২৭ অক্টোবর, ১৯২৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের বরোদা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রঞ্জী ট্রফিতে বরোদা দলের প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত দলটিতে খেলেন। ৪৭.৫৬ গড়ে চৌদ্দ শতক সহযোগে ৩১৩৯ রান পেয়েছেন। তন্মধ্যে, ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৯৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়াও অপর দুইটি দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে গুজরাতের বিপক্ষে ১২৮ ও ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস রয়েছে তাঁর।
রক্ষণভাগ চমৎকারভাবে সামলে নেয়ার ন্যায় গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন ও সপাটে ড্রাইভ মারতেন। এছাড়াও, বিস্ময়কর ফিল্ডার হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। কিন্তু, তিনি কখনও ভারতের মাঝারীসারিতে স্থায়ী আসন গাড়তে পারেননি। অংশুমান গায়কোয়াড়ের পিতা ছিলেন।
১৯৫২ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ৫ জুন, ১৯৫২ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন। ৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ৭ উইকেটে পরাজিত হয় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই মাঝারিসারিতে ভিত্তি আনেন। ১৯৫৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯৫৯ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে পাকিস্তান ও ১৯৫৮-৫৮ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হন। তবে, আত্মবিশ্বাসের অভাবে খুব কমই দলে ভূমিকা রেখেছিলেন।
১৯৫৯ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। দলের শোচনীয় ফলাফলের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। ২৩ জুলাই, ১৯৫৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ০ রান সংগ্রহের পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিক দল ১৭১ রানে জয় তুলে নেয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
তবে তিনি সুচারূরূপে দলকে পরিচালনা করতে পারেননি ও প্রকৃত মানসম্পন্ন নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেননি। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই ভারত দল পরাজিত হয়েছিল। এমনকি প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোও এ বৃত্তের বাইরে ছিল না। তবে, ব্যক্তিগতভাবে এ সফরে ভালো খেলেছিলেন। ৩৪.৫২ গড়ে ১১৭৪ রান পেয়েছিলেন। কিন্তু, টেস্টগুলোয় খুব কমই সফল হয়েছিলেন।
১৯৫৯ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৫২ রান তুলেন। সামগ্রীকভাবে তাঁর টেস্ট রেকর্ড তেমন সুবিধের ছিল না। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে নিজ দেশে ফজল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসে ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ০-০ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এডি গায়কোয়াড় নামীয় সন্তানের জনক। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে গুজরাতের বরোদরায় ৯৫ বছর ১০৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
