৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘পম পম’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মারকুটে ও হার না মানার মানসিকতাসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। লেগ-সাইডে সুইপ আনয়ণেও বৈচিত্র্যতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ইংরেজ পরিবেশে নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছিলেন। অক্সফোর্ডে অবস্থানকালে তিনবার ক্রিকেটে ও একবার রাগবিতে ব্লুধারী হন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, হার্টফোর্ডশায়ার, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। এছাড়াও, ১৯৫৭ সাল থেকে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলেছিলেন। অভিষেকে ১০৯ ও অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন।
১৯৬০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবকটি টেস্টই ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৬০ সালে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সিরিজে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। ৯ জুন, ১৯৬০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। সিড ও’লিন ও জিওফ গ্রিফিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৮ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে রে ইলিওয়ার্থের শিকারে পরিণত হন। সফরকারীরা ১০০ রানে পরাজিত হলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৩ জুন, ১৯৬০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৯ ও ২৭* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৩ রানে পরাভূত হলে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
৭ জুলাই, ১৯৬০ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৯ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩১* ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৮ আগস্ট, ১৯৬০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তবে, এ সফর থেকে ৩১.৯৬ গড়ে ৮৬৩ রান ও ৩২ উইকেট দখল করেছিলেন। এরপর, আর মাত্র দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ঐ সফরের পর ফ্রি ফরেস্টার্সের সদস্যরূপে নিজের প্রাক্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে উভয় খেলায় অংশ নেন। সব মিলিয়ে ৯৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিলেও মাত্র ১৪টি খেলা দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলেছিলেন।
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে বেডফোর্ডশায়ারের লাটন ও ডানস্ট্যাবল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮১ বছর ২৩৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
