৮ মার্চ, ১৯৪৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কিউ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘বিটল’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১.৮২ মিটার ও ৭৩ কেজি ওজনের অধিকারী ছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা করেন ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে। এরপর, ১৯৭১-৭২ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। এ পর্যায়ে ১৯৭১-৭২, ১৯৭২-৭৩ ও ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমের শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। তারপর নিউ সাউথ ওয়েলসে যোগ দেন। এরফলে, খুব স্বল্পসংখ্যক খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে শেফিল্ড শীল্ড প্রতিযোগিতায় তিনটি রাজ্য দলের পক্ষে খেলার কৃতিত্বের অধিকারী হন।
১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ইয়ান চ্যাপেলের প্রথম বিদেশ সফরে এক কক্ষে অবস্থান করেছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টে অর্ধ-শতক হাঁকান। পরবর্তীতে এটিই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বোচ্চ সংগ্রহ হিসেবে চিত্রিত হয়ে পড়ে। তবে, প্রথম টেস্টেই আঘাতের কবলে পড়েন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
জোহানেসবার্গের চতুর্থ টেস্টে পুণরায় দলে ফিরে আসেন। ব্যক্তিগত সেরা ২/৬৭ লাভ করেন। ব্যাট হাতে নিয়েও সফলতা পাননি। ঐ সিরিজে তাঁর দল পরাজিত হয়েছিল।
১৯৭১-৭২ মৌসুমে টনি গ্রেগের ফুল টস প্রকৃতির বল তাঁর নাকে প্রচণ্ড বেগে আঘাত হানে। জীবন বেশ হুমকির মুখে পড়ে। হাসপাতালে তাঁর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছিল। ২০ লিটার রক্তের প্রয়োজন পড়ে। তবে, চিকিৎসকের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে তিনি খেলার জগৎ থেকে দূরে সড়ে যাননি। কয়েক সপ্তাহ পরই অবশ্য খেলার জগতে ফিরে আসেন। অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরে আসার পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলতে থাকেন।
১৯৭২ সালে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১০ আগস্ট, ১৯৭২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১/২৩ ও ১/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৩ ও ৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে জিওফ আর্নল্ডের শিকারে পরিণত হন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয় পেলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। একই সফরের ২৪ আগস্ট, ১৯৭২ তারিখে ম্যানচেস্টারে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
আঘাতে জর্জড়িত খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৬৭৪ রান ও ১৮৬ উইকেট দখল করেছেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলে দক্ষ ছিলেন। মেলবোর্নের পক্ষে খেলেছেন। এছাড়াও, খেলোয়াড়ী জীবন শেষে স্থপতি হিসেবে বেশ সফলতম জীবন অতিবাহিত করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জেন নাম্নী এক রমণী এবং লরা ও লুইসা নাম্নী দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। অতঃপর, ২৪ এপ্রিল, ২০২০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিজ শহর বুরাডু এলাকায় ৭৫ বছর ৪৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
