|

প্রবীণ কুমার

২ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মীরাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সীমিত ক্ষমতা ও ত্রেতাপরস্তের সংমিশ্রণ ঘটানো হয় তাহলে তাঁকে কেউ ছাঁপিয়ে যেতে পারবে না। সাধারণমানের ভারতীয় মিডিয়াম পেসার হিসেবে খেলতেন। ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত না হলেও ভারতের চলনসই বোলার হিসেবে পরিচিতি ঘটাতে পেরেছিলেন। দূর্দান্ত পেসের সাথে নতুন বলে সুইংয়ের সক্ষমতার কারণে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।

২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এয়ার ইন্ডিয়া, গুজরাত লায়ন্স, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন।

উত্তরপ্রদেশের অন্যতম প্রধান বোলার ছিলেন। মাত্র ৪৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১৯৯ উইকেট দখল করেছেন। ২৩ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত হরিয়াণা বনাম উত্তরপ্রদেশের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের সাথে $৩০০,০০০ মার্কিন ডলারে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১০ সালে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে হ্যাট্রিক লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ২০১১ সালের নিলামে $৮০০,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের পক্ষে খেলেন।

২০০৭ থেকে ২০১২ সময়কালে ভারতের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট, ৬৮টি ওডিআই ও ১০টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৮ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে জয়পুরে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত সিবি ট্রফিতে দারুণ খেলেন। মাত্র ৪ খেলায় অংশ নিয়ে ১০ উইকেট দখল করে তাৎক্ষণিকভাবে ঝড় তুলেন। তন্মধ্যে, দুইবার চার-উইকেট নিয়ে ভারত দলকে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

বিদেশের মাটিতে উপযোগী পরিবেশে সুইং ও সিম বোলিংয়ের সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ওডিআইয়ে দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ২০১১ সালে ভারত উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার প্রাথমিক তালিকায় তাঁকে রাখা হয়। কিন্তু, কনুইয়ের আঘাতের কারণে দলের বাইরে থাকতে বাধ্য হন।

একদিনের আন্তর্জাতিকে সুন্দর খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হন। টেস্টগুলো থেকে ২৭ উইকেট দখল করে ভারতের অন্যতম সফল বোলারে পরিণত হন। ২০১১ সালে এমএস ধোনি’র অধিনায়কত্বে ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের বিশ্রামের কারণে তিনি খেলার সুযোগ পান। ২০ জুন, ২০১১ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। অভিনব মুকুন্দবিরাট কোহলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩/৩৮ ও ৩/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রাহুল দ্রাবিড়ের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে তাঁর দল তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

২০১১ সালে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরেই তিনি তাঁর একমাত্র পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব অর্জন করেন। লর্ডস টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫/১০৬ নিয়ে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেন। টসে জয়লাভের পর জহির খান বোলিংয়ে প্রারম্ভিক সাফল্য পেলেও আঘাতের কারণে মাঠ ত্যাগ করলে তাঁর উপর বোলিং আক্রমণ পরিচালনার দায়িত্ব বর্তায়। তিনি একে-একে ইয়ান বেল, ইয়ন মর্গ্যান, ম্যাট প্রায়র, স্টুয়ার্ট ব্রড ও জোনাথন ট্রটকে বিদেয় করেন। তবে, ইংল্যান্ড দল ঐ টেস্টে ১৯৬ রানে জয় তুলে নেয়।

একই সফরের ১০ আগস্ট, ২০১১ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৪২ রানে জয়লাভ করে এবং চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ২৬ ও ৪০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ২/৯৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

খেলার বাইরের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। মে, ২০০৮ সালে মীরাটে একজন চিকিৎসকের সাথে ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হন। এছাড়াও, ২০১১ সালে ইংল্যান্ড সফরকালে একদল সমর্থকের সাথে মৌখিক ও শারীরিক সংঘর্ষের দায়ে অভিযুক্ত হন। টেস্টের জন্যে তাঁকে খেলানো না হলেও ওডিআইয়ে অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ সফরে এশিয়া কাপে ভারত দলে ছিলেন। কিন্তু, দূর্বল ক্রীড়াশৈলীর কারণে তাঁকে বাদ দেয়া হয়। ২০১২ সাল থেকে তাঁকে জাতীয় দলে খেলতে দেখা যায়নি। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৪ সালের আইপিএল নিলামে কোন দলই তাঁর প্রতি আগ্রহ প্রদর্শন করেনি।

Similar Posts

  • |

    পল অ্যাডামস

    ২০ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্লামস্টিড হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৪ সালে কিশোর দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • |

    ইকবাল সিদ্দিকী

    ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার মাধ্যমে দ্রুত উত্থান ঘটে তাঁর। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • |

    পথুম নিসাঙ্কা

    ১৮ মে, ১৯৯৮ তারিখে গলেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কলম্বোভিত্তিক ইসিপাথানা কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ইনিংস উদ্বোধনে মাঠে নামেন। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাব ও নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও,…

  • | | |

    রয় ডায়াস

    ১৮ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৯ থেকে…

  • | |

    রায়ান রামদাস

    ৩ জুলাই, ১৯৮৩ তারিখে গায়ানার অগল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। ২০০০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী। পিতা রয় রামদাসের ন্যায় তিনিও এভারেস্ট ক্রিকেট ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ১১ বছর বয়সে ক্লাবে যোগ…

  • | |

    জোনাথন অ্যাগ্নিউ

    ১৪ এপ্রিল, ১৯৬০ তারিখে চেশায়ারের ম্যাকলসফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী জোনাথন অ্যাগ্নিউ ‘স্পাইরো কিংবা ‘অ্যাজার্স’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। আপিংহাম স্কুলে…