়াতোর ডানভির্কে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সজীব বোলিং করতেন। তবে, তাঁকে সর্বদাই স্যার রিচার্ড হ্যাডলি’র সাফল্যে ম্লান হয়ে থাকতে হতো। তাসত্ত্বেও, উভয়ে নিউজিল্যান্ডের উত্তরণে বিরাট ভূমিকা রাখতেন। নিখুঁতমানের বোলিং করে ১৯৮০-এর দশকে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী…

  • | |

    চম্পকা রামানায়েকে

    ৮ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে গল ক্রিকেট ক্লাব এবং তামিল ইউনিয়ন ও…