১০ জুন, ১৯৭২ তারিখে কুরুনেগালায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কুরুনেগালা ইয়ুথ ক্রিকেট ক্লাব ও কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ২০০২ সালে চেশায়ারের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৯৫ থেকে ২০০২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ১২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে পাকিস্তান গমনার্থে শ্রীলঙ্কার ওডিআই দলের সদস্য হন। ৩ অক্টোবর, ১৯৯৫ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন।
এরপর, অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। তবে, খেলায় তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি ও পর্দার অন্তরালে চলে যান। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পূর্বে ১৯৯৯ সালে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপকে ঘিরে পুণরায় তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের দ্বিতীয় খেলায় অংশ নিতে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে রুচিরা পেরেরা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে অন্যান্য সিমারের ন্যায় তাঁকেও বেশ হিমশিম খেতে হয়। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে বেশ ভালো খেলে ২/৪১ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ১/৮৪ ও ২/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলের একমাত্র ইনিংসে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসামান্য ক্রীড়ানৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
এরপর, পেপসি কাপেও উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখেন ও বিশ্বকাপ দলে নিজ স্থান ধরে রাখেন। সিম বোলারদের উপযোগী পিচে তেমন সফলতা পাননি। ক্রমাগত বলে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হিমশিম খেতে থাকেন, নিখুঁতভাব বজায় রাখতে পারেননি। আবারও তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়।
ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় কোল্ট ক্রিকেট ক্লাবে ফিরে যান। পরবর্তীতে, ফেব্রুয়ারি, ২০০১ সালে নিউজিল্যান্ড গমনার্থে শ্রীলঙ্কার ওডিআই দলে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ফিরে আসেন। এরপর আঘাতগ্রস্ত দিলহারা ফার্নান্দো’র শূন্যতা পূরণে ২০০২ সালে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৩ জুন, ২০০২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যালেক্স টিউডরের বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে উইকেটে প্রভূত্ব কায়েম করেছেন। বেশ কয়েক মৌসুম শ্রীলঙ্কা দলে খেলেছেন। তবে, খেলায় ছন্দহীনতার কারণে দলে স্থায়ীভাবে নিজেকে তুলে ধরতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে, শ্রীলঙ্কায় পেস বোলারদের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও দলের বাইরে চলে যেতে হয়।
