৩০ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ‘পিজিয়ন’ কিংবা ‘পার্নি’ ডাকনামে ভূষিত ওয়েন পারনেল গ্রে হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১২ বছর বয়সে প্রাদেশিক দলের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেন। বিদ্যালয়ের দিনগুলো অ্যাথলেট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অধ্যয়ন করেছেন। মূলতঃ পেসার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখলেও দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ফিল্ডার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। ২০০৮ সালে সিএসএ বর্ষসেরা ক্রিকেটার ও কোকা-কোলা খায়া মজোলা অনূর্ধ্ব-১৯ প্রতিযোগিতার বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন।
২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কেপ কোবরাজ, ইস্টার্ন প্রভিন্স, ওয়ারিয়র্স ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, এডমন্টন রয়্যালস, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, করাচী কিংস, পুনে ওয়ারিয়র্সের পক্ষে খেলেছেন। ২৬ অক্টোবর, ২০০৬ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন প্রভিন্স বনাম সাউথ ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট, ৬৫টি ওডিআই ও ৪০টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৩ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ৩০ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে পার্থের ওয়াকায় প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেন।
২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জানুয়ারি, ২০১০ তারিখে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। রায়ান ম্যাকলারিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০/১৮ ও ২/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ডেল স্টেইন ও মর্নে মরকেলের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭৪ রানে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
একই মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ভারত গমন করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১২ ও ২২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, হাশিম আমলা’র জোড়া শতক সত্ত্বেও সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৭ রানে পরাজয়বরণ করলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দলের মুখোমুখি হন। ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২২ রান অতিক্রম করেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে ডব্লিউইউ থারাঙ্গাকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/১৭। বল হাতে নিয়ে ২/৩৮ ও ৪/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জ্যঁ পল ডুমিনি’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১১৮ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে ব্লোমফন্তেইনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে খেলেন। খেলায় তিনি ১/৩৬ ও ১/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কাগিসো রাবাদা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৫৪ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০১২ সালে সাসেক্সের পক্ষে খেলেন। তবে, শারীরিক সুস্থতা ও ছন্দহীনতায় বাজে খেলেন। ২০১৫ সালে আঘাতের কবলে পড়েন। ২৩ অক্টোবর, ২০২০ তারিখে নতুন স্পিনারের সন্ধানে ব্যস্ত ওরচেস্টারশায়ার থেকে চলে আসেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। আয়েশা বাকের নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।
