|

ডেভিড মারে

২৯ মে, ১৯৫০ তারিখে বার্বাডোসের মারেজ গ্যাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধতা ও মনোযোগের কারণেই নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছিলেন। দারুণ উইকেট-রক্ষক ছিলেন। যতটুকু করা সম্ভব, ঠিক ততটুকুই করেছেন। সতর্ক অবস্থান, পায়ের কারুকাজ ও বাঁধার প্রাচীর গড়ে তুলে দলে ভূমিকা রাখতেন। অনেক সময় তিনি ডেরিক মারে এমনকি জেফ ডুজনের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রেখেছিলেন। মাইকেল হোল্ডিং তাঁর দেখা অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁকে চিত্রিত করেছেন। বেশ কয়েকটি কারণে অনেকটা আগেভাগে খেলোয়াড়ী জীবন থেকে চলে আসতে বাধ্য হন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুম থেকে ১৯৮১-৮২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। কাস্ট্রিসে অনুষ্ঠিত কম্বাইন্ড লিওয়ার্ড ও উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটে। তবে, অভিষেক পর্বটি মোটেই সুবিধের হয়নি। কেবলমাত্র এক রান, একটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। কিন্তু ঐ খেলায় তিনি কোন বাই-রান দেননি। বার্বাডোসের দল নির্বাচকমণ্ডলী সন্তুষ্ট ছিলেন। শেল শীল্ডের খেলায় অংশ নিতে থাকেন। খুব শীঘ্রই দলের মূল উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পান। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে বার্বাডোসের সদস্যরূপে খেলেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট ও ১০টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে দলের অধিকাংশ সদস্য চলে গেলে ১৯৭৮ সালে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন দূর্বলতর অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশ নেন। ব্যাসিল উইলিয়ামস, আলভিন গ্রীনিজ, নরবার্ট ফিলিপ, শিবু শিবনারায়ণ ও সিলভেস্টার ক্লার্কের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২১ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তাঁর দল ৩ উইকেটে পরাজিত হলেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

জেফ ডুজন দলে ফিরে আসলেও দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে দলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এ পর্যায়ে তিনি কেবলই ব্যাটসম্যান হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমের সফরে টেস্টের এক ইনিংসে ৭ ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করে নতুন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান রেকর্ড দাঁড় করান। টেস্টগুলো থেকে ২১.৪৬ গড়ে ৬০১ রান সংগ্রহসহ ৫৭ ক্যাচ ও ৫টি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ৫০ বা ততোধিক ডিসমিসালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোর্টনি ব্রাউন ও জেরি আলেকজান্ডারের পর সেরাদের কাতারে অবস্থান করেন।

১৯৮১-৮২ মৌসুমে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ১ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ব্রুস ইয়ার্ডলি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, ব্রুস ইয়ার্ডলি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে প্রথম টেস্ট জয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৮৩ সালে দুইবার বিদ্রোহী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২২ গড়ে ৩৪৭ রান ও ৩৮ ডিসমিসাল ঘটান। সফর থেকে $১২০,০০০ মার্কিন ডলার লাভ করেছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ সফরে অংশ নেয়া পুরো দলই বোর্ড থেকে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন। এ পর্যায়ে তিনি পুরো পরিস্থিতি সামলে নিতে পারেননি। দারিদ্র্যতার মধ্যে দিনাতিপাত করতে থাকেন ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। ওজন হারান। কেবলমাত্র হাঁড় ও চামড়া দৃশ্যমান হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান রিকি হয়েট বার্বাডোসের পক্ষে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়। ২৫ নভেম্বর, ২০২২ তারিখে বার্বাডোসে ৭২ বছর ১৮০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    জন ট্রাইকোস

    ১৭ মে, ১৯৪৭ তারিখে মিশরের জাগাজিগ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় নিখুঁত অফ-স্পিনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম অপ্রত্যাশিত খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন। পিতা-মাতা গ্রীক বংশোদ্ভূত ছিলেন ও ১৯৪৮ সালে…

  • | |

    সালাহউদ্দীন

    ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের আলীগড়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বন্দর নগরী করাচীতে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ধ্রুপদী ঢংয়ে ডানহাতে অপূর্ব ড্রাইভে খেলায় অংশ নিতেন। এছাড়াও, ধীরলয়ের অফ-ব্রেক বোলিংয়ের…

  • | |

    ডিন এলগার

    ১১ জুন, ১৯৮৭ তারিখে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের ওয়েলকম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটিয়ে থাকেন। ২০০৫ সালে ফ্রি স্টেটের পক্ষে…

  • | |

    রহমত শাহ

    ৬ জুলাই, পাকতিয়া প্রদেশের জুরমত এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে কার্যকর লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলিং করে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশগ্রহণ করেছেন। আফগানিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। পাকিস্তানী ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের…

  • | |

    অ্যান্ডি গ্যানটিউম

    ২২ জানুয়ারি, ১৯২১ তারিখে ত্রিনিদাদের বেলমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আফ্রিকান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত তাঁর পিতা-মাতা। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্স

    ১৩ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে ট্রান্সভালের ভারিনিগিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আফ্রিকানারভাষী কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম হলেও রাগবি খেলোয়াড়দেরকে আদর্শনিষ্ঠ করে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। পল্লী অঞ্চলে বড় হন।…