৩ মার্চ, ১৮৮৮ তারিখে মিডলসেক্সের উইঞ্চমোর হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ আক্রমণাত্মক ধাঁচের অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ড দলে খেলেছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ম্যালভার্নে অধ্যয়নের পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯০৮ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দুই দশকের অধিক সময় জুড়ে মিডলসেক্স দলে শক্ত ড্রাইভের মারে ভূমিকা রেখেছিলেন। তেমন সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃতি না পেলেও লর্ডসে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে চারবার প্যাভিলিয়নে বল ফেলেছিলেন। ট্রেন্ট ব্রিজে চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে মিডলসেক্সের ৫০২/৬ তুলে দল জয়লাভকালে তিনি ১৫ বাউন্ডারির সহায়তায় ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ পর্যায়ে প্যাটসি হেনড্রেনের সাথে ১৯৫ মিনিটে শেষ ২৭১ রান তুলেছিলেন।
১৯২২ থেকে ১৯২৩ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র পাঁচটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমের শীতকালে এমসিসি দলের নেতৃত্বে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার জিলিগান, অ্যালেক্স কেনেডি, আর্থার কার ও গ্রিভিল স্টিভেন্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৪ ও ২৮* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। সফরকারীরা ১৬৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৮ জানুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৮৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ১০৯ রানে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এ সফরে দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও, কেপটাউন, ডারবান ও জোহানেসবার্গে ছক্কার ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে দর্শকদের নির্মল আনন্দ দেন। এ সফরে তাঁর দল ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করেছিল।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৩০ সালে টেস্ট দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরূপে মনোনীত হন। এছাড়াও, মিডলসেক্সের প্রেসিডেন্ট ও ক্রানবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এর পূর্বে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। স্কটস গার্ডসের কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত হন ও তিনবার গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জেপি মান ও এফজি মান নামীয় সন্তানের জনক ছিলেন। তন্মধ্যে, জর্জ মান পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মিডলসেক্স ও ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এরফলে, মিডলসেক্স কিংবা ইংল্যান্ডে পিতা-পুত্রের প্রথম অধিনায়কত্বের গৌরব অর্জন করেন। অপর পুত্র জন মান কেমব্রিজ ও মিডলসেক্সের পক্ষে প্রতিনিধিত্বসহ এটনে ছয়টি ভিন্ন ক্রীড়ায় অংশ নিয়েছিলেন। ৬ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে উইল্টশায়ারের মিল্টন-লিলবোর্ন এলাকায় আকস্মিকভাবে ৭৬ বছর ২১৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
