৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১০ তারিখে রোডেশিয়ার আমটালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
গ্রাহামসটাউনে এসএ স্কুলসের সদস্যরূপে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলেন। এ সফরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পার্সি হোমসের উইকেট পান। ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া ও বর্ডারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৭ বছর বয়সে ১৯২৮ সালের শুরুতে রোডেশিয়ার পক্ষে প্রথম খেলেন।
ইস্ট লন্ডনে অবস্থানকালে বর্ডারের পক্ষে একটি প্রীতি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে, ১৯৩০-৩১ মৌসুমে বুলাওয়েতে রোডেশিয়ার সদস্যরূপে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে ৫/১০৬ ও ২/৮৫ লাভ করেছিলেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে রোডেশিয়ার সদস্যরূপে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ইস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত প্রথম শতরানের সন্ধান পান। এছাড়াও, ঐ খেলায় ৩/৩৬ ও ৪/১৯ লাভ করে দলের ইনিংস বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ১ থেকে ১১ নম্বর অবস্থানে নেমে শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন।
প্রস্তুতিমূলক খেলাগুলো অনেকগুলো উইকেট লাভ করে ইংল্যান্ড সফরে স্বীয় স্থান নিশ্চিত করেন। ১৯৩৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর ১৯৩৫ সালে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৫ জুন, ১৯৩৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হার্বি ওয়েড, চাদ ল্যাংটন, ডাডলি নোর্স, এরিক রোয়ান ও বব ক্রিস্পের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি আমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এ সফরে ১৯ খেলায় অংশ নিয়ে ২৬.৫৩ গড়ে ৫২ উইকেট দখল করেন। দুইবার খেলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ৫/৭২ ও ৬/১০৫ পান। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। নিখুঁততার অভাব লক্ষ্য করা যায়। জেন বালাস্কাসের আহত হবার ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং দলীয়সঙ্গীরাও তাঁকে নিরাশ করে।
১৫ জুন, ১৯৩৫ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১০ ওভারে ০/৩৮ পান। একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ রান তুলে নিকোলসের বলে বোল্ড হন। লর্ডস টেস্টের পূর্বে জেন বালাস্কাস তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ও ইংল্যান্ডের মাটিতে দলের ঐতিহাসিক বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।
১১ জুলাই, ১৯৯৩ তারিখে নাটালের ডারবানে ৮২ বছর ৩১০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এর পূর্বে দুইবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ও দৃষ্টিশক্তি দূর্বল হয়ে পড়ে। মৃত্যুর পূর্বে ১৯৩৫ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিজয়ী দলের চারজন জীবিত সদস্যের অন্যতম ছিলেন।
