| | |

জন ইনভেরারিটি

৩১ জানুয়ারি, ১৯৪৪ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৬২-৬৩ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৭৮ সময়কালে ১৬ বছর ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে চিত্রিত হন।

১৯৭৯ সালে শিক্ষাগ্রহণকল্পে অ্যাডিলেডে চলে যান। এ পর্যায়ে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বাধিক ৫৩ খেলায় অধিনায়কত্ব, সর্বাধিক ১১৯ খেলায় অংশগ্রহণ, সর্বাধিক ৭৬০৭ রান, সর্বাধিক ২০ শতক ও সর্বাধিক ১৫৫ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। শেফিল্ড শীল্ডে পাঁচ বছরের মধ্যে চারবার ও সীমিত-ওভারের প্রতিযোগিতায় দুইবার নেতৃত্ব দেন।

১৯৬৮ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সব মিলিয়ে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৮ সালে ব্যারি জার্মনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুলাই, ১৯৬৮ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৮ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিকরা পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২২ আগস্ট, ১৯৬৮ তারিখে ওভাল টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

১৯৭২ সালে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ আগস্ট, ১৯৭২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ১/১৯ ও ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

শেফিল্ড শীল্ডে ক্রমাগত রান সংগ্রহ করে গেছেন। আরও ছয় মৌসুম সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার পর ১৯৮৫ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ পর্যায়ে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ৯৩৪১ রান তুলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সব মিলিয়ে ৩৬ গড়ে ২৬ শতক সহযোগে রান তুলেছেন। এছাড়াও, ৩০.৭০ গড়ে ২২১ উইকেট দখল করেছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। এক পর্যায়ে প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। ক্রিকেটারের তুলনায় দল নির্বাচক হিসেবেই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ২০১১ সালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণাঙ্গকালীন দল নির্বাচক হিসেবে মনোনীত হন। আড়াই বছর অস্ট্রেলিয়ার দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর ২ মে, ২০১৪ তারিখে অব্যাহতি নেন ও তাঁর পরিবর্তে রড মার্শকে এ দায়িত্বে মনোনয়ন দেয়া হয়। এ সময়ে অস্ট্রেলিয়া দল টেস্ট ও ওডিআই – উভয় স্তরের ক্রিকেটে আইসিসি র‍্যাঙ্কিং প্রথায় শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছিল। এমবিই উপাধীতে ভূষিত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর কন্যা অ্যালিসন অলিম্পিকে উচ্চ লম্ফ বিষয়ে অংশ নিয়েছিল। পিতা এম ইনভেরারিটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

Similar Posts

  • |

    আরশাদ খান

    ২২ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মূখ্যতঃ দুইটি কারণে নিজেকে অফ-স্পিনারের মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে পারেননি। প্রথমতঃ পেশাওয়ার থেকে এসেছেন ও এলাকাটি ফাস্ট বোলারদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয়তঃ অন্যদের…

  • | |

    ভরত অরুণ

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৬২ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়াবাদা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন মিডিয়াম-পেস বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর মারকুটে ব্যাটিং করতে পারতেন। আশির দশকে বেশ কয়েকজন উদীয়মান খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে…

  • |

    আমির হামজা

    ১৫ আগস্ট, ১৯৯১ তারিখে নানাগড়হর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হার্শেল গিবসের একনিষ্ঠ ভক্ত। তবে, বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই নিউজিল্যান্ডীয় তারকা ক্রিকেটার ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অনুরূপ। কুয়েতে অনুষ্ঠিত এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ কাপ এলিটের সেমি-ফাইনালে…

  • |

    চার্লি টার্নার

    ১৬ নভেম্বর, ১৮৬২ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বাথহার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। চার্লস বায়াস টার্ন ও মেরি অ্যান দম্পতির সন্তান ছিলেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। বাথহার্স্ট…

  • | |

    হেনরি ওলোঙ্গা

    ৩ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে জাম্বিয়ার লুসাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কেনীয় পিতা ও জাম্বীয় মাতার সন্তান। কিশোর অবস্থাতেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে জড়িয়ে পড়েন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড, ম্যাশোনাল্যান্ড ‘এ’ ও…

  • | | |

    কিথ অ্যান্ড্রু

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯২৯ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওল্ডহামের গ্রীনাক্রেস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়েও দক্ষ ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের…