| |

নাফিস ইকবাল

৩১ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগ ও পূর্বাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির পক্ষে খেলেছেন। তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে দর্শক কোলাহলপূর্ণ অবস্থায় ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানের ভ্রাতৃষ্পুত্র তিনি। এছাড়াও, অপর ভ্রাতা তামিম ইকবাল জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে খেলছেন। তবে, নিজেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারেননি। প্রধানতঃ সীমিত পর্যায়ে স্ট্রোক খেলায় পারদর্শী ছিলেন। লেগ-সাইডের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন ও দ্রুততর বলের বিপক্ষে তাঁর দূর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। স্পিনারদের বিপক্ষে পায়ের সদ্ব্যবহারের তৎপর ছিলেন ও স্কয়ার অঞ্চলে বল ফেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। সময়ের সাথে তাল মেলাতে পারতেন না।

২০০২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে ছিলেন। পাকিস্তানে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী সফরের দ্বিতীয় প্রস্তুতিমূলক খেলায় প্রতিশ্রুতিশীলতার কথা জানান দেন। ঢাকায় বাংলাদেশের ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অল্পের জন্যে শতক থেকে বঞ্চিত হন। ইংরেজ স্পিনারের অতি সাধারণমানের বলে বিদেয় নেন। সুন্দর ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তীতে টেস্ট সিরিজ খেলার জন্যে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন। একদিনের আন্তর্জাতিক খেলার জন্যে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়।

২০০৩ থেকে ২০০৬ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্ট ও ১৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৭ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে নিজ শহর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। তবে, কোন খেলাতেই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। শক্তিধর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল মাত্র ৯৩ রানে গুটিয়ে যায়। তবে, তিনি তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ রানের ইনিংস উপহার দেন। এরফলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেয়ার জন্য তাঁকে প্রথমবারের মতো আমন্ত্রণ জানানো হয়।

২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হন। ১৯ অক্টোবর, ২০০৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কিউই বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৯ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১ রান সংগ্রহসহ খেলায় একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ৯৯ রানের ব্যবধানে পরাভূত হলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

জানুয়ারি, ২০০৫ সালে নিজ দেশে জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করেছিলেন। প্রথম টেস্টে অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে দলের প্রথম টেস্ট বিজয়ে যথাযথ ভূমিকা রাখেন। দ্বিতীয় টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২১ রানের মহামূল্যবান ইনিংস খেলে দলকে নিশ্চিত পরাজয়ের কবল থেকে দলকে রক্ষা করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। এরফলে, বাংলাদেশ দলের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। এরপূর্বে, চট্টগ্রামে ৫৬ রান তুলে ঐতিহাসিক বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

একই দলের বিপক্ষে পাঁচ-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও স্বাগতিক দল ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।

তবে, ধারাবাহিকতাহীন খেলা উপহার দেয়ায় দল থেকে স্থানচ্যূত হন। এপ্রিল, ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দলে ফেরার সুযোগ পাননি। এক বছর ওডিআই দলের বাইরে ছিলেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন।

২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দলের মুখোমুখি হন। ৮ মার্চ, ২০০৬ তারিখে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৬ ও ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। উপুল থারাঙ্গা’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে সফরকারী দল ১০ উইকেটে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ২০১৬ সালে খুলনা টাইটান্সের দলীয় ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন।

Similar Posts

  • | |

    ডগলাস জার্ডিন

    ২৩ অক্টোবর, ১৯০০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মালাবার হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ও নিজের সময়কালে শীর্ষস্থানীয় শৌখিন ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি পান। ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ বিতর্কের মূল হোতা হিসেবে ক্রিকেটের খলনায়ক হিসেবে বৈশ্বিকভাবে পরিগণিত হয়ে আসছেন। শারীরিক…

  • |

    ডেনিস টমলিনসন

    ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১০ তারিখে রোডেশিয়ার আমটালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। গ্রাহামসটাউনে এসএ স্কুলসের সদস্যরূপে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলেন। এ সফরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পার্সি হোমসের উইকেট পান।…

  • |

    আর্নি জোন্স

    ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৯ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অবার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাথরখোঁদাইকারক যোসেফ জোন্স ও মেরি দম্পতির পুত্র ছিলেন। স্থানীয় বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন পিতার সাথে চিত্রকর ও রাজমিস্ত্রী হিসেবে কুর্ন ও ব্রোকেন হিল এলাকায় সরকারী কাজে…

  • |

    বিল ব্রাডলি

    ২ জানুয়ারি, ১৮৭৫ তারিখে লন্ডনের সিডেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। এলিয়েন্স স্কুল একাদশের অধিনায়কত্ব করেছেন। তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল মিচামে লয়েড রেজিস্টারের পক্ষে ৬…

  • | | | |

    নজর মোহাম্মদ

    ৫ মার্চ, ১৯২১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, আম্পায়ার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে…

  • |

    জাহিদ ফজল

    ১০ নভেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে গুজরানওয়ালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, লাহোর,…