২৯ অক্টোবর, ১৮৭০ তারিখে তাসমানিয়ার হোবার্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আইনজীবী ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
জর্জ ইডি ও জেন সারাহ দম্পতির সন্তান ছিলেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী চার্লস ইডি এফ. ডব্লিউ. নরম্যান্স ডারওয়েন্ট স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৩ বছর বয়সে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। পরের বছর ক্রিকেট খেলায় মনোনিবেশ ঘটান। কিশোর দল লেফরয় ক্লাবের পক্ষে খেলেন। ১৮৯০ সালে ব্রেক ও’ডে ক্লাবে যোগ দেন। ‘জেনিয়াল জায়ান্ট’ নামে পরিচিতি পান। বেশ বড়সড় শারীরিক গড়ন ছিল তাঁর।
১৮৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ১৯০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৫ সালের শুরুতে হোবার্টে তাসমানিয়ার সদস্যরূপে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম খেলেন। প্রথম অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের উভয় ইনিংসে শতক হাঁকান। ১১৬ ও ১১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। এ সাফল্য সংশ্লিষ্টদের নজর কাড়ে। তবে, বোলার হিসেবে দলে জায়গা পান। তিন সপ্তাহ নিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ইনিংস খেলেন। এরফলে, সর্বকালের সেরাদের তালিকায় নিজেকে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে যান।
১৮৯৬ থেকে ১৯০২ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৬ সালে জি. এইচ. এস ট্রটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে বেশ ঠাণ্ডার কবলে পড়াসহ ছোটাখাটো আঘাতের কবলে পড়েন। এছাড়াও, ছন্দ খুঁজে পাননি। তাসত্ত্বেও, কয়েকটি ইংরেজ কাউন্টি দল তাঁর দিকে আকৃষ্ট হয়; কিন্তু, তাতে তিনি সাড়া দেননি। ২২ জুন, ১৮৯৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্লেম হিল ও জেমস কেলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩/৫৮ ও ১/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১০* ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯০২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৩০ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৫ ও ৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৩২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯০৮ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বেই ১৮৯০ সাল থেকে প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন। ১৯২৬ সালে তাসমানিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। আমৃত্যু এ দায়িত্বে ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ২২ অক্টোবর, ১৯০৩ তারিখে ফ্লোরেন্স ইসোবেল নাম্নী এক রমণীকে ব্যাটারি পয়েন্টের সেন্ট জর্জেস অ্যাংলিকান চার্চে বিয়ে করেন। ২০ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ তারিখে তাসমানিয়ার হোবার্টে ৭৫ বছর ৫২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।
