|

দিনেশ কার্তিক

১ জুন, ১৯৮৫ তারিখে তামিলনাড়ুর তিরুচেন্দার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৭০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ‘দিনেশ’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১০ বছর বয়সে ক্রিকেটে হাতে খড়ি ঘটে তাঁর। পিতার তত্ত্বাবধানে কঠোর অনুশীলন করতে থাকেন। প্রারম্ভিক বছরগুলো তামিলনাড়ুর যুব দলগুলোর পক্ষে খেলেন। এরপর থেকেই তড়তড় করে উপরের দিকে যেতে থাকেন। ১৯৯৯ সালে তামিলনাড়ুর অনূর্ধ্ব-১৪ দলে খেলেন। এক বছর পর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য হন। পরের মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে।

২০০২-০৩ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সাউথ জোন ও তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আবাহনী লিমিটেড, আলবার্ট টুটি প্যাট্রিয়টস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, গুজরাত লায়ন্স, আইসিসি বিশ্ব একাদশ, আইড্রিম কারাইকুডি কালাই, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন।

২০০৩-০৪ মৌসুমের শুরুতে রঞ্জী ট্রফির দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় দুই শতক সহযোগে ৪৩৮ রান তুলেন। তন্মধ্যে, উভয় শতকই সেমি-ফাইনাল ও চূড়ান্ত খেলায় পান। এরফলে, ২০০৪ সালে ১৯ বছর বয়সে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে দূর্দান্ত খেলেন। ২০০৯ সালে রঞ্জী ট্রফিতে তামিলনাড়ু দলের অধিনায়করূপে মনোনীত হন।

২০০৪ থেকে ২০১৯ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ২৬ টেস্ট, ৯৪টি ওডিআই ও ৩২টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৪ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০০৪ সালে মাইকেল ভনকে স্ট্যাম্পিং করার দৃশ্যটি আজও ক্রিকেট দর্শকদের মনে টিকে রয়েছে। তবে, বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতা থাকলেও পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। গৌতম গম্ভীরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১০ ও ৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, মুরালী কার্তিকের অসামান্য বোলিংনৈপুণ্যে ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ১৩ রানে জয় পেলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৮ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ১০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে পূর্বেকার সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৬ রান সংগ্রহসহ ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। হরভজন সিংয়ের অসাধারণ বোলিংয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম অংশ নেন। এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ খেলেন। প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টি২০ আন্তর্জাতিকে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও, ওডিআইয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বাধিক ১৮ বল মোকাবেলায় কোন রান তুলতে ব্যর্থ হন। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের টেস্ট সিরিজ বিজয়ে অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। কিন্তু, সুযোগের সদ্ব্যবহারে ব্যর্থ হবার ফলে ও উইকেট-রক্ষণে দূর্বলতার কারণে তাঁকে সর্বদাই আসা-যাবার পালায় থাকতে হয়।

২০১৮ সালে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৯ আগস্ট, ২০১৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ১৫৯ রানের ব্যবধানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপূর্ণাঙ্গতা থাকলেও আইপিএলে বেশ খেলেছেন। বেশ কয়েকটি দলে খেলেন। ২০০৮ সালে ২৩ বছর বয়সে আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে অভিষেক ঘটে। ২০১১ সালে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের পক্ষে $৯০০,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন। পরের মৌসুমে $২.৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে চলে যান। ২০১৫ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও ২০১৬ সালে গুজরাত লায়ন্সে খেলেন। ২০১৮ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রতিনিধিত্ব করেন। এক পর্যায়ে দলের অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরের স্থলাভিষিক্ত হন। প্লে-অফে দলকে নেতৃত্ব দিলেও পরাজিত হয়েছিল তাঁর দল।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। ২০০৭ সালে ২২ বছর বয়সে নিকিতা বাঞ্জারার সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ২০১৫ সালে স্কোয়াশ তারকা দিপীকা পল্লীকলকে বিয়ে করেন।

Similar Posts

  • |

    টনি ডি জর্জি

    ২৮ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। সপ্তম রাজা এডওয়ার্ড থেকে পড়াশুনো করেছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লায়ন্স ক্লাবের…

  • |

    ক্রিস এমপফু

    ২৭ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে মাতাবেলেল্যান্ডের প্লামট্রি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে ২০২০-২১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড, মাতাবেলেল্যান্ড, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স ও ওয়েস্টার্নসের…

  • | | |

    টিপ স্নুক

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮১ তারিখে টেম্বুল্যান্ডের সেন্ট মার্কস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে অপূর্ব দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার দলনেতার দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছিলেন। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ১৯২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে…

  • |

    ডগলাস কার

    ১৭ মার্চ, ১৮৭২ তারিখে কেন্টের ক্রানব্রুক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বার্নার্ড বোসানকুয়েতকে যদি ‘গুগলির রূপকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, তাহলে তাঁকে ‘বাস্তবায়ক’ হিসেবে পরিগণিত করা হবে। সাটন ভ্যালেন্সের পর অক্সফোর্ডের…

  • | | |

    হাবিবুল বাশার

    ১৭ আগস্ট, ১৯৭২ তারিখে কুষ্টিয়া জেলার নাগাকান্দা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-স্পিন বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ‘সুমন’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের…

  • |

    বিল এডরিচ

    ২৬ মার্চ, ১৯১৬ তারিখে নরফোকের লিংউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। নরউইচভিত্তিক ব্রাকনডেল স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মাইনর…