|

অশোক গন্দোত্রা

২৪ নভেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে রিও ডি জেনেরিওতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রতিভাবান বামহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। পাঁচ ফুট পৌণে সাত ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। বামহাতি স্পিনার হিসেবে বলকে উভয়দিক দিয়েই বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম থেকে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা ও দিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ভারতে ফিরে বিদ্যালয় ক্রিকেটে তারকা ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি ঘটান। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমের কোচবিহার ট্রফিতে সেন্ট্রাল জোন স্কুলসের পক্ষে ৪/৬ বোলিং করে খ্যাতির শীর্ষে আরোহণ করেন। এরপর, ব্যাট ও বল হাতে নিয়ে ৫৮ ও ৫/৩১, ৮৩, ও ৩/১৬ পান। ফলশ্রুতিতে, ভারতের বিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমনের সুযোগ পান। দুই খেলায় অংশ নিয়ে ৯ উইকেট লাভের পাশাপাশি ৫৩ ও ১৫৮ রান তুলেন।

১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে দিলীপ ট্রফির সেমি-ফাইনালে সেরা মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। হুজ হু অব বোম্বের বিপক্ষে ৫১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। সাউথ জোনের সদস্যরূপে ভাগবত চন্দ্রশেখরশ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবনের ন্যায় তারকা বোলারদের রুখে দিয়ে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর, সফররত নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের বিপক্ষে ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিজের সদস্যরূপে ৩২ ও ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে, ভারতের টেস্ট দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৯৬৯ সালে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৫ অক্টোবর, ১৯৬৯ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একনাথ সোলকারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, ব্রাজিলে জন্মগ্রহণকারী একমাত্র ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা পান। ভারতের সংগ্রহ ২১/৫ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। ১৮ রানে বিদেয় নেয়াকালীন দলের সংগ্রহ ৪৬/৮ হয় ও ভারত দল ৮৯ রান তুলতে সক্ষম হয়। ৭৬/৭ থাকাকালে বৃষ্টির কারণে খেলাটি পরিত্যক্ত হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ১৫ রান তুলেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্রয়ে পরিণত হয়। এরপর দল থেকে বাদ পড়েন।

এক মাস পর ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৫ নভেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১৩ ও ৮ রান তুলেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

পরের টেস্টে তাঁকে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের মর্যাদা দেয়া হয়। কিন্তু, খেলা থেকে দূরে থেকে রোড স্কলারশিপের স্বাক্ষাৎকারে অংশ নেন। প্রতিভাবান শিক্ষার্থী ছিলেন। দিল্লির মর্যাদাসম্পন্ন সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে এমএ (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন।

৫৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৯ গড়ে ২১২১ রান ও বামহাতে স্পিন বোলিং করে ২৭ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেন। মনসুর আলী খান পতৌদি, বিষেন সিং বেদী প্রমূখ তাঁর মাঝে দূর্লভ প্রতিভার ছায়া লক্ষ্য করেছিলেন। তবে, পরিসংখ্যানে এর প্রতিফলন ঘটেনি। ফলশ্রুতিতে, ২৭ বছর বয়সে শিক্ষাজগতে মনোনিবেশ ঘটানোর উদ্দেশ্যে ক্রিকেট জগৎকে বিদেয় জানান।

ব্যবসা পরিচালনার লক্ষ্যে কলকাতায় চলে যান। বাংলা দলের পক্ষে রঞ্জী ট্রফিতে অংশ নেন। বিহারের বিপক্ষে ১০৭ রান তুলে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। তবে, বোম্বের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলার প্রথম ইনিংসে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিক্রম করেন। দলের সংগ্রহ ১৩৩/৩ থাকাকালীন মাঠে নামেন ও ৯১ রান তুলে নবম খেলোয়াড় হিসেবে বিদেয় নেন। দুই বছর পর দিল্লিতে ফিরে যান ও সর্বশেষ এক মৌসুম খেলেন। অবসর গ্রহণের পর কলকাতায় নিবাস গড়েন। চায়ের ব্যবসায় মনোনিবেশ ঘটান। শহরের অন্যতম চাখোর হিসেবে পরিচিতি পান।

Similar Posts

  • |

    আনোয়ার হোসেন

    ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘পিজু’ ডাকনামে পরিচিতি পেয়েছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা মেট্রোপলিসের পক্ষে খেলেছেন।…

  • |

    ডেভিড সিউয়েল

    ২০ অক্টোবর, ১৯৭৭ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বামহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর পক্ষাবলম্বন করেছেন। ২১৮টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভের পাশাপাশি লিস্ট-এ ক্রিকেটে ২৫টি উইকেট…

  • |

    ভাগবত চন্দ্রশেখর

    ১৭ মে, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কর্ণাটকের মহীশূরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সে ডানহাতে পোলিওতে আক্রান্ত হন। তিন মাস তাঁকে হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়। এ পঙ্গুত্বের ফলে তাঁর বাহু অতি নমনীয় পর্যায়ে…

  • | | |

    জিওফ হাওয়ার্থ

    ২৯ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অপর ভ্রাতা হ্যাডলি হাওয়ার্থ নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সরব ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে…

  • | |

    ডিক পাওয়ার

    ১৯ এপ্রিল, ১৮৬৫ তারিখে লিচেস্টারের হাম্বারস্টোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৬ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। বেশ উচ্চ ভঙ্গীমায় মিডিয়াম-পেস…

  • | |

    মাখায়া এনটিনি

    ৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের এমডিঙ্গি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘জর্জ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে তাঁর বোলিংয়ের সক্ষমতা ও অনবদ্য ভঙ্গীমায় নিজের পরিচিতি ঘটান। ১৫ বছর বয়সে…